১০ জুন, ২০১৫

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি দম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ বানিজ্য ও জামায়াত প্রীতির সুনিদৃষ্ট অভিযোগ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্র্য প্রফেসর আব্দুস সাত্তার ও তার স্ত্রী নাসিমা আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ বানিজ্য ও জামায়াত-শিবির প্রীতির সুনিদৃষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, উপাচার্র্য হিসেবে প্রফেসর আব্দুস সাত্তার ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী নিয়োগ বানিজ্যে নেমে পড়েন। তাদের ঘুষ বানিজ্যের একাংশ উল্লেখ করলেই সকলেই হতবাক হয়ে যাবেন। কারন ভিসি দম্পত্তির সততার মুখোশের ভিতর এতো দুর্নীতির খবর মিলেছে যে, গাঁ শিউরে উঠবেই। ভিসির সন্তানকে বাসায় গিয়ে পড়াতেন জাহাঙ্গীর আলম নামের এক যুবক। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। ভিসির স্ত্রী নাসিমা আক্তার ৭ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে জাহাঙ্গীরকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী পদে নিয়োগ দিয়েছেন। যশোরের মণিরামপুর উপজেলার জামলা গ্রামের হুমায়ুন কবীর। তিনি সরাসরি ছাত্র শিবিরের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ভিসির স্ত্রী ৬ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে স্বামীকে দিয়ে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।একই উপজেলার খানপুর গ্রামের নেংড়া সোহাগ। তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে স্বামীকে দিয়ে প্রথমে মাষ্টারোলে নিজ বাসায় পিয়ন হিসেবে নিয়োগ ও পরে স্থায়ী করে ক্যাম্পাসে পাঠানো হয়েছে। মণিরামপুরের চন্ডিপুর গ্রামের সেলিনা খাতুনকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ দেয়া হয় ভিসির স্ত্রীর তদ্বিরে। এ জন্য নাসিমা আক্তার নগদ ৭ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন,যেটা এলাকার সকলেই জানেন। কারন ঘুষটা নেয়া হয়েছে প্রকাশ্যে। একই গ্রামের লিটনকে প্রথমে মাষ্টাররোলে চতুর্র্থ শ্রেনীর হিসেবে চাকরী দেয়া হয়। এই চাকরীর জন্য লিটনের পিতা নূরুল ইসলামের কাছ থেকে পানিছত্র মৌজা থেকে ১৯ শতক জমি রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছেন ভিসির স্ত্রী নিজ নামে। পরে লিটনের চাকরী স্থায়ী করা হয়েছে। চন্ডিপুর গ্রামের মারুফ একজন শিবির কর্মী। তাকে মাষ্টাররোলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এজন্য মারুফের পিতা নিছার উদ্দিন ভিসির স্ত্রীর নামে পানিছত্র মৌজা থেকে ৯ শতক জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন। আর নগদ আরো ৪ লাখ টাকা। ওই টাকা যোগাড়ে নিছার উদ্দিন ভিসির আপন সেজো ভাই আব্দুর রশিদের কাছে জমি বিক্রি করেন। একই গ্রামের সুমন,বিএনপির সক্রিয় কর্মী। তার কাছ থেকে ৯ শতক জমি ও নগদ ৩ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে ভিসির স্ত্রী তার স্বামীকে দিয়ে মাষ্টাররোলে নিয়োগ করিয়ে আপাতত নিজ বাসায় দায়িত্বে রেখেছেন। মণিরামপুর উপজেলার ঘিবা গ্রামের রবিউল ইসলামের কাছ থেকে ভিসির স্ত্রী ৩ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে খাদেম পদে চাকরী দিয়েছেন। ঘুষের টাকা পরিশোধ না হওয়ায় দীর্ঘদিন তার নিয়োগ ঝুলিয়ে রাখা হয়। এলাকার প্রায় সকলেই ওই ঘুষ লেনদেনের কথা জানে। মণিরামপুরের পাড়দিয়া গ্রামের ওমর ফারুক একজন সক্রিয় শিবির কর্মী। ভিসি আব্দুস সাত্তারের আপন মামাতো ভাই হলেও ভিসির স্ত্রী ৪ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে চাকরী দিয়েছেন বলে অভিযোগ। শয়লা গ্রামের আকরামুল ইসলাম সক্রিয় জামায়াত কর্মী। ভিসির আত্নীয় হলেও স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে ঘুষ দিয়ে পেশ ঈমাম পদে চাকরী পেয়েছেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ক্রয় নন টেন্ডারের কাজগুলো কাগজে কলমে অন্য ব্যবসায়ীদের দেখানো হলেও অধিকাংশই ভিসির স্ত্রী সুবিধা ভোগ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ করা হয়েছে কাশিপুর কাঠালতলার আশিকুর, রাজগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন ফার্নিচারের দোকানে।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: