৮ মে, ২০১৫

হাঁপিয়ে উঠেছেন যশোর বিএনপির পলাতক নেতারা

পলাতক জীবন-যাপন করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছেন যশোর বিএনপির নেতারা। প্রায় ৪ মাস ধরে আত্মগোপনে থাকার কারণে এসব নেতা পরিবার-পরিজন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য থেকেও বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। এ অবস্থায় কিভাবে প্রকাশ্য জীবন-যাপন করা যায় সে চেষ্টা করছেন বেশির ভাগ পলাতক নেতা। এ ক্ষেত্রে জামিনের কোনো বিকল্প না থাকায় পলাতক সব নেতাই জামিন নেয়ার চেষ্টা করছেন। তারই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুর রহমান তোতন এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। তবে তারা জামিন পাননি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের ৫ জানুয়ারির পর থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করার পর থেকে যশোর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বিপাকে পড়ে যান। আন্দোলনের নামে যশোরের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ভাঙচুর, যানবাহনে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপি নেতাদের আসামি করা হয়। এরপর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান যশোর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামও রয়েছেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর মতে, তাদের অন্তত ৫০ জন শীর্ষ নেতা বর্তমানে পলাতক জীবন-যাপন করছেন। তাদের সবার বিরুদ্ধে পুলিশ ৮ থেকে ১০টি করে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। যাদের পুলিশ আটক করেছে তাদের কেউ সহজে জামিন পাননি। আবার কেউ পেলেও জেলগেট থেকেই তাদের আবার আটক করা হয়েছে। এজন্য ইচ্ছা থাকলেও পলাতক নেতারা আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারেননি। তবে এভাবে থাকতে থাকতে সবাই হাঁপিয়ে উঠেছেন। তাই নেতারা আত্মসমর্পণ করে জামিন নেয়ার চেষ্টা করছেন।
শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু জানান, মাসের পর মাস নেতারা আত্মগোপনে থাকায় সব নেতাই যেমন রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি সাংসারিক জীবনেও তাদের নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অনেকের ছেলেমেয়ের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের অনেক নেতা আছেন তারা ব্যক্তি আয়ের ওপর নির্ভরশীল। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের সংসারে অসচ্ছলতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় সত্যিই অনেকের দুর্দিন যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, বিএনপি তো আর আন্ডারগ্রাউন্ড দল না, যে নেতারা আত্মগোপনে থাকবেন। নেতাকর্মী ও স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা যে কতটা কষ্টের তা বোঝানো কঠিন। তাই পলাতক সব নেতাই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেয়ার আবেদন করবেন। আশা করছি আমরা ন্যায় বিচার পাব।
এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পলাতক থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে ওঠা যশোর বিএনপির নেতারা স্বাভাবিক জীবনে আসতে আত্মসমর্পণ শুরু করেছেন। তারই অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুর রহমান তোতন এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তবে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন। সাবুর বিরুদ্ধে জিআর ৮০/১৫, ৫১/১৫, ৮১/১৫, ১৫/১৫, ১৬/১৫ ও ২৩/১৫ মামলাসহ মোট ৭টি মামলা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আপাতত জামিন না মিললেও খুব তাড়াতাড়ি তারা এসব মামলায় জামিন পাবেন বলে আশাবাদী। তাই পলাতক না থেকে আত্মসমর্পণ যুক্তিযুক্ত বলেই তারা পর্যায়ক্রমে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। ইতিমধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার টিএস আয়ুব, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বি মোপাশা, বিএনপি নেতা এবং যশোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুলুসহ আরো কয়েকজন জামিনে মুক্তি পাওয়ায় পলাতক অন্য নেতারাও জামিন নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: