১২ ডিসেম্বর, ২০১৬

বাংলাদেশে ক্রিকেট বন্ধের ঘোষনা এসেছিলো



ফরহাদ টিটো
“বাংলাদেশের মতো গরীব দেশে ক্রিকেট খেলা বিলাসিতা । এই খেলা আমাদের বর্জন করাই শ্রেয় । বাংলাদেশের মাটিতে বুর্জোয়াদের ক্রিকেটের কোনো স্থান নেই ।”
১৯৭৩ সালে উপরের ঘোষনাটি দিয়েছিলেন তখনকার অর্থমন্ত্রী, সরকারের ভীষন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাজউদ্দিন আহমেদ ।
(তথ্যসূত্র গ্রন্থ : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ, লেখক : হাসান বাবলী)
স্বাধীন বাংলাদেশে ক্রিকেট শুরু হয়েছিলো ১৯৭২ সালে । ১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে ঢাকার প্রধান ক্রিকেট লিগের খেলা অসমাপ্ত ছিলো । ‘৭৪ সাল থেকে শুরু হয়েছিলো নিয়মিত ক্রিকেট লিগ ।
কিন্তু ‘৭৩ সালের দিকে ঢাকায় ক্রিকেট বিরোধী একটা চক্র উঠেপড়ে লেগেছিলো বাংলাদেশ থেকে ক্রিকেট খেলাকে বিতাড়িত করার জন্য । তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলাপ-অনুরোধও করা শুরু করে দিয়েছিলো বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য । আর তাতে প্রভাবিত হয়েই তাজউদ্দিন সাহেব এমন উচ্চারণ করেছিলেন এক সভায় ।
এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিলো ক্রিকেটারদের মধ্যে । তারা প্রতিবাদ কর্মসূচিও নিয়েছিলেন তখন এই ঘোষনার বিপক্ষে । তারা তখনকার আউটার স্টেডিয়ামে জড়ো হয়ে ব্যাট-প্যাডে আগুন লাগিয়ে প্রতিকী সমাবেশ ও মিছিল করেছিলেন ।
এর কয়েকদিন পর পত্রিকায় খবর ছাপা হলো ক্রিকেট গিয়ার্স বা ব্যাট-প্যাড-বল সবকিছুর ওপরই বিরাট ট্যাক্স বসাচ্ছে সরকার যাতে ক্লাব বা খেলোয়াড়রা তা কিনতে না পেরে ক্রিকেট খেলা থেকে দূরে সরে যায় ।
ক্রিকেটের জন্য এরকম এক অশুভ আর ভয়ংকর অবস্থায় তখনকার কিছু সিনিয়র খেলোয়াড় ও সংগঠক বংগবন্ধুর ছেলে শেখ কামালের কাছে যান । শেখ কামাল ছিলেন জনপ্রিয় ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং নিজেও একজন ক্রিকেটার ।
তিনি সবাইকে নিয়ে বংগবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কাছে যান সে সময় ।
সবকিছু শুনে বংগবন্ধু সিদ্ধান্ত দেন : ক্রিকেট খেলা বন্ধ হবে না । ক্রিকেট সরঞ্জামের উপর শুল্কও আরোপ করা হবে না । ”
সেই থেকে আর পেছন ফিরে তাকায়নি আমাদের ক্রিকেট ।
লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: