১৮ মার্চ, ২০১৭

‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে’


আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ (গ্লোবাল ফেনোমেনন) বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে ডিস্টার্ব করে স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) মিলনায়তনে জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতির (নাটাব) বার্ষিক যক্ষ্মা সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, দেড় বছর পর জাতীয় নির্বাচন। এ ধরনের হামলা নির্বাচনের অন্তরায়। এখানে দল-মত খণ্ডিত চিন্তা করে লাভ নেই। আমরা ভিন্ন ভিন্ন দল করি, কিন্তু দেশটা আমাদের সবার। দেশ যদি ঠিক না থাকে, অস্থিরতা, নাশকতা হয়, তাহলে আপনি-আমি কেউ নিরাপদ নয়।
সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ দেশের সুষ্ঠু পরিবেশের অন্তরায় জানিয়ে তিনি বলেন, এটা জাতির জন্য চ্যালেঞ্জ। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে অপশক্তিকে আমাদের সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করতে হবে। আমরা বীরের জাতি, পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করেছি। বিশ্বাস করি এ অপশক্তিকেও আমরা পরাজিত করবো।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের প্রতি হুমকি স্বরূপ। কোনো দলের বিষয় না, দেশের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে সফল অভিযানের কারণে জঙ্গিরা তাদের টার্গেট করছে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রথমে চান্দিনা, এরপর ফেনী, সীতাকুণ্ডু হয়ে আশকোনায় আমাদের এলিট ফোর্স র্যা বের ওপর আত্মঘাতী হামলা করেছে। তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা করে মনোবল ভেঙে দিয়ে বাংলাদেশে একটি স্থিতিহীন পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়।
তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য হলি আর্টিজানে উগ্রবাদী হামলায় মেট্রোরেলে সাতজন জাপানি পরামর্শকের রক্তাক্ত বিদায় হয়। এতে প্রায় পাঁচ মাস মেট্রোরেলের গতি ঝিমিয়ে পড়ে। এ ধরনের হামলায় আমাদের দেশের মানুষের উপর যতটা না প্রভাব পড়ে, তার চেয়ে বেশি হয় বিদেশিরা যখন তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়। যে কারণে মেট্রোরেলের মত একটা প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, যক্ষ্মা আমাদের জন্য অব্যশই চ্যালেঞ্জ। এটা নির্মূল করা কঠিন কিন্তু নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু এটা নির্মূলের পরিবেশ এখন আমাদের তৈরি করতে হবে। যদি দেশে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করে বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে যাবে। তিনি বলেন, একটি হলি আর্টিজান ঢাকার চেহারায় পাল্টে দিয়েছে। গুলশানসহ সব মার্কেটের অবস্থা ভূতুড়ে হয়ে গিয়েছিল। আমাদের জীবনের ওপর প্রভাব পড়েছিল।
তিনি আরও বলেন, উগ্রবাদীরা মাঝে কিছু সময় বিরতিতে ছিল। তখন আমিসহ অনেকেই বলেছিলাম তারা ওপরে বিরতি কিন্তু ভেতরে আরও বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা এখন আমাদের স্বাধীনতার মাসকে বেছে নিয়েছে।
জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতির সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টুর সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, হেল্প সার্ভিসের ডিরেক্টর জেনারেল আবুল কালাম আজাদ, একমি ল্যাবরেটরির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিনহা, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খায়ের উদ্দিন আহমেদ মুকুল প্রমুখ।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: