২২ মে, ২০১৫

থাইল্যান্ডে পাচারের অভিযোগে যশোর আদালতে মামলা

মণিরামপুর উপজেলার ফতেয়াবাদ গ্রামের লিয়াকত দফাদার নামে এক ব্যক্তিকে মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে থাইল্যান্ডে পাচারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল দুপুরে ভুক্তভোগী লিয়াকত দফাদার তিনজনকে আসামি করে যশোর মানবপাচার প্রতিরোধ দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলা করেন। যশোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অভিযোগটি গ্রহণ করে মণিরামপুর থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করার আদেশ দেন।
আসামিরা হলো মণিরামপুরের রতনদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল শেখের ছেলে আব্দুল লতিফ ওরফে খোঁড়া লতিফ, একই এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে শাহাবুদ্দিন ও মৃত আবুল শেখের ছেলে ফারুক হোসেন।
অভিযোগে জানা গেছে, আসামিরা এলাকার চিহ্নিত মানবপাচার চক্রের সদস্য। কয়েক বছর আগে খোঁড়া লতিফ পাকিস্তানে মানুষ পাচার করতে গিয়ে ভারতের পুলিশের হাতে আটক হয়। কুচবিহার জেলে দুই বছর কারাবাসের পর লতিফ দেশে ফিরে আসে। এরপর লতিফ ও তার দুই সহযোগী এলাকার লোকজনকে ভালো বেতনে মালয়েশিয়ায় চাকরি দিচ্ছে বলে জানায়। ২০১৩ সালের মাঝামাঝি লতিফ ও শাহাবুদ্দি ফতেয়াবাদ গ্রামের লিয়াকত দফাদারকে মালয়েশিয়া চাকরির প্রস্তাব দেয়। তাদের কথায় রাজি হয়ে লিয়াকত আসামি লতিফকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন। বাকি ২ লাখ টাকা বাবদ আসামি শাহাবুদ্দিনকে বসতভিটার চার শতক জমি লিখে দেন লিয়াকত। ২০১৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর বৈধভাবে লিয়াকতকে মালয়েশিয়া পাঠানোর উদ্দেশে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামি লতিফ ও তার দুই সহযোগী লিয়াকতকে প্রথমে ঢাকায় ও পরে কক্সবাজার নিয়ে মালয়েশিয়া নিয়ে যাবে বলে জাহাজে ওঠায়। কয়েকদিন সাগরে রেখে তারা তাকে থাইল্যান্ডে নিয়ে বিক্রি করে দেয়। এর মধ্যে থাইল্যান্ডের পুলিশ লিয়াকতকে আটক করে। আসামি আব্দুল লতিফ লিয়াকতকে থাইল্যান্ড থেকে ছাড়িয়ে আনার কথা বলে তার স্ত্রীর কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নেয়। ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর লিয়াকত দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসেন।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: