২৮ মে, ২০১৫

খুলনা-যশোরে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে তাঁত বন্ধ

প্রয়োজনীয় পাটের অভাব এবং যন্ত্রপাতি পুরনো হয়ে  যাওয়ায় খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৭টি পাটকলের অধিকাংশ তাঁত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অন্তত ১০ হাজার শ্রমিককে বেকার সময় কাটাতে হচ্ছে। একদিকে উত্পাদন কমছে, অন্যদিকে উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মিলগুলোতে লোকসানের বোঝা বাড়ছে। আরো কিছুকাল এভাবে      চলতে থাকলে পাটকলগুলোকে সচল রাখা মুশকিল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে।  
 
এ অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো হচ্ছে— খালিশপুর, কার্পেটিং, স্টার, জেজেআই, আলীম, ইস্টার্ন ও কার্পেটিং জুটমিল। ক্রিসেন্ট মিলে ১,০৬৫টি তাঁতের মধ্যে চালু আছে ৪৮৪টি। প্লাটিনাম জুবিলি জুটমিলে তাঁতের সংখ্যা ৭৮৫টি, সচল আছে ৩৫০টি। ইস্টার্ন জুটমিলের ২২৫টি তাঁতের মধ্যে চালু আছে ১৩৮টি। স্টার জুটমিলের ৫২০টি তাঁতের মধ্যে চলছে ২৮০টি। আলীম জুটমিলের ১৯৫টি তাঁতের মধ্যে ৯৭টি চালু আছে। পর্যাপ্ত পাটের মজুদ না থাকায় ৭টি জুটমিলের প্রায় দুই তৃতীয়ংশ তাঁতই বন্ধ।
 
এ অঞ্চলের ৭ জুট মিলে সবমিলিয়ে শ্রমিকের সংখ্যা ২০ হাজারের কিছু বেশি। পর্যাপ্ত পাট না থাকায় এবং তাঁত বন্ধ রাখার কারণে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বদলী ও ক্যাজুয়াল শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি। রাষ্ট্রায়ত্ত সাতটি পাটকলে বছরে ৭ লাখ ৮৫ হাজার কুইন্টাল পাটের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু মিলগুলো এ পর্যন্ত চাহিদার অর্ধেকেরও কম পাট কিনতে পেরেছে বলে জানা গেছে। পর্যাপ্ত অর্থের জোগান না থাকায় মিলগুলোর পক্ষে চাহিদামত পাট ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না।
 
মিলের উত্পাদন ক্ষমতা যা রয়েছে পাটের অভাবে উত্পাদন হচ্ছে তার অনেক কম। দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহারের ফলে অনেক তাঁতই অচল হয়ে গেছে। ক্রিসেন্ট জুটমিলের উত্পাদন ক্ষমতা ৯২ দশমিক ৯৭ টন। সেখানে এখন উত্পাদন হচ্ছে ৩৮ টনের মত। গত ৮ মাসে মোট আয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৯৯ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। আর ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৯৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। প্লাটিনাম জুটমিলের উত্পাদন ক্ষমতা ৭৭ দশমিক ৭৫ টন। বর্তমানে উত্পাদন ২০ থেকে ২২ টন। আলিম জুটমিলের উত্পাদন ক্ষমতা প্রায় ২৭ টনের স্থলে উত্পাদন হচ্ছে গড়ে ৮-৯ টন। ইস্টার্ন জুটমিলে বর্তমানে উত্পাদন হচ্ছে গড়ে ১০ টন। কিন্তু এ মিলের উত্পাদন ক্ষমতা রয়েছে ২৪ টন। একইভাবে জেজেআই মিলে উত্পাদন ক্ষমতা ৩২ দশমিক ০৫ টনের স্থালে ১০/১২ টন; স্টার জুটমিলে উত্পাদন ক্ষমতা ৫১ দশমিক ৫৭ টনের স্থালে গড়ে ২০ টন; প্লাটিনাম জুটমিলে উত্পাদন ক্ষমতা ৭৭ দশমিক ৭৫ টনের স্থালে গড়ে ৩০ টন এবং কার্পেটিং জুট মিলে উত্পাদন ক্ষমতা ১২ দশমিক ৪২ টনের স্থালে ৪/৫ টন পাটজাত দ্রব্য উত্পাদন হচ্ছে।
 
পাট, সুতা ও বস্ত্রকল শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের আঞ্চলিক নেতা মোঃ খলিলুর রহমান জানান, এ অঞ্চলের পাটকলগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রয়োজনীয় পাট কেনা যাচ্ছে না। এ ছাড়া মিলগুলোতে প্রতি মাসে ব্যাংক সুদের ঝামেলা তো রয়েছেই। এছাড়া শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া মজুরি, বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড গ্রাচ্যুইটি, পাট ও অন্যান্য খাতে কয়েক কোটি টাকা মিলের দেনা রয়েছে। এসব দেনা মওকুফের ব্যবস্থা করে অর্থায়ন করতে পারলে মিলগুলোকে লাভজনক করে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: