৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

যশোরে রিপন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যশোরে মধ্যরাতে ‘গোলাগুলিতে’ রিপন হোসেন নামে এক যুবক নিহতের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় হত্যা এবং অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। থানার এসআই এইচএম শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে মামলা দুটি করেছেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত দেখানো হয়েছে।
এজাহার নামীয় আসামিরা হচ্ছেন শহরতলির শানতলার কথিত সন্ত্রাসী সম্রাট, খয়েরতলার হাসান (২৬), সুলতানপুর গ্রামের বায়জিদ (২৮), বিরামপুরের লিটন ওরফে হাঁস লিটন (৩৬), হাশিমপুর গ্রামের আমিরুল ইসলাম ওরফে বুলি (৪৫), জুয়েল (৩২), বাবলা (২৪), জগমোহনপুর গ্রামের মতিয়ার (৪৫), ইছালী গ্রামের জামাল (৪২), আনিসুল (৩২), শ্যামনগর গ্রামের মুন্না, ইছালী রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম ওরফে ফিঙে (৩০), মাগুরা জেলা সদরের কামহাটি গ্রামের ইবাদত হোসেন (৪৪), ভবনহাটি গ্রামের বিষে (৩৮), যশোর সদর উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের জামাল (৪০), রাজাপুরের আজগর আলী (৪৫), বেতালপাড়ার রবিউল ইসলাম, পাইকপাড়ার আজিজ কাজী এবং লেবুতলা গ্রামের আমিরুল ইসলাম। এছাড়া ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়, বৃহস্পতিবার দিনগত গভীর রাতে যশোর-মাগুরা সড়কের পাঁচবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পাকা রাস্তার ওপর সম্রাট বাহিনী এবং নান্নু গ্রুপের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ চলছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার রাত পৌনে ২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, এক রাউন্ড গুলি এবং একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। পরে নিহতের মামা শহিদুল ইসলাম হাসপাতালে এসে লাশ শনাক্ত করেন।
উল্লেখ্য, নিহত রিপন বেনাপোল পোর্ট থানার ছোটআঁচড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান গাজি ওরফে হবি সর্দারের ছেলে। এছাড়া তিনি বেনাপোল বন্দরে কর্মরত আনসার সদস্য ফিরোজকে হাতুড়িপেটা করে হত্যা করার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন। ১৭ দিন আগে ফিরোজকে হাতুড়িপেটা করা হয়। ১৫ দিন অচেতন থাকা অবস্থায় ফিরোজ বুধবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মরা যান। ওই দিনই জামিনে মুক্তি পান রিপন। সন্ধ্যার দিন তাকে অজ্ঞাত পরিচয় লোক তুলে নিয়ে যায় এবং গভীর রাতে কথিত দু’পক্ষের গোলাগুলিতে নিহত হয়।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: