১৫ জুন, ২০১৫

মার্কিন হামলায় উত্তর আফ্রিকার শীর্ষ জঙ্গি নেতা নিহত

লিবিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় উত্তর আফ্রিকার শীর্ষ জঙ্গি নেতা মোখতার বেলমোখতার নিহত হয়েছেন। দুই বছর আগে আলজেরিয়ার একটি গ্যাস প্লান্টে জঙ্গিদের চালানো প্রাণঘাতী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও উত্তর আফ্রিকাজুড়ে চোরাকারবারের রুট
পরিচালনাকারী ইসলামি জঙ্গি নেতা ছিলেন বেলমোখতার। লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর আজদাবিয়ায় চালানো ওই বিমান হামলায় বেলমোখতার ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন জঙ্গি নিহত হয়েছেন বলে রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে লিবীয় সরকার। এক সময়ের ইসলামিক মাগরেবের আল কায়েদা (একিউআইএম) নেতা বেলমোখতার উত্তর আফ্রিকা ও সাহেল অঞ্চলের বিদ্রোহীদের অন্যতম নেতা ছিলেন। ওই এলাকায় মোতায়েন ফরাসি বাহিনী তার নাম দিয়েছিল ‘আনক্যাচেবল’ (অধরা)।
তবে, এর আগে বেশ কয়েকবার তার নিহত হওয়া নিয়ে ভুল প্রতিবেদন দেয়া হয়েছিল।
বেলমোখতারই বিমান হামলার লক্ষ ছিল, এটি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন, কিন্তু সে নিহত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছু বলেনি।
লিবীয় সরকারের বিবৃতির আগে এক সংবাদ সম্মেলনে পেন্টাগন জানিয়েছিল, শনিবার রাতে লিবিয়ায় আল কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি লক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি হামলা পরিচালনা করেছে।
সম্মেলনে পেন্টাগনের মুখপাত্র স্টিভ ওয়ারেন বলেন, ‘এই অভিযানের ফলাফলের তথ্য সংগ্রহ করে যাচ্ছি আমরা, সঠিক তথ্য জানার পর বিস্তারিত জানাবো।’
এর কিছু সময় পর লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এক বিবৃতিতে বলে, ‘লিবীয় সরকার লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল থেকে নিশ্চিত করছে, গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানগুলো একটি বিমান হামলা পরিচালনা করেছে, আর তার ফলে সন্ত্রাসী বেলমোখতার নিহত হয়েছেন।’
এই বিবৃতির বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে পেন্টাগনের অপর মুখপাত্র ইলেন লাইনেজ জানান, ওই হামলার বিষয়ে তার কাছে অতিরিক্ত কোনো তথ্য নেই।
আলজেরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী বেলমোখতার ইসলামিক মাগরেবের আল কায়েদার (একিউআইএম) জ্যেষ্ঠ নেতা ছিলেন। পরে একিউআইএম ছেড়ে নিজস্ব জঙ্গিদল গঠন করেন তিনি। তবে নিজস্ব জঙ্গিদল গঠন করলেও আল কায়েদার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ধরে রাখেন।
২০১৩ সালে আলজেরিয়ার আমেনাস গ্যাসফিল্ডে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে বেলমোখতার কুখ্যাত হয়ে উঠেন। ওই গ্যাসফিল্ডে কর্মরত প্রায় ৮০০ জনকে জিম্মি করে বেলমোখতারের জঙ্গিরা। এদের মধ্যে ৪০ জনকে হত্যা করে।
নিহত ৪০ জনের অধিকাংশই ছিলেন বিদেশী। এদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ছয় ও যুক্তরাষ্ট্রের তিন নাগরিক ছিলেন।
অনেকদিন ধরেই বেলমোখতার সাহারা অঞ্চলের চোরাকারবার, জিম্মি করা, অস্ত্র চোরাচালান ও বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার নিহত হওয়ার দাবি সত্য হলে ওই এলাকার সন্ত্রাসবাদের একটি যুগের অবসান হবে। সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: