৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

মুক্ত যশোরে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জনসভা

১৯৭১-এর ৮ ডিসেম্বর মুক্ত যশোরের টাউন হলে প্রথম জনসভায় ভাষণ দেন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ। এর আগের দিন ৭ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্র বাহিনী বিনা প্রতিবন্ধকতায় পাক বাহিনীর কবল থেকে যশোর ক্যান্টনমেন্ট ও যশোর শহরকে মুক্ত করে। পরদিন কলকাতার থিয়েটার রোড থেকে সড়ক পথে যশোরে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ জনগণের বিপুল সংবর্ধণা এবং ‘জয় বাংলা’ ‘তোমার দেশ-আমার দেশ-বাংলাদেশ, ‘তোমার নেতা-আমার নেতা শেখ মুজিব-শেখ মুজিব’ স্লোগানের মধ্যদিয়ে উৎসবমুখরতায় যশোর টাউন হল চত্বরে পৌঁছান। কানায় কানায় পূর্ণ হওয়া যশোর টাউন হলের এ বিশাল জনসভায় স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আনন্দে      উদ্বেলিত হয়ে ওঠে যশোরের সংগ্রামী জনতা।
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিভিন্ন রেজিমেন্ট ৮ ডিসেম্বর সম্পূর্ণভাবে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং তারা রাজধানী ঢাকায় ফেরার কোনো পথ খুঁজে না পেয়ে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর যৌথ আক্রমণে দিশেহারা হয়ে ওঠে।
এদিন সকালের দিকে বরিশাল শহরে কার্ফ্যু জারি করে পাক বাহিনী দুপুরের পর পরই খুলনা থেকে কিউই জাহাজে পলায়নপর পাক বাহিনীর খুলনা রেজিমেন্টের সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে নন্দির বাজারের কাছাকাছি ভারতীয় যুদ্ধ জেট বিমানের বোমা হামলায় নদীতে সলিল সমাধি বরণ করে এবং বিকেলের মধ্যে বরিশাল শহরে বীর দর্পে প্রবেশ করে ৯ নম্বর সেক্টরের মুক্তি বাহিনী ও গেরিলা বাহিনীর সদস্যরা। এদিন বিভিন্ন জেলা শহর থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর হামলার শিকার হয়ে ঢাকার দিকে পালাতে শুরু করলে বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতীয় বিমান হামলায় পর্যুদস্ত হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অধিনায়ক জেনারেল স্যাম মানেক’ শ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণের অনুরোধ জানিয়ে আকাশবানী থেকে বেতার বার্তায় জানান আত্মসমর্পণ করলে তাদেরকে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী সুযোগ সুবিধার নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
এদিন ভারতীয় মিত্র বাহিনীর জেনারেল স্বগত সিং পূর্ব দিক থেকে রাজধানী ঢাকার  পশ্চিম দিক থেকে এগিয়ে আসে। একটি অংশ আশুগঞ্জ অভিমুখে গিয়ে আশুগঞ্জ সেতু পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করে।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: