১২ আগস্ট, ২০১৬

যশোরে হিযবুত তাহরীরের ৩ সদস্যের আত্মসমর্পণ

যশোরে হিযবুত তাহরীরের তিন সদস্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। সংগঠনটির ‘মোশরেফ’ ও ‘সাবাব’ পদবীর তিনজন ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারীরদের একজন হলেন যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গা কদমতলা এলাকার মৃত শফিয়ার রহমানের ছেলে সাদ্দাম ইয়াসির সজল (৩২)। তিনি হিযবুত তাহরীরের ‘মোশরেফ’ সদস্য।
অপর দুইজন সংগঠনের সাবাব সদস্য। তারা হলেন- যশোর শহরতলীর ধর্মতলা মোড় এলাকার আবদুস সালামের ছেলে রায়হান আহমেদ (২০) ও যশোর শহরতলীর কদমতলা এলাকার একেএম শারাফত মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান পলাশ (২০)।
বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিন জঙ্গি সদস্যের আত্মসমর্পণের ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরেন খুলনা বিভাগের ডিআইজি এস এম মনির-উজ-জামান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে খুলনা বিভাগের ডিআইজি এস এম মনির-উজ-জামান বলেন, ‘তিন জঙ্গি সদস্য যে ভুল পথে গেছে তা বুঝতে পেরেছে। তারা অনুতপ্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। এ জন্য তারা পুলিশের সহায়তা চেয়েছে। আমরা তাদেরকে আইনি সহয়তা দিব।’
তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশ মহাপরিদর্শক ঘোষণা দিয়েছেন যারা জঙ্গিবাদের পথে চলে গেছে, তারা যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায় তবে তাদেরকে আইনি সহায়তা করা হবে। আমরা ওই তিন জঙ্গির অপরাধের ধরণ বিশ্লেষণ করে দেখবো। তারপর পুলিশের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার দ্বার উন্মোচন করা হয়েছে। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।’
যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তিন জঙ্গির অভিভাবকরা যোগাযোগ করেন। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পুলিশের সহযোগিতা চায়। দুপুরে তারা আত্মসমর্পণ করেছে।’
পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘আত্মসমর্পণ করা তিনজনের মধ্যে রায়হানের বিরুদ্ধে একটি মামলা আছে। বাকি দুজনের প্রোফাইল খুঁজে দেখা হচ্ছে। ’
যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের ঘোষণা শুনে ওই তিনজনের অভিভাবকরা যোগাযোগ করে। পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমার্পণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর ও সাদ্দাম ইয়াসির সজলের চাচা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সজলের আব্বা মারা যাওয়ার পর ওদের আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না। এরপর ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে বাড়ি থেকে কয়েক বছর আগে চলে যায় সে। বাড়ির কেউ জানতো না সজল হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে যুক্ত। সজল ওর মাকে ফোনে জানায় সে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছে। সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। সজলের মা টিভিতে পুলিশের আইজি স্যারের বক্তব্য শুনে আমাকে বিস্তারিত জানায়। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের ব্যবস্থা করেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘তিনজনই আমাদের এলাকার ছেলে। ওরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পুলিশের কাছে আইনি সহয়তা চেয়েছে। পুলিশের আশ্বাসের ভিত্তিতে আত্মসমর্পণ করলো।’

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: