১৫ জুন, ২০১৫

সাত কলেজকে শোকজ করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড

শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের না জানিয়ে অনলাইনে এইচএসসিতে ভর্তির আবেদন করায় সাতটি কলেজেকে শোকজ করেছে যশোর শিক্ষাবোর্ড। অভিভাবকদের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
কলেজ সাতটি হলো যশোর চৌগাছার এবিসিডি কলেজ, পাশাপোল আমজামতলা কলেজ, চৌগাছা জিসিবি কলেজ, চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজ, চৌগাছা ডিগ্রি কলেজ, খুলনা পাইকগাছার লক্ষ্মীখোলা কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজ ও মাগুরা শালিখার আড়পাড়া কলেজ। এছাড়া যশোরের তালবাড়িয়া কলেজও একই অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
এ বছর উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনলাইনে আবেদনের উপর জোর দিয়েছে। অনলাইনে শিক্ষার্থীর রোল নম্বর, মোবাইল নম্বর দিয়ে পছন্দের ৫কলেজের নাম উল্লেখ করতে হচ্ছে। ওই আবেদনের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কলেজ সিলেকশন করে দেবেন। আর এটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে প্রতারণায় নামে একটি চক্র। এসএসসির ফল প্রকাশের পর অপেক্ষকৃত প্রচারহীন কলেজগুলোর কতিপয় শিক্ষক ও কর্মচারী শিক্ষার্থী সংগ্রহের জন্য নিজে থেকে শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদন করে দেন। ওই আবেদনে চক্রটি তাদের পছন্দের কলেজকে শীর্ষে রাখে। এতে করে আবেদন করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা। সমস্যা থেকে পরিত্রাণ চেয়ে শিক্ষার্থীরা যশোর শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেন।
যশোর সদর উপজেলার ছোট গোপালপুরের আইয়ুব হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেন ঘুরুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার ইচ্ছা ছিল শহরের ভাল কোন কলেজে ভর্তি হওয়া। কিন্তু সদর উপজেলার তালবাড়িয়া কলেজ কর্তৃপক্ষ সাকিবের রোল নম্বর ম্যানেজ করে অনলাইনে ভর্তির আবেদন করিয়েছে। এ বিষয়ে সে ইতিমধ্যে যশোর শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ দিয়েছে।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অমল কুমার বিশ্বাস জানান, তারা এ ধরণের অসংখ্য অভিযোগ পেয়েছেন। সমস্যা সমাধানে তারা আবেদনগুলো বুয়েটের আইসিটি টিমের কাছে পাঠিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা বিষয়টি তদন্ত শুরু করেন। এতে সাতটি কলেজের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। যে কারণে ওই সাতটি কলেজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, একই ধরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে যশোর সদর উপজেলার তালবাড়িয়া কলেজের বিরুদ্ধে। বোর্ডের চেয়ারম্যান না থাকায় এ কলেজটির বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে পরবর্তীতে তাদেরও শোকজ করা হতে পারে বলে জানান তিনি।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: