২৮ ফেব, ২০১৭

শৈলকুপায় সরকারি জমি বরাদ্দে ইউএনও’র কোটি টাকার বাণিজ্য

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা: ঝিনাইদহের শৈলকুপার বনখেকো খ্যাত সদ্য বিদায়ী ইউএনও দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে এবার সরকারি জমি বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজারের প্রায় ৫০ জন ব্যবসায়ীর স্বক্ষরিত অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের অভিযোগ ইউএনওর অলিখিত
ব্যক্তিগত কম্পিউটার অপারেটার অপারেটর রাজাকারপুত্র ইমরান ও ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার এজাজুল ইসলামকে সাথে নিয়ে গত ২ বছর ধরে পুরো উপজেলাকে জিম্মি করে রেখেছিলেন দিদারুল আলম।
ব্যবসায়ীরা জানান, নদী শেকস্তি. নদী পয়স্তি ও খাস জমির ওপর গড়ে উঠেছে শৈলকুপা বাজার। যা কয়েকটি অংশে বিভক্ত। ১৯৯৬ সাল থেকে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মাঝে এই জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভূমি বরাদ্দ কমিটি যাচাই বাছাই করে কয়েক দফায় প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মাঝে জনপ্রতি হাফ শতক করে জমি বরাদ্দ দিয়েছে। পদাধিকার বলে এই কমিটির প্রধান ইউএনও। ছয় সদস্য বিশিষ্ট অন্য সদস্যরা হলেন- উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা, থানার ওসি, পৌর মেয়র ও সমাজসেবা কর্মকর্তা। সরকারি বিধি অনুযায়ী এই পাঁচ জনের কেউ একজন আপত্তি জানালে বরাদ্দ হবে না।
কিন্তু সর্বশেষ ৫ জন ব্যবসায়ীর মধ্যে জমি বরাদ্দ দেয়া নিয়ে উপজেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। ভূমি বরাদ্দ কমিটির ৫ সদস্যের মধ্যে ৪ জনকেই অজ্ঞাত রেখে ইউএনও দিদারুল আলম একাই ৫ ব্যক্তি অনুকুলে ২ শতক করে মোট ১০ শতক জমি বরাদ্দ দিয়েছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, বৃহত্তর শৈলকুপা বাজার কয়েকটি অংশে বিভক্ত। সর্বশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তোহা বাজার এলাকা থেকে, যা পৌরসভার অধীনস্ত। ভুমি বরাদ্দ কমিটির সদস্য শৈলকুপা পৌরসভার মেয়র কাজী আশলাফুল আজম বলেন, পৌরসভার বাজার থেকে তাকে না জানিয়েই ইউএনও ১০ শতক জমি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ দিয়েছেন।
বিষয়টি তিনি অভিযোগ আকারে জেলা প্রশাসককেও জানিয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান শিকদার মোশারফ হোসেন সোনা বলেন, তিনি এই ফাইলে আপত্তি দিয়েছিলেন কিন্তু এরপরও কিভাবে জমি বরাদ্দ হয়ে গেল
সে ব্যাপারে তাকে কিছু জানানো হয়নি। জমি বরাদ্দের বিষয়টি জানেন না থানার ওসি তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন ভুমি বরাদ্দ কমিটিতে তিনি আছেন এই বিষয়টিই ইউএনও অফিস থেকে তাকে জানানো হয়নি। আর কমিটির আরেক সদস্য উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বদলি হয়ে গেছেন ৪ জানুয়ারি। নতুন কর্মকর্তা যোগদানের আগেই হরিলুট হয়ে গেছে সরকারি জমি। আর এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি সমাজসেবা অফিসার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা প্রসাশনের একাধিক সূত্র জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি ইউএনও দিদারুল আলমকে জনপ্রসামনে ন্যস্ত করার চিঠি আসে পরিষদে। মূলত এরপর থেকেই আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তিনি। সরকারি বিধি বিধান থোড়ায় কেয়ার করে মোটা টাকার বিনিময়ে সম্পূর্ণ অব্যবসায়ীদের কাছে এই সরকারি জমির বরাদ্দ দিয়েছেন তিনি। আর এই কাজে তাকে সাহায্য করেছে ইউএনওর ব্যক্তিগত কম্পিটার অপারেটর কবিরপুর এলাকার চিহ্নিত রাজাকার আবু তালেবের পুত্র ইমরান হোসেন। আর ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার এজাজুল ইসলাম। এই ইমরান আর এজাজুলের মাধ্যমেই গত দুই বছর ধরে পরিষদকে তিনি দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন।
৫নং কাঁচেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন জোয়ার্দার জানান, আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান হয়েও তারা কেউ সরাসরি ইউএনওর সাথে কথা বলতে পারেন না। রাজাকারপুত্র ইমরানের অনুমতি নিয়েই ইউএনওর সাথে তাদের দেখা করতে হয়। আর যেকোন ফাইলে স্বাক্ষর করাতে হলে ইমরানের হাতে টাকা দিলেই ইউএনওর স্বাক্ষর মিলতো। বিষয়টি শৈলকুপায় টপ সিক্রেট।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ জানুয়ারি বদলীর আদেশ হলেও গত দেড় মাস ধরে শৈলকুপাতেই অফিস করছেন ইউএনও দিদারুল আলম। এই সময়ে শৈলকুপা নতুন বাজারে ৫টি প্লট বরাদ্দ দেয়া ছাড়াও ত্রিবেণী, রামচন্দ্রপুর, খুলুমবাড়ি ও কাঁচেরকোল বাজারের আরো প্রায় ৪০ টি প্লট বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন তিনি। আর এই প্লটগুলো বরাদ্দ দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এজাজুল ইসলামের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে প্রচার রয়েছে উপজেলা জুড়ে।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে ইউএনও দিদারুল আলম বলেন, জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হয়নি। অনেক মানুষ আবেদন করেছিলো সবাইকে জমি দেয়া সম্ভব হয়নি। যারা জমি পায়নি তারাই অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে ভূমি বরাদ্দ কমিটির সদস্যরা বিষয়টি জানেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: