১৮ মে, ২০১৫

চৌগাছায় কপোতাক্ষ নদ দখলের প্রতিযোগিতা

যশোরের চৌগাছায় অস্তিত্ব সংকটে মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদ। পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় মরার উপক্রম এক সময়ের খরস্রোতা এই নদের। নদের মৃত্যু ত্বরান্বিত করতে চলছে দখলের প্রতিযোগিতা! নদ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে আবাসন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চলছে চাষাবাদ ও ঘের তৈরি করে মাছ চাষ। দিনে দিনে গ্রাস হয়ে যাচ্ছে একটি নদটি। জানা যায়, কপোতাক্ষ নদ সাতটি জেলার ২০টি উপজেলা, ১০টি পৌরসভা ও ৯৫টি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। এর মধ্যে চৌগাছা তাহেরপুর থেকে ছুটিপুর পর্যন্ত নদের অবস্থান রয়েছে প্রায় ২৩ কিলোমিটার। চৌগাছা অংশে নারায়নপুর, পেটভরা, টেঙ্গুরপুর, চৌগাছা, কংশারিপুর, দিঘলসিংহা, মাশিলা, কদমতলা, কাবিলপুর এলাকায় নদের তীর জুড়ে ভূমিদস্যুরা জমি দখল করে চাষাবাদ, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ঘর নির্মাণ করেছেন। অনেক স্থানে নদের মধ্যে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এভাবে প্রতিনিয়তই নদের জমি দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। চৌগাছা বাজারের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় নদের জমি দখল করে তৈরি করা হয়েছে আবাসন। অনেকে রংপুরসহ ভিন্ন জেলা থেকে এসে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় নদ দখল করে ঘর তুলে বসবাস করছে। এছাড়া উপজেলা নদের সীমানার মধ্যে শতাধিক স্থানে বাঁশের পাটাতন দেয়া হয়েছে। ফলে নদের স্বাভাবিক গতি বিঘ্নিত হচ্ছে। যেন পুরো নদজুড়ে চলছে দখলের মহোৎসব।চৌগাছার বাসিন্দা শাহানুর আলম বলেন, প্রভাবশালীদের দখলে কপোতাক্ষ। যার যার মতো করে দখল করে ঘরবাড়ি, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও মাছ চাষ করা হচ্ছে। ফলে কপোতাক্ষ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদ পাড়ের জেলে অমল কুমার জানান, নদ আর নদ নেই। এই নদে সরকারিভাবে প্রতিবছর মাছ অবমুক্ত করা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে প্রভাবশালীরা দখল করে মাছ চাষ করে। ফলে গরিব জেলেরা এ মাছ আহরণ করতে পারে না। চৌগাছার এবিসিডি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক টিপু সুলতান বলেন, কপোতাক্ষের পানি প্রবাহ কমেছে। দিনে দিনে নদ মরার উপক্রম হয়েছে। নদ ভরাটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে দখল। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই নদের অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে। এতে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। খরা ও বন্যার সৃষ্টি হবে। পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এজন্য নদীর স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: