২৩ মে, ২০১৫

যৌতুক না পেয়ে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়েছে স্বামী-স্বজনেরা

যশোরে নাসিমা বেগম (২৭) নামে এক গৃহবধূকে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়েছে তার স্বামী ও স্বজনেরা। যৌতুকের টাকা না পেয়ে তারা ওই গৃহবধূর ওপর এই নির্যাতন চালায়। বুধবার ভোরে যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। নাসিমার স্বামীর নাম জামাল খান। একই উপজেলার হাটবিলা গ্রামের হাসান হাওলাদারের মেয়ে তিনি। নাসিমাকে বুধবার সকালে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় বুধবার ভোরে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর মিলে ঘরের আলো বন্ধ করে ধারালো গাছি দা দিয়ে নাসিমাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে তার চিৎকারে আশপাশের লোক ছুটে আসেন। এ সময় দৌঁড়ে পাশের বাড়ি আশ্রয় নেন নাসিমা। সেখান থেকে রিজিয়া বেগম নামে এক মহিলা নাসিমার বাবার বাড়ি মোবাইল ফোনে ঘটনাটি জানান। খবর পেয়ে ভাই মহিদ হাওলাদারসহ অন্যরা ছুটে এসে পাশেই নরেন্দ্রপুর পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশের সহযোগিতায় নাসিমাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মাথা, গলা, হাত, মুখসহ বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। নাসিমার ভাই মহিদ হাওলাদার জানান, বিদেশে যাওয়ার জন্য তার ভগ্নিপতি জামাল খান যৌতুক হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করেন। তারা দিতেও চেয়েছিলেন। তবে শর্ত ছিল বিদেশের ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র এলে ওই টাকা দেয়া হবে। কিন্তু তার আগেই টাকা না পেয়ে নাসিমার ওপর নির্যাতন চালাতে থাকে জামাল খান। গত ২৫ দিন আগে নাসিমাকে বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়। এ নিয়ে নরেন্দ্রপুর ফাঁড়ির পুলিশ নির্যাতিত নাসিমার স্বামী, শ্বশুর ও দেবরকে ধরে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন সালিশ বৈঠক করে মীমাংসা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন। ২১ মে আবার সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তার আগের দিন অর্থাৎ ২০ মে ভোরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বামী জামাল খান, শ্বশুর গফফার খান, দেবর জব্বার খান ও শাশুড়ি মনোয়ারা বেগমের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন নাসিমার ভাই মহিদ হাওলাদার। নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই বিল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, যৌতুকসহ পারিবারিক গোলযোগের জের ধরে গৃহবধূকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছে স্বামী ও তার স্বজনেরা। যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি সিকদার আক্কাস আলী জানান, এ ঘটনায় চারজনের নামে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। -

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: