৫ মার্চ, ২০১৭

ভারতের জাল নোট তৈরিতে বাংলাদেশি কাগজ


ভারতে সম্প্রতি নতুন ২ হাজার রূপি মূল্যমানের কিছু জাল নোট আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর জাল নোটগুলো পরীক্ষা করে তারা জানতে পারে এর বেশ কিছু যে কাগজ দিয়ে তৈরি হয়েছে তা বাংলাদেশ থেকে এসেছে। তাদের দাবি, বাংলাদেশে টাকা তৈরিতে যে বিশেষ কাগজ ব্যবহার করা হয়, ভারতীয় জাল নোটে সেগুলোই ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে ভারত। শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে তারা আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। বলা হচ্ছে, জাল নোটে যে কাগজ পাওয়া গেছে তা বাংলাদেশের রাজস্বখাতে ব্যবহার করা হয়। এই বিশেষ কাগজ বাংলাদেশের সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রেস অর্থাৎ বিজি প্রেস থেকে পাচার হয়েছে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।
সম্প্রতি ভারতের ২টি এলাকা থেকে এমন ৩টি জাল নোট আটক করা হয়। এর একটি মালদায় এবং অপর দুটি কলকাতায় পাওয়া যায়। এরপর তদন্তে বেরিয়ে আসে বাংলাদেশে ব্যবহৃত বিশেষ পার্চমেন্ট কাগজ দিয়ে জাল নোটগুলো ছাপানো হয়েছে। ফলে জাল হলেও নোটগুলো দেখতে নিখুঁত বলেই মনে হয়।
ভারতের নিরাপত্তা সংস্থার ধারণা, বিজি প্রেসের কিছু অসাধু কর্মচারীর মাধ্যমে কাগজগুলো বাইরে আনা হয়েছে। কেননা, সরকারের রাজস্বখাতের ব্যবহৃত মালামাল সাধারণ মানুষের নাগালে থাকে না। এগুলো বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়। এসব কাগজ দিয়ে শুধু অর্থই নয়, দলিল লেখনের মত রাজস্ব সম্পর্কিত কাজেও ব্যবহার করা হয়। তবে সেসবের হিসেব বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে থাকে।
প্রাথমিক তদন্তে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, কাগজগুলো সম্ভবত গত বছরের নভেম্বরে সীমান্ত পথে ভারতে পাচার হয়। অবশ্য তদন্ত এখনও চলছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার এক শীর্ষকর্তা। শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।
গোয়েন্দা তথ্যগুলো বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড কর্তৃপক্ষকে এরই মধ্যে অবহিত করেছে ভারত। তাদের কাছে তথ্য আছে, নোট জালের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই করাচিতে বিশেষ আধুনিক ছাপাখানাও বানিয়েছে। তাদের সন্দেহ ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তান দূতাবাসের কিছু ব্যক্তি বিষয়টিতে জড়িত থাকতে পারেন।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, কূটনৈতিক সুবিধা নিয়ে তারা বাংলাদেশ থেকে কাগজগুলো পাকিস্তানে নিয়ে যাচ্ছে। কাগজ পাচারে তারা আকাশপথও ব্যবহার করে থাকতে পারে বলে সন্দেহ ভারতের।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: