২ এপ্রিল, ২০১৫

যশোরের ম্যাকানিক ‘সয়ংক্রিয় আগুন নেভানো’ যন্ত্রের উদ্ভাবককে প্রধানমন্ত্রী ডেকেছেন

গাঁ-গ্রামের এক মোটরসাইকেল ম্যাকানিকের আবিস্কার করা অভিনব ডিজিটাল অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের’ খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকেছেন ।  দেশে যখন পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ছে বাস ট্রাক ও সাধারন মানুষ ঠিক তখন যশোরের শার্শায় ওই মোটরসাইকেল ম্যাকানিক অবিশ্বাস্য ও অভিনব এক ডিজিটাল অগ্নিনির্বাপন (আগুন নেভানো) যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন যেটি আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে সয়ংক্রিয় ভাবে চালু হয়ে আগুন নেভাবে। “যন্ত্রটির ভিতরে একটি মোবাইল সিম বসানো আছে।ওই সিমে যাদের নাম্বার দেওয়া থাকবে তারা আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে খরবটিও পেয়ে যাবে।” একজন মোটরসাইকেল ম্যাকানিকের এই আবিষ্কারটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারন মানুষ অভিনব এই যন্ত্রটির কাজ দেখে অবাক হয়েছেন।

ওই মোটরসাইকেল ম্যাকানিকের নাম মিজানুর রহমান (৪৫)।বাড়ি যশোর জেলার শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে।বাবার নাম আক্কাস আলী। মিজানুর রহমান বলেন,এই যন্ত্রটি বাসা-বাড়ি,অফিস,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিম্বা অন্য যে স্থানে রাখা হবে সেই স্থানে কোন প্রকারের আগুন লাগলে যন্ত্রটি নিজে থেকেই ওই আগুন নেভাতে সক্ষম। আগুন দেখা মাত্রই নিজে থেকেই যন্ত্রটি চালু হয়ে যাবে। বিদ্যুতের সট সার্কিট বা যে কোন প্রকারে আগুন সৃষ্টি হলে এ যন্ত্রটি মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে সয়ংক্রিয় ভাবে চালু হয়ে পানি দিয়ে আগুন নেভাতে শুরু করবে।এ ছাড়া এই যন্ত্র থেকে তাৎক্ষনিক ফায়ার সার্ভিস ও মালিকপক্ষকে মোবাইল ফোনে আগুন লাগার খবর জানিয়ে দেবে এবং হুইসেল দিয়ে আধা কিলোমিটার এলাকার সাধারন মানুষকে আগুনের বার্তা পাঠিয়ে সতর্ক করবে বলে জানান মিজানুর। তিনি আরো বলেন,এক্ষেত্রে ওই যন্ত্রটিকে পানির একটি ট্যাংকির সাথে এবং টিউবওয়েলে পাইপের সাথে অবশ্যই সংযোগ থাকতে হবে।আগুন লাগার সাথে সাথে পাইপের মাধ্যমে পানি আসতে শুরু করবে এবং আশপাশে পানি ছিটাতে থাকবে। মোটরসাইকেল মেকানিক মিজানুর রহমান এক বছর ধরে গবেষনা করে মাত্র এক মাস আগে অভিনব এই যন্ত্রটি আবিস্কারের সফলতা পেয়েছেন বলে দাবি করেন।এটি তৈরি করতে তার খরচ হয়েছে মাত্র ছয় হাজার টাকা। মিজানুর রহমান জানান,সরকারের সহযোগিতা পেলে আরও আধুনিক ও আরও বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন আগুন নেভানো যন্ত্র আবিষ্কার করতে পারবেন।এর বাইরে তিনি কৃষি জমিতে সয়ংক্রিয় ভাবে সেচ দেওয়ার আরও একটি সেচ যন্ত্র আবিষ্কারের কাজ করে যাচ্ছেন। এই সেচ যন্ত্রটি কৃষক বাদেই জমিতে সেচের প্রয়োজন হলে নিজ থেকেই জমিতে সেচ দিয়ে দেবে। শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা এটি এম শরিফুল আলমের সাথে কথা হয এই প্রতিবেদকের।তিনি মোটরসাইকেল ম্যাকানিক মিজানুরের আবিস্কার করা যন্ত্রটি দেখে বিশ্ময় প্রকাশ করে বলেন,আগুন নেভানো যন্ত্রটি খুবই অদ্ভুত ও গুরুত্বপূর্ন।সরকার এ ধরনের আবিষ্কারকে এআইটি প্রযুক্তির আওতায় উদ্বুদ্ধ করতে সহযোগিতা করবেন। যশোর বিঞান ও প্রযুক্তি মেলা ও খুলনায় বিভাগিয় বিঞান ও প্রযুক্তি মেলায় মিজানের উদ্ভাবন করা আগুন নেভানোর যন্ত্রটি সকলের দৃষ্টি কেড়েছে।ওই দুই জায়গায় সে প্রথম স্থান অধিকার করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. হুমাউন কবির।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: