২৯ মে, ২০১৫

৪ মাস ধরে বন্ধ যশোর জেলা বিএনপি অফিস

প্রায় ৪ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে যশোর জেলা বিএনপির কার্যালয়। একের পর এক মামলায় শীর্ষ নেতারা হয় আত্মগোপনে, না হয় কারাগারে থাকায় এ পরিস্থিতি চলছে। দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির নেতাকর্মীরাও গ্রেফতারের ভয়ে দলীয় কার্যালয়ে যান না। ফলে এক সময়ের জমজমাট জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এখন ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। জেলা বিএনপির শুধু প্রধান কার্যালয় নয়, শহরে বিএনপির যে সব আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে সেগুলোও বন্ধ রয়েছে মাসের পর মাস ধরে।
শহরের লালদীঘির পূর্বপাড়ে অবস্থিত যশোর জেলা বিএনপির কার্যালয়। দ্বিতল এ ভবনটিতেই অবস্থিত নগর বিএনপিসহ যুবদল এবং ছাত্রদলেরও কার্যালয়। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ কার্যালয়টি নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সবসময় থাকত জমজমাট। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত নেতাকর্মীরা ছুটে আসতেন এখানে। তারপর গভীর রাত পর্যন্ত তারা দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও রাজনৈতিক আড্ডায় সময় কাটাতেন। হতো দলীয় বিভিন্ন সভা-সমাবেশও। কিন্তু বিগত জানুয়ারি মাস থেকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সরকার পতন আন্দোলন শুরু করার পর থেকে পাল্টে যায় চিত্র। যশোর শহর ও শহরতলিতে নাশকতামূলক যেসব ঘটনা ঘটে তার সবগুলোতেই জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়। পুলিশ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব, সহ-সভাপতি রফিকুর রহমান তোতন, ফজলে রাব্বি মোপাশা, যুগ্ম-সম্পাদক আবদুস সালামসহ আরো অনেককে গ্রেফতার করা হয়। শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হয় কারাগারে না হয় আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় আস্তে আস্তে শূন্য হতে থাকে দলীয় কার্যালয়। তবে এ অবস্থার মধ্যেও মাঝে মধ্যে কেউ কেউ দলীয় কার্যালয় খুললেও প্রায় ৪ মাস ধরে জেলা বিএনপির কার্যালয়টি একেবারেই বন্ধ রয়েছে। মামলা নেই, এমন নেতাকর্মীরাও আর ওদিকে যান না।
কেন বিএনপি কার্যালয় খোলা হয় না জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, দলীয় কার্যালয় তো দূরের কথা বিএনপি নেতাকর্মীদের রাস্তাতেই নামতে দিচ্ছে না পুলিশ। কাউকে পেলেই তাকে আটক করা হচ্ছে। এ ছাড়া দলীয় কার্যালয়ে দোয়া বা মিলাদ মাহফিল করা হলে সেখান থেকেও নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জš§দিন উপলক্ষে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠান থেকে নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহের প্রস্তুতির অভিযোগে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুর রহমান তোতন, যুগ্ম-সম্পাদক আবদুস সালামসহ ১১ জন বিএনপির নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। এরপর থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা গ্রেফতার এড়াতে আর কার্যালয়ের দিকে যান না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন থাকবে না। পরিস্থিতি ঘুরে গেলে আবারো জমজমাট হয়ে উঠবে জেলা বিএনপির কার্যালয়।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: