৩ ফেব, ২০১৭

পুরোহিত সেজে হিন্দু মেয়েকে বিয়ে হাফেজের!



আশরাফুল ইসলাম মিলন (৩৫)। কোরআনে হাফেজ। কিন্তু নিজেকে মিলন চক্রবর্তী পরিচয় দিয়ে চার বছর আগে বিয়ে করেছেন এক হিন্দু মেয়েকে। বিয়ের পর থেকে মাগুরা সদর উপজেলার চেঙ্গাডাঙ্গা গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তিনি। গলায় ব্রাক্ষ্মণের পৈতা পরে পুরোহিত সেজে ‘মিলন ঠাকুর’ পরিচয়ে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে করে বেড়িয়েছেন পূজা-অর্চণা। এ পর্যন্ত এক ডজনের ওপর হিন্দু বিয়েও পড়িয়েছেন তিনি।
তবে শেষ রক্ষা আর হয়নি। অবশেষে প্রতারণার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ডিবি পুলিশ বুধবার সকালে তাকে আটক করেছে।
মাগুরা ডিবি পুলিশের এসআই মো. সালাহ উদ্দিন জানান, ২০ পারা কোরআনে হাফেজ আশরাফুল ইসলাম মিলন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কানচন নগর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে। সেখানে তার আগের স্ত্রী ও একটি সন্তান রয়েছে। ভারতে যাতাযাতের সূত্র ধরেই সেখানে মাগুরা সদরের চেঙ্গারডাঙ্গা গ্রামের বিকাশ বিশ্বাসের সাথে তার পরিচয়।
তিনি জানান, এ পরিচয়ের সূত্র ধরেই মাগুরার চেঙ্গারডাঙ্গা গ্রামে বিকাশ বিশ্বাসের বাড়িতে যাতায়াত শুরু তার। পরে ২০১৩ সালে হিন্দু ব্রাক্ষ্মণ পারিচয়ে তার মেয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী মিতা বিশ্বাসকে বিয়ে করে মিলনের শ্বশুর বাড়িতে বসবাস। একই সাথে এলাকায় পুরোহিত সেজে পড়িয়ে আসছেন পূজা ও বিয়ে। নিয়মিত পূজার পাশাপাশি তিন বছরে তিনি বিয়ে পড়িয়েছেন এক ডজনের ওপরে।
এসআই জানান, মিলনের বিরুদ্ধে এলাকায় নানা প্রতারণা ও দালালির অভিযোগ রয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে সেনা বাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নাম করে চয়ন বিশ্বাস নামে এক যুবকের কাছ থেকে ৬ লাক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। চয়ন বিশ্বাসের লিখিত অভিযোগে বুধবার ডিবি পুলিশ তাকে আটক করেছে।
তিনি জানান, এ সময় পুলিশ তার একাধিক পাসপোর্ট উদ্ধার করেছে ও বাংলাদেশ, ভারতে তার একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সন্ধান পেয়েছে। ওইসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তিনি তার আসল বাবা ও সাবেক স্ত্রীর কাছে টাকা পাঠিয়েছেন।
এসআই জানান, পাসপোর্টে দেখা গেছে মিলন চক্রবর্তী পরিচয়ে গত দুই, তিন বছরে তিনি ৫০ বার ভারতে গিয়েছেন। বাংলাদেশ ও ভারতে শ্বশুরের সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে তিনি এ বেশ ধরতে পারেন। মিলন চরমপন্থী সদস্য কিনা খোজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ডিবি অফিসে সাংবাদিকদের কাছে মিলন দাবি করেন তিনি প্রতারক নন। তিনি ২০ পারা কোরআনে হাফেজ। তার আগের স্ত্রী, সন্তান রয়েছে। কিন্তু ২০০৮ সালে তিনি ভারতের যাদবপুর গিয়ে হরিপদ চক্রবর্তী নামে এক ব্যাক্তিকে ধর্ম বাবা ডাকেন। এ সময় তিনি আইনগতভাবে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন।
মিলনের দাবি, তিনি প্রায়ই ভারতে যান, সেখানে তার জমির ব্যবসা রয়েছে। ভারতে তার বর্তমান শ্বশুরের জমা-জমিও রয়েছে যেগুলো তিনি দেখা শুনা করেন। চাকরি দেওয়ার নাম করে চয়ন নামক যুবকের কাছ থেকে তিনি টাকা নিলেও তাদের সাথে আগেই বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।
মিলনের স্ত্রী মাগুরা সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী মিতা বিশ্বাস।
তিনি জানান, বিয়ের আগে মিলন মুসলাম ছিলেন এবং তার আগে স্ত্রী, সন্তান আছে সেটা তিনি গোপন করেছিলেন। তবে এখন তিনি বাবার বাড়িতে তার সাথে স্বাভাবিকভাবে সংসার করছেন। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সুদর্শন জানান, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনে পুলিশ সার্বিক বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের অবিহিত করবে।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: