১১ ফেব, ২০১৭

বাংলাদেশের প্রথম উইকেটের পতন


হায়দরাবাদ টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড় গড়েছে ভারত।
স্কোর: বাংলাদেশ ৩৮/১
ব্যাটিং: তামিম ইকবাল (২২) ও মুমিনুল হক (০)
আউট: সৌম্য সরকার (১৫)
ভারত: ৬৮৭/৬ (ডিক্লে.)
অপরাজিত: রবীন্দ্র জাদেজা (৬০), ঋদ্ধিমান সাহা (১০৬)
আউট: রবিচন্দ্রনঅশ্বিন (৩৪), বিরাট কোহলি (২০৪), আজিঙ্কা রাহানে (৮২), মুরালি বিজয় (১০৮), লোকেশ রাহুল (২), চেতেশ্বর পূজারা (৮৩)
বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের সর্বোচ্চ সংগ্রহ: ৬ উইকেটে ৬৮৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করল ভারত। ১৬৬ ওভারে এ রান করেছে টিম ইন্ডিয়া। ৪.১৩ গড়ে এ রান করেছে স্বাগতিক দল। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি ভারতের সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০০৭ সালে ঢাকায় ৩ উইকেটে ৬১০ রান করেছিল রাহুল দ্রাবিড়ের ভারত। ভারতের তিন ব্যাটসম্যান পেয়েছেন সেঞ্চুরির স্বাদ। এদের মধ্যে বিরাট কোহলি সেঞ্চুরিকে ডাবলে রূপ দিয়েছেন। সর্বোচ্চ ২০৪ রান করেছেন তিনি। বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম।
সাহার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি: তাইজুলের বলে ছক্কা মেরে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ঋদ্ধিমান সাহা। ৮৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা সাহা সেঞ্চুরি পূরণ করেন ১৫৩ বলে। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পেয়েছিলেন প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ। ৪ রানে মুশফিক সাহার সহজ স্ট্যাম্পিং মিস করেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাননি বাংলার উইকেট রক্ষক এ ব্যাটসম্যান।
জাদেজার হাফ-সেঞ্চুরি: তাইজুলের বলে মিড উইকেটে ছক্কা মেরে ৪৩ থেকে ৪৯ রানে পৌঁছলেন রবীন্দ্রর জাদেজা। পরের বলে স্কয়ার লেগে বল পাঠিয়ে এক রান নিয়ে ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান। ৬৮ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ল্যান্ডমার্কে পৌঁছান জাদেজা। ৪০ রানে লং অফে তামিমের হাতে জীবন পেয়েছিলেন তিনি।
চা-বিরতি: মধ্যাহ্ন বিরতির পর চা-বিরতি পর্যন্ত ৪.৪৭ গড়ে রান তুলেছে ভারত। এসময়ে ৩২ ওভার খেলেছে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। রান পেয়েছে ১৪৩। বাংলাদেশ এ সেশনে ২টি উইকেট পেয়েছে। বিরাট কোহলিকে তাইজুল ইসলাম এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে আউট করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
সাহার হাফ-সেঞ্চুরি: ইনজুরি থেকে ফিরে এসে ব্যাট হাতে দ্যূতি ছড়ালেন ঋদ্ধিমান সাহা। বাংলার এ ক্রিকেটার ক্যারিয়ার পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। ৮৬ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ল্যান্ডমার্কে পৌঁছেছেন সাহা।
সাজঘরে অশ্বিন: রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৩৪ রানে স্লিপে ক্যাচ দেন মেহেদী হাসান মিরাজের বলে। দ্বিতীয় দিন এটি মিরাজের প্রথম সাফল্য। প্রথম দিন মিরাজের বলে আউট হয়েছিলেন চেতেশ্বর পূজারা।
তাইজুলের শিকার কোহলি: ভালো বোলিংয়ের পুরস্কার পেলেন তাইজুল ইসলাম। ধারাবাহিকভাবে এক জায়গায় বল করে যাচ্ছিলেন বাঁহাতি এ স্পিনার। পুরস্কার হিসেবে পেলেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলির উইকেট। তাইজুলের বলে কাট করতে গিয়েছিলেন ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া কোহলি। কিন্তু বল কিছুটা নিচু হয়ে কোহলির প্যাডে আঘাত করে। আম্পায়ার আঙুল তুলতে ভুল করেননি। বিরাট কোহলির ম্যারাথন ইনিংসটি থামে ২০৪ রানে। ২৪৬ বলে ২৪ চারে কোহলি তার ইনিংসটি সাজান।
কোহলির ডাবল সেঞ্চুরি: তাইজুলের হাওয়ায় ভাসানো বল ঠিকমত টাইমিং করতে পারলেন না বিরাট কোহলি। কিন্তু বল চলে গেল এক্সট্রা কভার দিয়ে মাঠের বাইরে। ১৯৯ রানে থাকা কোহলি পৌঁছে গেলেন ২০৩ এ। চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন কোহলি। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে কোহলি টানা চার টেস্ট সিরিজে চারটি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর রেকর্ড গড়লেন। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সিরিজে ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংস খেলেন ভারতের অধিনায়ক। স্যার ডন ব্র্যাডম্যান ও রাহুল দ্রাবিড় টানা তিন টেস্ট সিরিজে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন।
মুশফিকের স্ট্যাম্পিং মিস: এমনিতেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা কোনো সুযোগ দিচ্ছেন না। ভুলেও যদি সুযোগ দিয়ে থাকেন সেটাও কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ! ৪ রানে থাকা ঋদ্ধিমান সাহা তাইজুল ইসলামের বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে বল মিস করেন। বল গেল মুশফিকুর রহিমের হাতে। কিন্তু স্ট্যাম্প ভাঙতে পারলেন না টাইগার দলপতি। প্রথমবারে পারেননি, দ্বিতীয়বারে স্ট্যাম্প ভাঙলেও ততক্ষণে ঋদ্ধিমান সাহা ক্রিজের ভিতরে।
রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন কোহলি: মিরাজের বল খানিকটা টার্ণ করে বিরাট কোহলির প্যাডে আঘাত করল। মিরাজের আবেদনে আঙুল তুলে দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের আম্পায়ার জোয়েল উইলসন। ১৮০ রানে থাকা কোহলি রিভিউয়ের আবেদন করলেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, বলের সঙ্গে ব্যাটের কোনো সংযোগ ছিল না। বলের ইম্প্যাক্টও ভিতরে ছিল। কিন্তু বাড়তি টার্ণে বল লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যেত।
উড়ন্ত মিরাজের দূর্দান্ত ক্যাচ: তাইজুলের হাওয়ায় ভাসানো বল ড্রাইভ করেছিলেন ৮২ রান করা আজিঙ্কা রাহানে। বল চলে গেল শর্ট লেগে। একটু দূরে দাঁড়ানো মিরাজ বামদিকে ঝাঁপিয়ে বাঁহাতে বল তালুবন্দি করলেন। অবাক চোখে তাকিয়ে রইলেন রাহানে, বিরাট। উড়ন্ত মিরাজের দূর্দান্ত ক্যাচে থামল দুজনের ২২২ রানের জুটি। তাইজুলের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হলেন রাহানে।
‘ডাবল সেঞ্চুরি’: বিরাট কোহলি ও আজিঙ্কা রাহানে চতুর্থ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন দুইশ’ রানের জুটি গড়েছেন। এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যান স্কোরবোর্ডে ২০৯ রান জমা করেছেন।
কোহলির বিশ্বরেকর্ড: এক মৌসুমে সর্বাধিক টেস্ট রানের রেকর্ডটি এখন ভারতের টেস্ট অধিনায়ক বিরাট কোহলি। চলতি মৌসুমে ৯ ম্যাচে ১১৩২ রান করেছেন কোহলি। শীর্ষে উঠতে কোহলি পিছনে ফেলেছেন বীরন্দ্র শেবাগকে। ২০০৪-০৫ মৌসুমে ৯ ম্যাচে ১১০৫ রান করেছিলেন ভারতের প্রাক্তন এ ওপেনার।
কোহলির দেড়শ: ১৭০ বলে ১৫০ রানের স্বাদ পেলেন কোহলি। ওয়ানডে স্ট্যাইলে ব্যাটিং করছেন ভারতের অধিনায়ক। তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো বিরাট কোহলি তৃতীয়বারের মত দেড়শ রান অতিক্রম করলেন।
রাহানের হাফ-সেঞ্চুরি: ইনজুরি থেকে ফিরে এসে হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পেলেন আজিঙ্কা রাহানে। সাকিবের ফুলটস বল মিড উইকেটে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ক্যারিয়ারের দশম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান।
প্রথম দিন ভারতের: হায়দরাবাদে প্রথম দিনটি ছিল ভারতের। ওভারপ্রতি ৩.৯৫ গড়ে রান করেছেন ভারতের ব্যাটসম্যানরা। বাংলাদেশের আটঁসাঁট বোলিং কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।
কোথায় থামবেন কোহলি? দ্যূতি ছড়িয়ে প্রথম দিন ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন বিরাট কোহলি। প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্বের অন্যতম সেরা এ ব্যাটসম্যান কোথায় গিয়ে থামবেন? গতবছর টেস্টে চারটি সেঞ্চুরি করে তিনটিকেই ডাবলে রূপ দিয়েছিলেন কোহলি। এ বছরের প্রথম সেঞ্চুরিটিকে আজ ডাবলে পরিণত করেন কিনা, সেটাই এখন দেখার!
সাকিবের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ: প্রথম দিন বোলিংয়ে বেশি সুবিধা করতে পারেননি সাকিব আল হাসান। ১৩ ওভারে ৪৫ রান খরচ করে ছিলেন উইকেটশূণ্য। আজ সাকিবের দিকে তাকিয়ে থাকবে পুরো বাংলাদেশ। বিশ্বের অন্যতম সেরা এ অলরাউন্ডার জ্বলে উঠলে জ্বলে উঠবে বাংলাদেশ।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: