পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৯৯ লাখ টন। ওই সময় দেশের ৮৮ ভাগ মানুষই ছিল দরিদ্র। মাথাপিছু আয় ছিল মাত্...

পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ


স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৯৯ লাখ টন। ওই সময় দেশের ৮৮ ভাগ মানুষই ছিল দরিদ্র। মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ১২৯ মার্কিন ডলার। নবগঠিত সরকার প্রথম বাজেট দেয় মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার।

অর্থনীতির বিভিন্ন পরিসংখ্যান এবং তৎকালীন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সাড়ে সাত কোটি মানুষের বাংলাদেশ আদৌ টিকবে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন বিশ্বের নামকরা অর্থনীতিবিদরা।

'বাংলাদেশ: এ টেস্ট কেস ফর ডেভেলপমেন্ট' শীর্ষক এক বইয়ে নরওয়ের অর্থনীতিবিদ ড. জাস্টফালান্ড ও ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জ্যাক আর পারকিনসন অনেকটা চ্যালেঞ্জের সুরে বলেছিলেন, 'এ অবস্থা থেকে বাংলাদেশ যদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে পারে, তাহলে বিশ্বের যে কোনো দেশই উন্নত হতে পারবে।' বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে উল্লেখ করেন তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার।

সেই বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে উন্নয়নের মডেলে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বড় বড় গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছে। কেউ বলছেন, এশিয়ান টাইগার। কেউ বলছেন, 'ফ্রন্টিয়ার ফাইভের' সদস্য। বিজয়ের ৪৫ বছর পরে এসে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ কমপক্ষে দুই ডজন আন্তর্জাতিক সূচকে এগিয়ে রয়েছে।

কিন্তু পাকিস্তান তুলনামূলকভাবে এগোতে পারেনি। দীর্ঘ ২৪ বছর পাকিস্তানি সামরিক-বেসামরিক জান্তারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের ওপর শোষণ-নির্যাতন চালায়। অর্থনৈতিকভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ করে বাঙালিদের সঙ্গে। পশ্চিম পাকিস্তান হয়ে ওঠে অর্থনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। বঞ্চিত হতে থাকে বাঙালিরা। একাত্তর পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনীতি এক প্রকার ভালোই ছিল। কিন্তু একাত্তর থেকে গত ৪৫ বছর পাকিস্তান আর সেভাবে এগোতে পারেনি। সাড়ে ৪ দশকে পাকিস্তানে অধিকাংশ সময় গণতন্ত্র ছিল না। রাজনৈতিক সমস্যায় ছিল জর্জরিত। স্বাধীনতার আন্দোলন চলছে বেলুচিস্তানে। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার থাকলেও সামরিক প্রভাব রয়েছে ব্যাপকভাবে। জাতিগত (শিয়া-সুন্নি) বিরোধও প্রকট। ধর্মান্ধতার সংকট সারাদেশে। জঙ্গিবাদের উত্থানে নাস্তানাবুদ গোটা পাকিস্তান।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর পাকিস্তানের শাসকরা এ অঞ্চলের উন্নয়নে উদ্যোগ নেননি। কোনো শিল্পকারখানা বা ব্যাংক-বীমার প্রধান কার্যালয় ছিল না পূর্ব পাকিস্তানে। বরং এ দেশ থেকে সম্পদ স্থানান্তর করে নিয়ে গেছে। এমনকি বাংলাদেশের জনগণকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি দেওয়ার বেলায়ও গড়িমসি ছিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এ দেশের কল-কারখানায় আগুন দেয়। ধ্বংস করে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, রেলপথ। ভগ্নদশা আর শূন্য হাতে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। সেই মুক্তি আর অধরা নয়। বাংলাদেশ এখন উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের তালিকার খুব কাছাকাছি।

বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে মানব উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি গর্ব করার মতো। এ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ব্যবসায় পরিবেশ, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানের থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ। এমনকি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ ভারতও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পেছনে পড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, আর্থিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ পাকিস্তানের তুলনায় বেশি উন্নতি করেছে। তবে গড় আয়ুষ্কাল, পুষ্টি, শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়নের মতো সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে এগিয়েছে। পাকিস্তানের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ তাদের দেশের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন সমস্যা। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক পরিবেশের ধারাবাহিকতার অভাব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের মডেলগুলো এখন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। পাকিস্তান এ ধরনের কোনো কিছু উদ্ভাবন করতে পারেনি। আবার বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়ন মডেলগুলোকে (ক্ষুদ্রঋণ, বিভিন্ন এনজিওর কার্যক্রম, জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা) যেভাবে গ্রহণ করেছে পাকিস্তানের সমাজে সেই মানসিকতা নেই। এছাড়া বাংলাদেশের কৃষি ও শিল্পে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা পাকিস্তানে হয়নি। যে কারণে সামগ্রিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশের পেছনে পড়েছে পাকিস্তান।

এ বিষয়ে গবেষণা সংস্থা পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান এ উপমহাদেশে অনেক দেশের তুলনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল। দেশটি অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যার কারণে দিন দিন অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সমস্যা। দেশটিতে যথাযথ গণতন্ত্র কায়েম করা যায়নি। জাতিগত (শিয়া-সুনি্ন) বিরোধ রয়েছে। রয়েছে আঞ্চলিক (কাশ্মীর-বেলুচিস্তান) সমস্যা। এ ছাড়া নাশকতার প্রবণতা ও ব্যাপকভাবে ধর্মান্ধতা রয়েছে পাকিস্তানে। বলা যায়, আত্মবিধ্বংসী দেশে পরিণত হয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের যে উন্নতি হয়েছে সে জন্য প্রধান ভূমিকা রেখেছে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা। বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে পাকিস্তানের সমস্যাগুলো বাংলাদেশকেও প্রভাবিত করত।

বাংলাদেশের অগ্রগতি দেখে জাস্টফালান্ড ও জ্যাক আর পারকিনসন ২০০৭ সালে তাদের বক্তব্য সংশোধন করে বলেন, 'গত তিন দশক বা তারও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সীমিত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।'

শুধু এ দুই অর্থনীতিবিদই নন, বাংলাদেশের বিপুল উন্নয়ন সম্ভাবনার কথা এখন বলছেন সবাই। ২০১২ সালের ৩ নভেম্বর 'আউট অব দ্য বাস্কেট' নিবন্ধে ইকোনমিস্ট বলেছে, 'কী করে উন্নয়নের মডেলে পরিণত হওয়া যায়, সেটা দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।'

গত বছর বাংলাদেশ সফরকালে বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন উড়ন্ত সূচনার পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, 'এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না, শিগগিরই এশিয়ার নতুন বাঘ হিসেবে আবির্ভূত হবে বাংলাদেশ।'

গত আট বছরের মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। কৃষি উৎপাদনে দেশটি পেছনে হাঁটছে। বাংলাদেশ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এর আগে এক দশক ধরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশের আশপাশে ওঠানামা করেছে।

তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। গত অর্থবছরে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয় হয়েছে বাংলাদেশের। এর সিংহভাগ এসেছে পোশাক রফতানি থেকে। রফতানি আয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদও এখন পাকিস্তানের চেয়ে শক্তিশালী। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের পরিমাণ ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। পাকিস্তানের রিজার্ভ ২৩ বিলিয়ন ডলার।

ব্যবসায় পরিবেশ, উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পেছনে পড়েছে পাকিস্তান। জাতিসংঘের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্টে পাকিস্তানের চেয়ে তিন ধাপ এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। আমেরিকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গ্লোবাল এন্টারপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট বৈশ্বিক উদ্যোক্তা সূচক-২০১৬-এ পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণেও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০১৬-এর তথ্য অনুসারে ১১৮টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯০। পাকিস্তানের অবস্থান ১০৭। নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর অগ্রগতির নানা সূচকে বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের দ্য গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০১৫-তে সার্বিক বিবেচনায় নারী উন্নয়নে বিশ্বের ১৪৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে ৬৪ নম্বরে। এ তালিকায় পাকিস্তানের অবস্থান ১৪৪ নম্বরে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, নারীর স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ।

লন্ডনভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠানের এক জরিপে বৈশ্বিক সমৃদ্ধি সূচকে ১৪২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৩। যেখানে পাকিস্তান রয়েছে ১৪১তম অবস্থানে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক বহুজাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস গত ৭ জুন বার্ষিক বিশ্ব শান্তি সূচক প্রকাশ করেছে। ওই সূচকে বিশ্বের ১৬২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৩তম। যেখানে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম।

জাতিসংঘ অর্থনীতি ও সামাজিকবিষয়ক বিভাগের জনসংখ্যা বিভাগ কর্তৃক ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টাস: ২০১৬ রিভিশন শীর্ষক বিশ্ব জনসংখ্যাবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ সূচকে বিশ্বের ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৭তম। যেখানে পাকিস্তান রয়েছে ১২৬-এ।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ব্রিটিশ পত্রিকা ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট গণতন্ত্র সূচক-২০১৫ প্রকাশ করে। এতে বিশ্বের ১৬৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৬তম। যেখানে পাকিস্তানের অনেক আগে রয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের অবস্থান ১১২-তে। ২০১৪ সালের মানব উন্নয়ন রিপোর্টেও পাকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪২ আর পাকিস্তানের অবস্থান ছিল ১৪৬।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মারসার বৈশ্বিক মানব পুঁজি সূচকে ১২৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। ওয়াশিংটনভিত্তিক ওয়ার্ল্ড জাস্টিসের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, তাদের প্রকাশিত স্বচ্ছ শাসন ব্যবস্থা সূচকে বিশ্বের ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৩তম। যেখানে পাকিস্তান রয়েছে ৮৫তম স্থানে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, তাদের প্রকাশিত রিপোর্টে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সূচকে ১০৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৭তম। যেখানে পাকিস্তানের অবস্থান ৮৮।

সেভ দ্য চিলড্রেন তাদের ওয়েবসাইটে ১৭তম বার্ষিক মাতৃসূচক প্রকাশ করেছে। এ সূচকে বিশ্বের ১৭৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৩০তম, আর পাকিস্তান ১৪৯। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন নিউ ইকোনমিকস ফাউন্ডেশন গত ৩০ জুলাই সুখী দেশ সূচক প্রকাশ করে। তালিকা অনুযায়ী সার্কভুক্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ সবার শীর্ষে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডবি্লউএইচও) গত মে মাসের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী গড় আয়ুতে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও আফগানিস্তানের চেয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের এই অর্জনের নেপথ্য প্রধান শক্তি এ দেশের সাধারণ মানুষ। সরকার, রাজনীতি কিংবা বিশ্ব পরিস্থিতির ঝক্কি-ঝামেলা পেছনে ফেলে নিজের ভাগ্য নিজেরাই গড়ছেন। দিন দিন চাষাবাদের জমি কমলেও এ দেশের কৃষকরা ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করার মতো বাড়তি ফসল উৎপাদন করছেন। ঝড়-বৃষ্টি, শীত-গ্রীষ্ম, হরতাল-অবরোধ আমলে না নিয়ে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন এ দেশের শ্রমিক শ্রেণি। আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত বিপুল শ্রমশক্তি তাদের শ্রমে আর ঘামে বিনির্মাণ করছেন বিস্ময়কর উত্থানের পটভূমি। উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগ করছেন। মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান রেখে প্রবাসে শ্রম বিক্রি করে দেশে উন্নয়নের স্বপ্ন বুনছেন কোটিখানেক বাংলাদেশি। নানা সময় এর প্রশংসা করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।

বাংলাদেশ বর্তমানে ডিজিটাল বিশ্বে আলোচিত নাম। ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়ছে দিন দিন। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কেনাকাটা হচ্ছে অনলাইনে। আলীবাবা, উবারের মতো অনলাইন সেবাদাতা অনেক বৈশ্বিক কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে। চীন, জাপান, রাশিয়া, ভারত বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসছে। জ্বালানি শক্তির আধুনিক সংস্করণ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে রয়েছে বাংলাদেশ।

সূত্র: সমকাল 




       

COMMENTS

Mountain View
নাম

অপরাধ বার্তা অভয়নগর অর্থনীতি আন্তর্জাতিক ইতিহাস/মুক্তিযুদ্ধ ইলেক্ট্রনিক্স ইসলাম ঐতিহ্য ঐতিহ্য/সংস্কৃতি কলাম কৃষি কৃষি বার্তা কেশবপুর খেলাধুলা গ্যালারী চাকরির খবর চাকুরী চুয়াডাঙ্গা চৌগাছা জাতী জাতীয় ঝিকরগাছা ঝিনাইদহ টিপস তথ্য প্রযুক্তি দর্শনীয় স্থান নড়াইল নিবন্ধ পরিবেশ প্রকৃতি/পরিবেশ প্রতিবেদন প্রবাস প্রশাসন ফেসবুক বাঘারপাড়া বিনোদন বিশেষ খবর বেনাপোল ব্যক্তিত্ব ব্যবসা/বানিজ্য ব্রেকিং নিউজ ভর্তি পরীক্ষা ভিডিও ভ্রমন মনিরামপুর মাগুরা মুক্তিযুদ্ধ যশোর যশোর সদর রাজনীতি রান্না লাইফ স্টাইল শার্শা শিক্ষাঙ্গন সংবাদ সংস্কৃতি সম্পাদকীয় সর্বশেষ সাফল্য সারাদেশ সাহিত্য সিনেমা স্বাস্থ্য Breaking Feature Greater Jessore Tips
false
ltr
item
যশোর নিউজ ২৪: Jessore News 24:: পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
http://bdlive24.com/uploads/news/2016-12-16/full_2047521196_1481828773.jpg
যশোর নিউজ ২৪: Jessore News 24:
http://www.jessorenews24.com/2016/12/blog-post_573.html
http://www.jessorenews24.com/
http://www.jessorenews24.com/
http://www.jessorenews24.com/2016/12/blog-post_573.html
true
286737489812364167
UTF-8
Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy