১২ জুলাই, ২০১৬

বেনাপোল সীমান্তে একদিনে আট হাজারের অধিক যাত্রী পারাপার

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ৯দিন ছুটি শেষে আন্তর্জাতিক বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক বাংলাদেশ ও ভারতের যাত্রী পারাপার হয়েছে। শনিবার দুদেশের আট হাজারের বেশি যাত্রী পারাপার হয়েছেন। এতে সরকারের প্রায় দুই কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য। ঈদুল ফিতরে বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীরা ১ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত টানা ছুটি পান। গত ২৯ মে ভারতীয় হাই কমিশন ঈদে ভারত ভ্রমণ ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য ৪ জুন থেকে ই-টোকেন ছাড়াই সরাসরি ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করা যাবে শীর্ষক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ঈদের আগে ভারতীয় হাইকমিশন ‘ঈদ প্যাকেজ’ এর আওতায় অন্তত ৬০ হাজার বাংলাদেশিকে ভারত ভ্রমণের ভিসা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে স্থলপথের এই চেকপোস্টে। স্বাভাবিক সময়ে গড়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার যাত্রী পারপার হলেও শনিবার এ সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানান চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের উপ-পরিদর্শক জিয়াউল হক জিয়া। গত শনিবার (৯ জুলাই) ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আট হাজার ১০২ জন যাত্রী যাতায়াত করছেন। তবে রোববার দুপুর পর্যন্ত তা কমে ছয় হাজার ৪৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে।” তিনি বলেন, বেনাপোলের শূন্যরেখা থেকে কলকাতার দূরত্ব ৮৪ কিলোমিটার হওয়ায় অল্প সময় ও খরচে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মানুষ যাতায়াত করে, কিন্তু ১ জুলাই থেকে ১০ জুলাই দুপুর পর্যন্ত ৫২ হাজার ৩১২ জন যাত্রী বেনাপোল-হরিদাসপুর চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করেছেন। এ থেকে সরকারের প্রায় দুই কোটি টাকা রাজম্ব আদায় হয়েছে বলে জানান জিয়া। জিয়া আরও বলেন, ১ জুলাই পাঁচ হাজার ৭৭ জন, ২ জুলাই ছয় হাজার ৫৫২ জন, ৩ জুলাই পাঁচ হাজার ৮২ জন, ৪ জুলাই চার হাজার ৯২২ জন, ৫ জুলাই চার হাজার ৫১৪ জন, ৬ জুলাই চার হাজার ৫৫৭ জন, ৭ জুলাই তিন হাজার ৮৪৭ জন এবং ৮ জুলাই তিন হাজার ২০৪ জন যাত্রী বেনাপোল দিয়ে পারাপার হয়েছেন। কম জনবল নিয়ে যাত্রীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হলেও যাত্রীসেবায় ভোগান্তি কমাতে এবং দ্রুত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে ইমিগ্রেশন ভবনে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইমিগ্রেশন চত্বরে পুলিশের জনবলও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান জিয়া।
ভারত ফেরত যাত্রী চট্রগ্রামের আব্দুল  রহমান বলেন, “বেনাপোল চেকপোস্টে বেশ দ্রুত পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্টে প্রবেশের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এমন ভোগান্তিতে আগে কখনও পড়িনি।”
আরেক যাত্রী বাগেরহাটে শ্রীমতি সুমালা বলেন, “খুব স্বাচ্ছন্দে ভারত ভ্রমণ করলেও পেট্রাপোল চেকপোস্টে এসে আমরা অসুস্থ্ হয়ে পড়েছি। দুঘন্টা আমাদেরকে লাইনে দাড়িয়ে থাকতে হয়েছে।”

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: