১৮ মে, ২০১৫

যশোরে বিলুপ্তপ্রায় দেশী মাছ চাষে কোটিপতি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুস্বাদু পানির ২৬০ জাতের দেশী মাছ যখন প্রায় বিলুপ্তির পথে তখন যশোরের চাঁচড়ার রামপ্রসাদ বর্মণ এই মাছের চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন। মাত্র ছয় বছরে তিনি বিন্দু থেকে বৃত্তে পৌঁছেছেন। ২০০৯ সালে তিনি দেশী জাতের শিং মাছের চাষ শুরু করেন। এখন প্রতি বছর তার কোটি টাকার বেশি আয় হচ্ছে।
মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট যশোর সাবস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আগে সুস্বাদু পানির ২৬০ জাতের মাছ পাওয়া যেত। আশঙ্কাজনকহারে এসব মাছের বিলুপ্তি ঘটছে। অনেক প্রজাতির মাছের এখন যায় যায় অবস্থা। সব মানুষের প্রিয় কৈ, মাগুর, শিং, ট্যাংরা, পাবদা, পুঁটি, ভেদা, খলিশা, বেলে, চান্দা, শোল, বোয়াল, টাকি, বাইন, মলা, ঢ্যালা, প্রভৃতি মাছ দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। এর প্রধান কারণ মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার। এর ফলে মাছের বংশ ধ্বংস হওয়া ছাড়াও প্রজনন ক্ষমতা লোপ পেয়েছে।
মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট যশোর সাবস্টেশনের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শফিকুজ্জোহা জানান, এই এলাকার ৪৪ থেকে ৪৬ জাতের দেশী মাছের বিলুপ্তি ঘটেছে। আরো কয়েকটি জাত বিলুপ্তির পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে মহাশোল, ভেদা, ট্যাংরা, খলিশা, শিং প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহ এসব জাতের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কাজ করছে।
দেশী মাছের বিলুপ্তি রোধ ও এর চাহিদার ভিত্তিতে রামপ্রসাদ বর্মণ এই মাছ চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি প্রথমে শিং মাচ চাষের সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৯ সালে ময়মনসিংহ থেকে পোনা সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন।
তিনি জানান, শিং মাছ চাষ করে গত বছর দুই দফায় ৮৮ টন মাছ বিক্রি করেছেন। যার মূল্য চার কোটি টাকারও বেশি। মাছের খাবার, ওষুধ, ১৫ জন কর্মচারীসহ বিভিন্ন খাতে তার বছরে তিন কোটি টাকার কিছু বেশি খরচ হয়। এতে তিনি কোটি টাকার ওপরে লাভের মুখ দেখেছেন। বর্তমানে তার ৩৫ বিঘার নিজস্ব মাছের ঘের রয়েছে। এরমধ্যে ২১ বিঘাতেই শিং মাছের চাষ করছেন। তার দেখাদেখি এলাকার অনেকেই এখন এই মাছের চাষ শুরু করেছেন।
রামপ্রসাদ বর্মণ জানান, তিনি ১৯৭৮ সালে কিশোর বয়স থেকে অভাবের সংসারে বাবার সাথে পরের ঘেরে মাছের জাল টানার কাজ শুরু করেন। সে সময় দু’জনে মিলে দিনে চার টাকা মজুরি পেতেন।
কয়েক বছর পর যশোর শহরের মুড়লী মোড়ে একটি ছোট পুকুর লিজ নিয়ে সাদা মাছের রেণু পোনা উৎপাদন করে মোটামুটি স¦াবলম্বী হন তিনি। এরপর আরো তিনটি পুকুর লিজ নিয়ে শুরু করেন মাছ চাষ।
রামপ্রসাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, চাঁচড়া নদের মোড়ে এখন শোভা পাচ্ছে দোতলা দালান। অথচ এক সময় তিনি বাস করতেন জীর্ণ কুটিরে। তার তিন মেয়ে লেখাপড়া করছে। সবমিলিয়ে মাছ চাষে রামপ্রসাদ সমৃদ্ধ জীবনের পথ পেয়েছেন। দেশী জাতের শিং মাছ চাষে সফল হওয়ার পর এখন তিনি দেশী জাতের আরো অনেক মাছের চাষ শুরু করতে চান।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: