১২ অক্টোবর, ২০১৬

নওয়াপাড়া গ্রামের চাষী জুলফিকার আলী ভূট্টো। বয়স ৬০ এর কোটা ছুঁই-ছুঁই। ছোটবেলা থেকেই কৃষি কাজের প্রতি রয়েছে তার আলাদা আকর্ষণ। পিতা মৃত. নওয়াব আলীর কাছ থেকেই তার কৃষি কাজে হাতে খড়ি। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। তার  হতের যাদুর স্পর্শ  পেলেই সব ফসলই যেন উজাড় করে ঢেলে দেয় তার সব শষ্যদানা। বীজতলা তৈরি, বীজ বপন থেকে শুরু করে ক্ষেত প্রস্তুত, চারা রোপণ, পরিচর্যা সবকিছুই যেন অন্য চাষীদের জন্য ঈর্ষার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। কারণ একটাই। চাষী জুলফিকার আলী যে ফসলই আবাদ করে, অন্যদের থেকে ফলন
অনেক অনেক বেশিই হয়। এবার আমন চাষ করেছিল ৪ বিঘা জমিতে। তারমধ্যে ২ বিঘা জমিতে চাষ করেছিল ব্রি-৬২ ধান। অন্য ২ বিঘায় রোপন করেছেন ব্রি-৩৯ এবং ব্রি-৪৯ ধান। পরম করুণাময় যেন তার ক্ষেতে ঢেলে দিয়েছেন প্রতাশার চেয়েও বেশি আমন ধান। একই মাঠ, একই বীজ, একই চারা, কিন্তু নওয়াপাড়া উপশহর মাঠের আর সকলের আমনের ফলন থেকে তার জমির আমনের ফলন ঈর্ষণীয় পরিমান বেশি ফলেছে। অন্য কৃষকেরাতো বটেই, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও সাধারণ জনতাও দেখতে আসে তার আমনের ক্ষেত। উপজেলা কৃষি অফিসারের অনুরোধে ২৮ সেপ্টেম্বর আমিও গিয়েছিলাম তার আমন ধানের ক্ষেত দেখতে। তার ক্ষেতের ব্রি-৬২ ধান সোনালী বর্ণ ধারণ করেছে। চোখ ফিরানো যায় না। আপলক নেত্রে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। আল্লাহর মহিমায় আশ্চর্য হওয়া আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না। কথা হচ্ছিল চাষী জুলফিকার আলী ভূট্টোর সাথে। তিনি জানালেন, অন্যান্য জাতের ধানের জীবনকাল সাধারণত ১২০-১৪০ দিন। কিন্ত ব্রি-৬২ ধানের  জীবনকাল মাত্র ১’শ দিন। তাই ব্রি-৬২ ধান আগেভাগে পাকতে শুরু করেছে। তিনি আরো জানান, সব ফসলই খুবই আন্তরিকতার সাথে চাষাবাদ করেন তিনি। পরিচর্যা করেন যথাযথভাবে। এবার একই আমনের চারা পাশের জমিতে রোপণ করেছেন অন্য চাষী। কিন্তু তার জমির চেয়ে আমার জমিতে ফলন হয়েছে ভাল। সবই আল্লাহর ইচ্ছা। ধন্যবাদ তাকে। এই ধান কাটার পর মধ্যবর্তী ফসল হিসেবে সরিষা লাগাবো। তারপর বোরো চাষ করবো। জমির যথাযথ ব্যবহারের কথা শুনে মনে মনে গর্ববোধ করলাম বাংলাদেশের কৃষকদের নিয়ে, যারা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন। স্যালুট বাংলার সকল কৃষককে। চাষী জুলফিকার আলী ভূট্টোর ব্রি-৬২ ধান কাটার দিন ধার্য্য করা হয়েছিল গত ০৪ অক্টোবর। ধান কাটার সময় নওয়াপাড়া ব্লকের দ্বায়িত্বে থাকা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা  প্রভাত কুমার রায় ও বাগদাহ ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। ধানা কাটা হলো। এরপর মাপার পালা। ধান মাপার পর সবার সাথে সাথে কৃষি বিভাগের ওই কর্মকর্তাও আশ্চার্যান্বীত হযে পড়লেন। চাষী জুলফিকার আলী ভূট্টোর ব্রি-৬২ ধানের উৎপাদন হয়েছে হেক্টর প্রতি ৫.৬ মেট্রিক টন। 
কৃষি বিভাগের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা প্রভাত কুমার রায় জানালেন,  সাধারনভাবে ব্রি-৬২ ধান উৎপাদন হওয়ার কথা হেক্টর প্রতি ৪.৫ মে.টন। চাষী জুলফিকার আলী ভূট্টোর জমিতে আমন উৎপাদন হয়েছে হেক্টর প্রতি ৫.৬ মেট্রিক টন। 
চাষী জুলফিকার আলী ভূট্টোর জমিতে ব্রি-৬২ ধানের ফলন আশাতিত ভাল হবার কালণ সম্পর্কে জানতে চাইলে অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ গোলাম সামদানী জানান, চাষী জুলফিকার আলী ভূট্টো বরাবরই একজন ভাল চাষী। উন্নত জাতের বীজ, সঠিক বয়সে চারা রোপণ, মুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ সর্বোপরি সঠিক পরিচর্যার কারণে উৎপাদনশীলতা বেড়ে যাওয়ায় তার জমিতে ব্রি-৬২ ধানের ফলন আশাতীতভাবে বেড়ে গেছ।


SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: