১৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

বিদ্রোহের শঙ্কার মধ্যেই আজ চূড়ান্ত হবে ট্রাম্পের ভাগ‌্য

বিদ্রোহের শঙ্কার মধ্যেই আজ চূড়ান্ত হবে ট্রাম্পের ভাগ‌্য

আজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কারণ এই দিনে ইলেকটোরাল ভোটাররা কংগ্রেস ভবনগুলোয় ভোট দেবেন তাদের নিজ নিজ পার্থীকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটি একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। তবে রিপাবলিকান দলের বিজয়ী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য আজকের দিনটি একটু শঙ্কাপূর্ণ।

ট্রাম্পের শঙ্কার কারণ তার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নির্বাচক ‘বিদ্রোহ’ করে বসলে পাল্টে যেতে পারে দৃশ্যপট। পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী, তাদের বেশ কয়েকজন এ ধরনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। নির্বাচনে রুশ সরকার ট্রাম্পকে জেতাতে কলকাঠি নেড়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তত ৬৭ জন নির্বাচক এ বিষয়ে আরও তদন্ত দাবি করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই ইলেকটোরাল কলেজ বা নির্বাচকমণ্ডলীর ভোট একটা আনুষ্ঠানিকতা হলেও ৮ নভেম্বরের ভোটে ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত বিজয় এ পদ্ধতিকে আবার আলোচনায় নিয়ে এসেছে। মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ সেই আলোচনাকে করেছে জোরদার।

৮ নভেম্বরের নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে হিলারি ক্লিনটন বেশ এগিয়ে থাকলেও অধিকাংশ ইলেকটোরাল ভোট জিতে নেওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প অপ্রত্যাশিতভাবে জিতে যান। আজ সেই নির্বাচকেরা ঠিকমতো নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিলে ট্রাম্প পাবেন ৩০৬ ভোট, যা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে প্রয়োজনীয় ২৭০-এর চেয়ে অনেক বেশি।

হিলারির ঝুলিতে রয়েছে ২৩২টি ইলেকটোরাল ভোট। ট্রাম্পের ইলেকটরদের মধ্যে ৩৮ জন তার বিরুদ্ধে গিয়ে হিলারিকে সমর্থন দিলে পরিবর্তন হয়ে যাবে ফলাফল।

এরই মধ্যে ক্রিস্টোফার সাপরান নামে রিপাবলিকান দলের একজন নির্বাচক নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, তিনি তার দলের প্রার্থী ট্রাম্পকে সমর্থন দেবেন না। আরও কয়েকজন রিপাবলিকান নির্বাচক ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন। আজকের ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে তিন ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রথমত, ট্রাম্প তার কাঙ্ক্ষিত ভোট পেয়ে বিজয়ী হবেন।

দ্বিতীয়ত, রিপাবলিকান নির্বাচকদের বেশ কয়েকজন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন, যার ফলে হিলারি জিতে যেতে পারেন।

তৃতীয়ত, কোনো প্রার্থীই যদি ন্যূনতম ২৭০টি ভোট নিশ্চিত না করতে পারেন, তাহলে ন্যূনতম ২৬টি অঙ্গরাজ্যে বিজয়ী প্রার্থী হবেন প্রেসিডেন্ট। এ ক্ষেত্রেও বিষয়টা অমীমাংসিত থেকে গেলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর কংগ্রেসে ভোট হবে। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত দফায় দফায় ভোট হওয়ার পরও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা না গেলে নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন।


SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: