৯ মে, ২০১৫

যশোরে ভুল চিকিৎসায় যশোর ক্যান্টমেন্ট কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী , প্রকৌশলী সাথীর মৃত্যু

যশোরে ভুল চিকিৎসায় ফাতেমা তুজ জোহরা সাথী নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পায়ে আঘাত পেয়ে ১২ দিন আগে শহরের বেসরকারি ক্লিনিক কুইন্স হসপিটালে ভর্তি হন জোহরা। চিকিৎসা দিতে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অ্যানেসথেশিয়ার (অজ্ঞান) অতিরিক্ত ডোজ দেয়া হয়। এরপর থেকে আর তার জ্ঞান ফেরেনি। শুক্রবার সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ফাতেমা তুজ জোহরা যশোর সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি যশোর শহরের ঘোপ বেলতলা পলিটেকনিক্যাল কলেজ রোডের বাসিন্দা এবং যশোর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ইলেট্রিক্যাল বিভাগের ইন্সক্টটর সুলতান আহম্মেদের মেয়ে এবং তার স্বামীর নাম খন্দকার পারভেজ নাহিদ। সাথী ২০০২ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।  ইশরা নামে তার সাড়ে চার বছরের এক শিশু সন্তান রয়েছে। চিকিৎসকের ভুলে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুল চিকিৎসার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্র জানায়, সহকারী প্রকৌশলী ফাতেমা তুজ জোহরা পায়ে আঘাত পেয়ে গত ২৬ এপ্রিল শহরের বেসরকারি ক্লিনিক কুইন্স হসপিটালে ডা. কর্নেল মোকলেছুর রহমানের অধীনে ভর্তি হন। সন্ধ্যায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। সেখানে রোগীকে অজ্ঞান করতে ডা. কর্নেল আসকারের তত্ত্বাবধানে অ্যানেসথেশিয়ার ডোজ দেয়া হয়। কিন্তু পরে রোগীর আর জ্ঞান ফেরেনি। অবস্থার অবনতি হলে ২৭ এপ্রিল জোহরাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়া হয়। সেখানে দুদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর রোগীকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিনেও তার জ্ঞান ফেরেনি। শুক্রবার সকালে ওই হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়।
ফাতেমা তুজ জোহরার বাবা সুলতান আহমেদ অভিযোগ করেন, অ্যানেসথেশিয়ার (অজ্ঞান) বেশি ডোজ দেয়ায় তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ফাতেমাতুজ্জাজোহরার সাথীর স্মামী খন্দকার পারভেজ নাহিদ জানান, গত ২৬ এপ্রিল অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে মটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে সাথী আহত হন। এরপর তাকে কুইন্স হসপিটাল যশোরে ভর্তি করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কুইন্স হসপিটালের ব্যবস্থাপক মিঠু সাহা বলেন, চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ ভালো সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তার মৃত্যুতে যশোর ঘোপ বেলতলা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শুক্রবার বিকালে যশোর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের মাঠে জানাজা শেষে ঘোপ কবরস্থানে দাফন করা হয়।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: