৫ এপ্রিল, ২০১৫

যশোর অঞ্চলে নতুন মোড়কে হাজির হয়েছে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান

যশোর অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে সর্বশান্ত করে আবারও নতুন মোড়কে হাজির হয়েছে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। যশোর জেলা সমবায় অফিস হতে নিবন্ধন নিয়ে এদের বেশির ভাগ তাদের নিজস¦ স্টাইলে আর্থিক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ হারে মুনাফা দেয়ার দালিলিক প্রতিশ্র“তিতে এরা ইতোমধ্যে হাজার হাজার গ্রাহকের জামানত কব্জা করেছে। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার গ্রাহক আমানত ঘুরে-ফিরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এদের হাতে আটকে রয়েছে। অথচ এদেরকে যারা অনুমোদন দিয়েছেন সেই সমবায় অফিস এদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে আবারও কোটি কোটি টাকা লোপাটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান তালিকায় রয়েছে ‘এহসান এস বাংলাদেশ লিমিটেড’। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর জেলা সমবায় অফিস হতে নিবন্ধন নিয়ে বর্তমানে প্রায় ৩০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ‘মাল্টিপারপাস কোÑঅপারেটিভ সোসাইটি’, ‘সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি’ বহুমুখী সমবায় সমিতিসহ বিভিন্ন নামে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে, এহসান এস বাংলাদেশ লিমিটেড, উদ্যোগ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, সেবক মাল্টি-পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, প্রত্যয় মাল্টিপারপাস লিমিটেড, রাইজিং সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড, এহসান ইসলামী মাল্টিপারপাস কোÑঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, উত্তরা সঞ্চয় ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড, দিশারী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, প্রাইম কেন্দ্রীয় সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড, আল এহসান শরিয়াহ মাল্টিপারপাস কোÑঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, আলÑআরাফাহ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড, জে হোমল্যান্ড মাল্টিপারপাস কোÑঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটিড, নিউ-এশিয়া মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, পপুলার ইসলামী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড, ফাতিহা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড, প্রত্যয় মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, আলফালাহ ইমপ্লইজ কোÑঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, পাঞ্জেরী মাল্টিপারপাস কোÑঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, অগ্রপথিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড, হোমল্যান্ড মাল্টিপারপাস কোÑঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, জনতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড, ক্রিসেন্ট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, সেঞ্চুরী সমবায় সমিতি লিমিটেড, ম্যাক্সিম মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগের বিরুদ্ধে আমানতকারীদের দেওয়া প্রতিশ্রতি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে এহসান এস বাংলাদেশ লিমিটেডের ধর্মপ্রাণ লোকদের টার্গেট করে প্রায় ২ হাজার ২শ’ কোটি টাকার আমানত তছরুপ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে গত ৬ মাসে তাদের বিনিয়োগ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। তবে এরই মধ্যে তারা নতুন মোড়কে হাজির হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, জেলা সমবায় অফিস হতে নিবন্ধন নেয়া এসব প্রতিষ্ঠান বর্তমানে এনজিও’র আদলে মাইক্রোক্রেডিট ফিন্যান্সিং চালু করেছে। ফিক্সড ডিপোজিট স্কীম, ডেইলী ব্যাংকিং এর মতো কাজ-কর্মও কোন কোনটিতে হয়ে থাকে। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার গ্রাহক আমানত ঘুরে-ফিরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এদের হাতে আটকে রয়েছে। অথচ এদেরকে যারা অনুমোদন দিয়েছেন সেই সমবায় অফিস আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরং সমবায়ের রেজিস্ট্রেশনকৃত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাসিক আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত সমবায়ের সদস্যরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পাশ করে দিচ্ছে। যে কারনে এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক বা সংযত হওয়ার পরিবর্তে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আর এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষগুলো। ভুক্তভোগীদের দাবি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের পাশাপাশি তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত সমবায়ের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সময় এসেছে। নইলে এ অঞ্চল থেকে আবারও লোপাট হবে শত শত কোটি টাকা।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: