১২ জুলাই, ২০১৬

শার্শায় খ্রিস্টান নারীকে হত্যার চেষ্টা

যশোরের শার্শায় মায়া কর্মকার (৪৫) নামে এক খ্রিস্টান নারীকে ঘুমন্ত অবস্থায় দুর্বৃত্তরা গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার গভীর রাতে শার্শা উপজেলার উলাশীর কাছে খাজুরা গ্রামে। মায়া কর্মকার ওই গ্রামের মৃত সূর্যকান্ত কর্মকারের মেয়ে। অবিবাহিতা মায়া দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তার বৃদ্ধা মাকে নিয়ে খাজুরা গ্রামে বসবাস করেন। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রাত তিনটার দিকে দুর্বৃত্তরা মায়া কর্মকারের বাড়িতে হানা দিয়ে ঘরের গ্রিল কাটার চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে তারা বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকা মায়ার শরীরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। এ সময় মায়ার আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে রক্ষা করেন। পরে মায়ার ভগ্নিপতি সলমন দাস ঘটনাস্থলে এসে শার্শা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে রাতেই থানার ওসি মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থলে যান এবং আগুনে দগ্ধ মায়াকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (নাভারন হাসপাতাল) নিয়ে চিকিৎসা দেন। মায়া বর্তমানে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ব্যাপারে মায়া বলেন, ‘আমি দুর্বৃত্তদের কাউকে চিনতে পারিনি। উন্নত চিকিৎসা করার সঙ্গতি নেই। তাই বাড়িতে কবিরাজি চিকিৎসা নিচ্ছি।’ মায়ার ভগ্নিপতি ও গিলাপোল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সভাপতি সলমন দাস বলেন, ‘আমাদের কোনো শক্র নেই। তা সত্ত্বেও যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুভাস চক্রবর্তী বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।’ তিনি এ ধরনের ঘটনা আর যাতে না ঘটে সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার অনুরোধ জানান। শার্শা থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি বর্বর ও দুঃখজনক। পূর্বশত্রুতা বা অন্য কোনো কারণে হয়তো ঘটনাটি ঘটেছে।’ তিনি জানান, এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। অপরাধী যেই হোক তাকে গ্রেফতার করে আইনে সোপর্দ করা হবে। শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি আগুনে দ্বগ্ধ মায়া কর্মকারের খোঁজখবর নেন এবং সরকারিভাবে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি যশোরের জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।’

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: