৩০ জুলাই, ২০১৬

কল্যাণপুর জঙ্গি আস্তানা থেকে মিলেছে জঙ্গিদের ভয়েস রেকর্ড

কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে শুধু যে জঙ্গিদের হাস্যোজ্জ্বল ছবিই পাওয়া গেছে তা নয়, মিলেছে ৯ জঙ্গির অডিও রেকর্ডও। পুলিশি অভিযানে নিহত হওয়ার আগে তারা অস্ত্র হাতে ছবি তোলার পাশাপাশি নিজেদের ভয়েস রেকর্ড করেন।
এই রেকর্ড পাওয়া গেছে ঘটনাস্থলের জব্দকৃত বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস থেকে। ছবির মতো এই ভয়েস রেকর্ডও জঙ্গিরা ডিলিট করে দিয়েছিল। কিন্তু ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের কর্মকর্তারা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বের করে আনেন যে ভয়েস রেকর্ডে জঙ্গিরা তাদের বাবা-মাকে ভুল পথ ছেড়ে জিহাদের পথে আসতে আহ্বান জানিয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের মানুষদের জিহাদের পথে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বেশকিছু বার্তা তুলে ধরেছে ৯ জঙ্গি। এই বার্তা এখন বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। ৯ জঙ্গির কোনো ভিডিও রেকর্ড আছে কিনা তা জানতে জব্দকৃত নানা ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। জব্দকৃত অডিও রেকর্ড জঙ্গিরা বিদেশে তাদের কুশীলবদের কাছে পাঠিয়েছে বলে ধারণা পুলিশের তদন্তকারীদের। জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কতগুলো সেলফোনের কল ইনকামিং ও আউটগোয়িং হয়েছে বিষয়টিও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
সূত্র জানায়, ৯ জঙ্গি যখন বুঝতে পারেন তারা আস্তানা থেকে পালাতে পারবেন না, মৃত্যু অবধারিত তখনই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। এরই অংশ হিসেবে তারা আস্তানাতেই জামাত করে ফজরের নামাজ আদায় করেন। কালো পাজামা-পাঞ্জাবির আগে অথবা পরে তারা অস্ত্রহাতে ছবি তোলে ও প্রত্যেকে আলাদা করে নিজেদের ভয়েস রেকর্ড করেন।

কাউন্টার পুলিশের টেররিজম বিভাগের কর্মকর্তারা গুলশানে জঙ্গি হামলার পর নিহত ৫ জঙ্গির হাস্যোজ্জ্বল ছবি আর কল্যাণপুর থেকে পাওয়া জঙ্গিদের ছবির পাশাপাশি রেখে বিশ্লেষণ করে দেখছেন। দুই ঘটনায় প্রকাশিত ছবির মিল-অমিলও খুঁজছেন। তারা বলছেন, জঙ্গিদের অস্ত্র হাতে হাসিমাখা ছবিতেও জঙ্গিবাদের কিছু বার্তা রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ৯ জঙ্গি জেএমবি সদস্য হলেও নিজেদের আইএস মুজাহিদ প্রমাণ করার জন্য সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু কর্মকান্ড- তাদের করতে হচ্ছে। তার প্রথম কাজ হলো কোনো কিলিং অপারেশনে যাওয়ার আগেই অপারেশন স্কোয়াডকে কালো পাজামা-পাঞ্জাবি পরে পেছনে আইএসের পতাকা দিয়ে ছবি তুলতে হবে। গত বছরের শেষ দিক থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু করে জঙ্গিরা। যার প্রথম বহিঃপ্রকাশ ঘটে গুলশানে জঙ্গি হামলা থেকে।
কল্যাণপুরের তাজ মঞ্জিলের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলের ১০০-১৫০ মিটারের মধ্যে আরও ২টি জঙ্গি আস্তানার খোঁজ পায়। ওই দুটি আস্তানায়ও যে জঙ্গিরা ছিল তা নিশ্চিত হয়েছে কাউন্টার টেররিজম বিভাগের কর্মকর্তারা। তবে সেখানে কোনো জঙ্গি পায়নি। তাদের ধারণা, ওই ২টি আস্তানার জঙ্গিরাও তাজ মঞ্জিলে আসে অভিযানের কয়েক ঘণ্টা আগে। সেখানে চূড়ান্ত অপারেশন ছক তৈরি করতেই অন্য আস্তানার জঙ্গিদের তলব করা হয়েছিল। এদিকে কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে পুলিশ কম্পিউটারে স্কেচ করা একটি ছবি পেয়েছে। যেটাকে জঙ্গিরা বেহেশত যাওয়ার রোডম্যাপ হিসেবেই বলছে।
নতুন জঙ্গিদের প্রশিক্ষণকালে তাদের অপব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গিবাদে ধাবিত করতে এই স্কেচ দেখানো হতো বলে পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গি হাসান। সে পুলিশকে বলেছে, নতুনদের মগজ ধোলাই করতে এই স্কেচ গুরুত্বটপূর্ণ ভূমিকা রাখত। জঙ্গি হামলার মাধ্যমে বিদেশি, পুরোহিত, বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ অন্য ধর্মের মানুষদের মারলে বেহেশতের টিকিট পাওয়া যে সহজ হবে তা বোঝানো হতো নতুন জঙ্গিদের। নতুন আসা জঙ্গিদের ইসলামের নানা অপব্যাখ্যাও দেওয়া হতো বলে হাসান পুলিশকে জানিয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যাকে হাসান অপব্যাখ্যা বলতে নারাজি প্রকাশ করেছে পুলিশের কাছে।
ওদিকে কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের ঘটনায় মিরপুর থানার পরিদর্শক শাহজালাল আলম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে যে মামলা করেছেন তাতে উল্লেখ করেছেন, কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় তামিম চৌধুরী ছাড়াও রিপন, খালিদ, মামুন, মানিক, জোনায়েদ খান, বাদল ও আজাদুল ওরফে কবিরাজ নামে জঙ্গি নেতারা নিয়মিত যাতায়াত করত। তারা ছিল জঙ্গিদের মাথা।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: