১০ জুন, ২০১৫

যশোর অঞ্চলে খরায় পুড়ছে পাটক্ষেত

যশোর অঞ্চলে প্রচ- খরায় পাটক্ষেত পুরে যাচ্ছে। যশোর অঞ্চলের ৬ জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটচাষ হলেও খরার কারণে উৎপাদন ভালো না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেউ কেউ সেচ দিয়েও পাট রক্ষার চেষ্টা করছেন।
গ্রীষ্মের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ক্ষেতের পাট শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। এবার খরার কারণে কৃষকরা সেচ দিয়ে জমিতে পাটবীজ বপন করেছিলেন। এরপর কয়েক দফায় সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও বেশ কিছুদিন ধরে টানা খরায় পাটগাছ মারা যাচ্ছে। যশোর আবহাওয়া অফিস জানায়, যশোরে গত ৩ দিন ধরে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, যশোর অঞ্চলের ৬ জেলায় এবার ১ লাখ ৫১ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। সে স্থলে ১ লাখ ৫৮ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে যশোরে ২৪ হাজার ৪৪০ হেক্টর, ঝিনাইদহে ২০ হাজার ৩২০ হেক্টর, মাগুরায় ৩৩ হাজার ৫৯০, কুষ্টিয়ায় ৩৭ হাজার ৫২০, চুয়াডাঙ্গায় ১৮ হাজার ৫০০ ও মেহেরপুরে ২৩ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে পাটচাষ হয়েছে। গত বছর ৬ জেলায় ১ লাখ ৫১ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল।
যশোর সদর উপজেলার তরফ নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল হালিম জানান, টানা খরার কবলে মাঠে পাট, মুগকালাই ও সবজি গাছ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। খরার কবলে পড়ায় এসব ফসলের আশানুরূপ উৎপাদন হবে না। সেচ দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। তাছাড়া এভাবে টানা সেচ দিয়ে চাষাবাদ করা সম্ভব নয়। কৃষক খাজা আহমেদ জানান, তীব্র খরার কারণে ক্ষেতের পাট শুকিয়ে যাওয়ায় ফলন বিপর্যয় হবে। চড়া দামে জ্বালানি তেল কিনে সেচ দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়। এতে ব্যয় বেড়ে যাবে।
ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, খরায় বেশির ভাগ ক্ষেতের পাটের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ সেচ দিয়ে পাট রক্ষার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রচ- খরার কারণে সেচ দিলেও ক্ষেত দু'একদিনের মধ্যে শুকিয়ে যাচ্ছে। বোরো ধানের দরপতনের কারণে বেশির ভাগ কৃষক অতিরিক্ত টাকা খরচ করে সেচ দিতে পারছেন না। দু'একদিনের ভেতর বৃষ্টি না হলে এবার পাট উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটবে। যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নাসির উদ্দিন পাটচাষিদের সেচ দেয়ার পরামর্শ দিয়ে জানান, দুর্যোগে কৃষি বিভাগের কিছু করার থাকে না। মাঠকর্মীরা কৃষকদের সেচ দেয়ার জন্য সচেতন করছেন।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: