২৭ নভেম্বর, ২০১৬

ভারতের জন্য কেমন হবেন পাকিস্তানের নতুন সেনাপ্রধান?

পাকিস্তানে নতুন সেনাপ্রধানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আর হিসাব কষছে ভারত। কেমন হবেন তিনি? আগের সেনাপ্রধান রাহেল শরিফের মতো ভারতবিদ্বেষী না কি অন্য কিছু- হিসাব মেলাতে ঘাম ঝরছে ভারতের।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া মঙ্গলবার থেকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। হয়তো অনেকে জানেন এই দায়িত্ব গ্রহণ মানে ক্যান্টনমেন্টে বসে হুমুক তামিল করা নয়। জাতশত্রু ভারতের পাকিস্তানবিরোধী পরিকল্পনাগুলো সম্পর্কে নিয়মিত তালিম করা এবং সেনাবাহিনীর মর্যাদাপূর্ণ নেতৃত্বে জনগণের আস্থা অটুট রাখা তার দায়িত্ব।
ভারতের সেনাবাহিনীর বিপুল সম্পদ রয়েছে। সম্পদ ধরে রেখে আরো বাড়িয়ে যাচ্ছেন। বাজওয়াকে সিভিল প্রশাসনের মন জুগিয়ে চলতে হবে অথবা ক্ষমতা বলে তা আদায় করে নিতে হবে, যা তার পূর্বসূরিরা করেছেন।মাঝেমধ্যেই পাকিস্তান নিয়ে একটি প্রশ্ন ওঠে- দেশটি চালায় কারা? এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ও জটিল বিশ্লেষণ রয়েছে। নির্বাচিত সরকার থাকলেও সেনাবাহিনীর ইচ্ছা-অনিচ্ছায় অনেক কিছু হয়। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কেও তাদের প্রকট প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও আফগানিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণে হাত আছে সেনাপ্রধান ও তার সহযোগীদের।
পাকিস্তানের প্রতি নতুন সেনাপ্রধানের দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন হবে কি না, তা কে বলতে পারেন- বলা যায় কি? ভারত-পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরিত্র যদি খেয়াল করা যায়, তাহলে হয়তো চোখ বুঝে কেউ বলে দিতে পারেন ভারত নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নীতি কখনো পাল্টাবে না। পাকিস্তান রাষ্ট্রের ৭০ বছরের ইতিহাসে অধিকাংশ সময় শাসন করেছেন সেনাপ্রধানরা। ফলে রাষ্ট্রের বুনিয়াদি প্রতিষ্ঠায় ঢুকে আছে সেনাবাহিনীর গৌরবগাথা। পাকিস্তানিদের মধ্যে একটি বড় সেনাশাসনের পক্ষে অবস্থান করেন। জেনারেল আয়ুব খান থেকে পারভেজ মোশাররফ পর্যন্ত পাকিস্তানের সেনাশাসনের চরিত্র একই- সেনাপ্রধানরা যখন রাষ্ট্রের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন, তখন আমজনতা নিবর ভূমিকায় থাকে।
ক্ষমতা চর্চার দিক থেকে পাকিস্তানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সেনাবাহিনী। অর্থ থেকে পরমাণু বোমা- সবই আছে তাদের। ফলে যেকোনো নির্বাচিত সরকারকে তাদের তোয়াচ করে চলতে হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কিছুটা এগোনোর পর হঠাৎ তা থমকে যায়। সে সময় সেনাপ্রধান রাহেল শফিরের সঙ্গে নওয়াজের মতৈক্য হয়নি। নতুন সেনাপ্রধানের সঙ্গে একই ইস্যুতে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না।
কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের অস্তিত্বের লড়াই জন্ম থেকে। সম্প্রতি কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে দুই দেশের তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধাবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল দুই দেশ। যুদ্ধ বেঁধে যায় যায় অবস্থা ছিল। যুদ্ধ না হলেও উত্তেজনা কমেনি। দুই দেশের সীমান্তে থেকে থেকে মানুষ মরছে- সামরিক কি বেসামরিক। সীমান্তে যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দিচ্ছে ভারত, ছেড়ে কথা বলছে না পাকিস্তানও। জবাব, পাল্টা জবাবের পথ ধরেই বছরের পর বছর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করছে দুই দেশ। ফলে পাকিস্তানের নতুন সেনাপ্রধানের পক্ষে হঠাৎ করে সীমান্তনীতি পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না।
দেখতে হবে যুদ্ধাবস্থা থেকে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে কামার জাভেদ বাজওয়া কোনো টার্ন করেন কি না। জেনারেল পারভেজ মোশাররফ কারগিল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। তা ছাড়া নওয়াজ শরিফের নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন তিনি। তার পরের সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানি রাজনীতি থেকে সেনাবাহিনীকে দূরে রাখেন। অর্থাৎ পাকিস্তানের সেনাপ্রধানরা প্রকৃতপক্ষে কখন কী করনে, তা আগাম বলে দেওয়ার কুদরত কারো নেই। ক্ষমতা তাদের হাতে। ভারতবিরোধিতা তাদের ঐতিহাসিক ধারা। এ থেকে বাজওয়া বের হয়ে আসতে পারবেন কি?
বাংলাদেশ সময় ১৯২৮ ঘণ্টা, ২৭ নভেম্বর, ২০১৬


SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: