২ জানু, ২০১৭

২০১৬ সালে যশোরে হত্যার শিকার ১৩৫, পাচার ৪০৮, নারী নির্যাতন ১২৬

যশোর জেলায় গত বছর ১ হাজার ৮৪৯টি মানবাধিকারের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪০৮টি মানব পাচার এবং ১৩৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে ২ হাজার ৭২৮ জন। মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের ডকুমেন্টারি সেল থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সংগঠনটি জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্র থেকে এ তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছে।
রাইটস যশোরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বিভিন্ন মানবাধিকারের ঘটনায় ১ হাজার ৬৫১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ নারী ও শিশু। ৪০৮টি মানব পাচারের জন্য যথাযথ আইন থাকলেও তার সঠিক প্রয়োগের অভাব, উন্নত জীবনের হাতছানি, সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যাতায়াতের অবাধ সুযোগ প্রভৃতি দায়ী। মানবাধিকার কর্মীও পুলিশ কর্তৃক হয়রানির শিকার হয়েছে।
যশোর থেকে অভিবাসন হয়েছে ৩৮৩ জনের। এছাড়া ১৩৫টি হত্যাকাণ্ড, ১২টি যৌতুক, বিভিন্ন কারণে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১২৬টি, অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা দুটি, বাল্যবিয়ে হয়েছে ১৯টি, আত্মহত্যা করেছে ১০৬, ৪০ জন যৌননিপীড়নের শিকার হয়েছে। ধর্ষণ ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৪৭টি, পুলিশি নির্যাতন বা হয়রানির ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, বিভিন্ন সময়ে নিখোঁজ হয়েছে ৪১ জন। সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক একটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ৩৩ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। চুরির ঘটনা ঘটেছে ৭২টি, ৫১টি ছিনতাই এবং ২০টি ডাকাতির ঘটনা রয়েছে। চারজন সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতন হয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছে ৮০ জন। সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ১৫২ জন। এছাড়া চলতি বছর বিএসএফ কর্তৃক অপহরণের ঘটনা না ঘটলেও আদালত থেকে ৫১ জন ভুক্তভোগীর পক্ষে রায় পেয়েছেন।
হত্যা সম্পর্কে রাইট যশোরের পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের সব জেলায় কমবেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। ছুরিকাঘাত, শ্বাসরোধ, কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনা বেশি। ২০১৬ সালে সারা দেশে মোট ২ হাজার ৭২৮ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে নারী ৭৩২, পুরুষ ১ হাজার ৫১৫, ছেলে শিশু ২৮৬ এবং মেয়ে শিশু ১৯৫ জন। শুধু যশোর জেলায় ঘটেছে ১৩৫টি।
যৌতুকের কারণে ১১১ ও ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ২৭ জনকে। পারিবারিক কলহের জেরে ১৮৮, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধে ৮৪ জন এবং পরকীয়ার কারণে ২৮ জন হত্যার শিকার হয়েছে। তুচ্ছ কারণে হত্যার শিকার হয় ১৭৮ জন। পূর্বশত্রুতার জেরে মারা গেছে ৮৮ জন। চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে ৫৪ ও অজ্ঞাত কারণে ৩৮৮ জন হত্যার শিকার হয়েছে। নিখোঁজ হয়ে মারা গেছে ৭০ জন। তবে সর্বাধিক ঘটনার মধ্যে ঢাকায় ১৫৪, যশোরে ১৩৫, কুমিল্লায় ৩৭, ময়মনসিংহে ৯২, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৭৪, বগুড়ায় ৭২ ও খুলনায় ৬৫টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৮০টি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে ও আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে ২৮৮ জন।
এসব বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদ আবু সরোয়ার বলেছেন, এ মুহূর্তে আমার কাছে হত্যার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তাই রাইট যশোরের পরিসংখ্যান নিয়ে কিছু মন্তব্য করা যাবে না।
রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক জানিয়েছেন, এই হিসাব দেশের সব পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে নেয়া। এ তথ্য রাইটস যশোরের কাছে আছে। এবার যশোরে মানবাধিকার কর্মীও পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছে, যা অতীতে হয়নি।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: