১৫ জুন, ২০১৫

যশোর জেলা আ’লীগ সভাপতির বাড়ির সামনে বোমা বিস্ফোরণ

পাঁচ দফা দাবিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৭ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পযন্ত ৪ ঘণ্টা খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড়, আটরা শিল্পা এলাকার ফুটবাড়ী গেট ও নওয়াপাড়া শিল্পা এলাকার জেজেআই জুটমিল গেটের সামনে শ্রমিকরা এ অবরোধ করে। রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্যপরিষদের ঘোষিত ১৮ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে শেষ দিনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মিলের উৎপাদন বন্ধ ছিল। অপরদিকে খালিশপুর শিল্প এলাকার খালিশপুর ও দৌলতপুর জুটমিলের শ্রমিকরা এ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলেও আন্দোলনের কর্মসূচিতে তারা অংশ নেয়নি। এদিকে এ অবরোধের কারণে নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খুলনার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পাটশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে অবিলম্বে মিলগুলোকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনমুখী করার জন্য পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়, পাটপণ্যের দেশীয় বাজার সুরক্ষা ও সমপ্রসারণ করার জন্য প্রণীত আইন ২০০২ ও ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট ২০১০ অবিলম্বে বাস্তবায়ন, পে-কমিশনের ন্যায় অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে শ্রমিকদের জন্য মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন, ১লা জুলাই ২০১৩ ঘোষিত ২০% মহার্ঘ্যভাতা প্রদান ও খালিশপুর, দৌলতপুর, জাতীয় এবং কর্ণফুলী জুট মিলের শ্রমিকদের স্থায়ীকরণের দাবিতে শ্রমিক নেতারা গত ৬ই মে সকাল ১১টায় রাজধানীর তোপখানা রোগস্থ সৈয়দ আসাদ মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সম্মেলনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত জুটমিল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্যপরিষদের আহবায়ক ক্রিসেন্ট জুটমিলের সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন বিক্ষোভ-মিছিল, সমাবেশ, ধর্মঘট ও রাজপথ-রেলপথ অবরোধসহ ১৮ দিনের  কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শেষ দিনে খুলনা-যশোর অঞ্চলের খালিশপুরের ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, দিঘলিয়ার স্টার, আটরা শিল্প এলাকার আলীম, ইস্টার্ন, নওয়াপাড়া শিল্প এলাকার জেজেআই ও কার্পেটিং জুটমিলের শ্রমিক মিলের উৎপাদন বন্ধ করে সকাল সাড়ে ৯টায় নিজ নিজ মিল গেটে সমবেত হয়। সেখানে পৃথক পৃথকভাবে শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করে শ্রমিক নেতারা। খালিশপুর ক্রিসেন্ট জুটমিলের শ্রমিক ক্লাবের সামনে শ্রমিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিবিএর সভাপতি মো. দ্বীন ইসলাম।
সমাবেশ শেষে নিজ নিজ মিল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। শ্রমিকদের মিছিল খালিশপুর বিআইডিসি রোড হয়ে দৌলতপুর নতুন রাস্তা মোড়ে খুলনা-যশোর মহাসড়ক ও রেললাইনের ওপর অবস্থান করে রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। অন্দোলনকারীরা খুলনা-যশোর মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ও রেললাইনের উপর বিক্ষোভ করে। এ সময় শ্রমিকরা প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা অবরোধ করে রাখে। এ কর্মসূচি চলাকালে সকল ট্রেন যোগাযোগ এবং খুলনা-যশোর মহাসড়কের সকল প্রকার যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
অপরদিকে আটরা শিল্পাঞ্চল এলাকার আলীম ও ইস্টার্ন জুটমিল গেটের খুলনা-যশোর মহাসড়কে এবং নওয়াপাড়া শিল্প এলাকার জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিল গেটের খুলনা-যশোর মহাসড়কে অবস্থান করে রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে শ্রমিকরা। সকাল সাড়ে ৯টায় আলীম ও ইস্টার্ন জুটমিল গেটে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আলীম জুটমিলের শ্রমিক সমাবেশ সভাপতিত্ব করেন সিবিএ’র সভাপতি আবদুস সালাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশীদ, সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম লিঠু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ সরদার, মুজিবর রহমান, মকবুল হোসেন। ইস্টার্ন জুটমিলের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিবিএ’র সভাপতি মো. আলাউদ্দীন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এস এম জাকির হোসেন, তবিবর রহমান, আলমগীর হোসেন, সিরাজুল ইসলাম লিয়াকত হোসেন।
নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চল এলাকার জেজেআই ও কার্পেটিং জুটমিলের শ্রমিকরা অনুরূপ কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচি চলাকালে জেজেআই মিল গেটের এক সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিবিএ’র সভাপতি হাসান উল্লাহ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক হারুন আর রশিদ মলিক, আলতাফ হোসেন, আইয়ুব আলী। কার্পেটিং জুটমিলের সমাবেশ বক্তব্য রাখেন সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ওহাব।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: