১৮ মে, ২০১৫

যশোর আড়াইশ শয্যা হাসপাতাল ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার

যশোর আড়াইশ শয্যা হাসপাতালের বাবুর্চি পিলাস্টার দাউদের বিরুদ্ধে ড্রেসিং ব্যান্ডেজ, পিলাস্টারের নাম করে নিজেকে হাসপাতালের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিন ভুক্তভোগী রোগীদের সাথে কথা বলে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগ আগে যশোর আড়াইশ শয্যা হাসপাতালের বাবুর্চি পদে যোগদান করেন এই আবু দাউদ। আবু দাউদের বাড়ি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। জামায়াত-শিবিরের একজন সক্রিয় কর্মী হিসাবে তিনি এলাকায় পরিচিত।
খালি হাতে যশোরে এসে তিনি অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে যশোর শহরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ২ কাঠা জমিও ক্রয় করেছেন। যার মূল্য ৫০ লাখ টাকা। হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়কের হাত করে তিনি বাবুর্চি থেকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের ২য় তলায় ৫নং ওয়ার্ড পুরুষ সার্জারিতে ভাঙ্গা-কাটা রোগীদের ড্রেসিং ব্যান্ডেস ও পিলাস্টারের দায়িত্ব নেন। প্রথম প্রথম তিনি রোগীদের কাছ থেকে অল্প খরচ নিলেও বর্তমান তার চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে রোগীদের জিম্মি করে প্রতিদিন মোটা অংকের টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন। পিলাস্টার দাউদের সাথে হাসপাতালে সুপারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও অবৈধভাবে হাতিয়ে নেয়া অর্থের ভাগবাটোয়ার কারণে দাউদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোন রোগী সুফল পায় না। এবং ঘটনা জানার পর উল্টো দাউদের চোখ রাঙানি দেখতে হয় ওইসব রোগীর স্বজনদের।
এমন কোন দিন নেই ৫/৭টি রোগী সে ব্যান্ডেস পিলাস্টার করায় না।
বগিরাগত রোগীদের কাছ থেকে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ নিয়ে থাকেন। সরকারী হাসপাতালে ফ্রি চিকিৎসা দেবার বিধান থাকলেও তিনি সেটার থোড়াই কেয়ার করে রোগীদেরকে জিম্মি করে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। হাসপাতালে আসা অনেক রোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি মাঝে মধ্যে নিজেকে ডাক্তার পরিচয়ও দিয়ে থাকেন। এবং নিজেকে সব সময় হাসপাতালের ডাক্তারের স্টাইলে চলাচল স্বাচ্ছন্দবোধ করে থাকেন। প্রতিনিয়ত যশোর জেলাসহ অন্যান্য জেলার রোগীরা সরকারী ওই হাসপাতালে ফ্রি চিকিৎসা সেবা নিতে এসে কথিত ডাক্তার পরিচয়কারী বাবুর্চি আবু দাউদ ওরফে পিলাস্টার দাউদের কাছে প্রতারিত হয়ে স্বর্বস্ব হারাচ্ছেন বলে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে।
ঝিকরগাছা উপজেলার মধুখালি গ্রামের অজিত সরকার বলেন, দোতলা থেকে আমার ছেলের হাত পিলাস্টার করেছিলাম কিন্তু খরচের কথা বলে আমার কাছ থেকে ৮শ টাকা নিয়েছে দাউদ নামে ওই হুজুর। কোতয়ালি থানার খিতিবদিয়া গ্রামের ইকবালের কাছ থেকে হাত ব্যান্ডেস করে সাড়ে ৩শ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই দাউদ।
চৌগাছা উপজেলার পলুয়া গ্রামের কাঞ্চন বিশ্বাসের ছেলে নাভিস হাসানের পা পিলাস্টার করে দিয়ে তার নিকট থেকে নগদ ২৫শ টাকা নিয়েছেন বলে রোগীর পরিবার জানায়। নড়াইল জেলার কোমরখারি গ্রামের নজরুল ইসলামের পা পিলাস্টার করে দিয়ে তাদের কাছ থেকে ১৫শ টাকাসহ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিয়ে দাউদ অবৈধ সম্পদের পাহাড় তৈরি করেছে বলে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে।
অবৈধভাবে রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার ব্যাপারে দাউদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, হাসপাতালে কেউ সাধু নন, সবাই একটু আধটু করে থাকে।
আমি কেন নিজেকে ফেরেস্তা সেজে বসে থাকবো। এব্যাপারে হাসপাতালের সুপার ডাক্তার শ্যামল কৃষ্ণ সাহার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা দেবার নামে কোন খরচ নেয়ার নিয়ম নেই। যদি কেউ এমন করে থাকে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এই রকম ধরনের কোন অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে ভুক্তভোগীরা দাউদকে অপসারণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: