১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

নারী অফিসারকে জোর করে চুমু, সাজার মুখে সেনাকর্মকর্তা



সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারের দুর্গম জঙ্গলে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটিতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করার সময় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন এক সেনাকর্মকর্তা। কিন্তু সভ্যতার সীমাও লঙ্ঘন করে ফেললেন।

বাহিনীর এক নারী অফিসারকে জোর করে চুমু খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেজর জেনারেল পদমর্যাদার এই অফিসারের বিরুদ্ধে।



দুঃসাহসিক অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার সুবাদে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু নারী সেনা অফিসারের অভিযোগের জেরে মেজর জেনারেল এখন কোর্ট মার্শালের দোরগোড়ায়। বড়সড় শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে তাকে।

উত্তর-পূর্ব ভারতে সক্রিয় বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের ঘাঁটি মিয়ানমারের পাহাড় ঘেরা দুর্গম জঙ্গলে। ভারতীয় বাহিনী একাধিক বার সীমান্ত পেরিয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছে মিয়ানমারের জঙ্গলে। তেমনই এক দুঃসাহসিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আসাম রাইফেলসের নর্দার্ন জোনের ইনস্পেক্টর জেনারেল হিসেবে কোহিমায় কর্মরত এই কর্মকর্তা।
indian women army ref pic এর চিত্র ফলাফল
একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ১৯ অক্টোবর রাতে তিনি ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার এক মহিলা অফিসারকে নিজের বাসভবনে ডেকে পাঠান। তিন বাহিনীর আইন সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে যে জাজ অ্যাডভোকেট জেনারেল বা জেএজি শাখা, ওই নারী সেই জেএজি-তেই কর্মরত। ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার ওই নারী কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, কাজ শেষ হওয়ার পর মেজর জেনারেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা তার কাছ থেকে চুম্বন চান। এর পর নিজেই খুব কাছে চলে আসেন এবং জোর করে তার গালে ও ঠোঁটে চুমু খান। কোনও ক্রমে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মেজর জেনারেলের বাংলো থেকে সে রাতে বেরিয়ে গিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন। অভিযোগ পত্রে নাকি তেমনই লেখা রয়েছে। এর পরেও একাধিক বার ফোন করে এবং নিজের অধস্তন কর্মচারীকে দিয়ে বার্তা পাঠিয়ে অনেক বার ওই ক্যাপ্টেনকে মেজর জেনারেল দেখা করতে বলেছিলেন বলে অভিযোগ।

নারী অফিসার মেজর জেনারেল তথা আসাম রাইফেলসের ইন্সপেক্টর জেনারেল পদে থাকা ওই সেনাকর্তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান। তার ভিত্তিতেই ঘটনার বিচার শুরু হয়েছে। যে ইংরেজি সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে, তাদের দাবি, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর অভিযুক্ত মেজর জেনারেল ও তার স্ত্রী অভিযোগকারিনীর সঙ্গে দেখা করেন এবং অভিযোগ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। রাজপুতানা রেজিমেন্ট থেকে উত্তর-পূর্বে কাজ করতে আসা এই কর্মকর্তা ৩০ বছর বাহিনীতে রয়েছেন এবং দুঃসাহসিক কাজের জন্য সুনাম অর্জন করেছেন। কিন্তু এই অভিযোগের জেরে তার কর্মজীবন আচমকা শেষ হয়ে যেতে পারে এবং তাকে খুব বড় শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। সাজার হাত থেকে বাঁচতেই অভিযোগ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন মেজর জেনারেল ও তার স্ত্রী। কিন্তু অভিযোগকারিনী নিজের অবস্থান থেকে কিছুতেই পিছু হঠেননি।

-

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: