৫ এপ্রিল, ২০১৫

যশোর মৎস্য পল্লীতে লোকসান ৩০ লক্ষ টাকা

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা টানা হরতাল ও অবরোধের কারণে যশোরের চাঁচড়া মৎস্য পল্লীতে বেচাকেনায় ধস নেমেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা না আসায় প্রতিদিন অন্তত ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। আবার যারা আসছেন তারা অধিক গাড়ি ভাড়ার কারণে মাল না কিনে ফিরে যাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে এ শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় দেড় লক্ষ পরিবার পথে বসবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, সারাদেশে চাহিদার মোট আমিষের শতকরা ৪০ থেকে ৫০ ভাগ যশোর থেকে পূরণ হয়ে থাকে। যশোর চাঁচড়া মৎস্য পল্লীর ৪২টি হ্যাচারি মালিক ও ৫ হাজার মৎস্য চাষি সাদা মাছের রেনু (এক দিন বয়সী) ও পোনা (ছোট মাছ) উৎপাদন করে সারাদেশে সরবরাহ করেন। এতে প্রতিবছর ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার লেনদেন হয় এই মৎস্য পল্লীতে।

যশোর বাবলাতলা মৎস্য চাষি সমিতির উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম বলেন, চাঁচড়া মৎস্য পল্লীতে উৎপাদিত পোনা মাছ বিক্রির জন্য প্রতিদিন সকালে যশোরের শংকরপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বাবলাতলায় হাট বসে। এই হাটে সারাদেশের বিভিন্ন এলাকার ঘের মালিকরা পোনা মাছ কিনতে আসেন। তবে হরতাল-অবরোধে বাইরের ব্যবসায়ীরা তেমন না আসায় বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।

তিনি বলেন, হরতাল-অবরোধের আগে বাবলতালা হাটে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার পোনা মাছ কেনাবেচা হতো। কিন্তু এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে কমেছে মাছের দামও। এতে চাষিদের পাশাপাশি পথে বসার উপক্রম হয়েছে এ হাটের ৭০ থেকে ৮০ জন ব্যবসায়ীর।

চাঁচড়া রাজবাড়ী এলাকার মৎস্য চাষি শরীফুল ইসলাম বলেন, হরতাল-অবরোধের মধ্যে গাড়ি চলাচল করলেও নাশকতার ভয়ে অন্যান্য জেলা থেকে তেমন ক্রেতা আসছে না। ফলে পোনা মাছের দাম একেবারেই কমে গেছে।

২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম ওজনের চিতল মাছের পোনা স্বাভাবিক সময়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করা হতো। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার প্রতি পিস চিতল বিক্রি হয়েছে মাত্র ১০০ টাকায়। এতে চাষিরা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

এছাড়াও ১০০ টাকার প্রতি কেজি (৪০-৫০ পিস) সিলভার কার্প পোনা ৭০ টাকা, ১৩০ টাকার কেজি (১০ পিস) জাপানি পুটি ১০০ টাকা, ২০০ টাকা দরের গ্লাসকার্র্প কেজি প্রতি (১০-১৫ পিস) ১৫০ টাকা, ১৩০ টাকার প্রতি কেজি (১৫ পিস) কাতলা পোনা ৯০ টাকায়, তিন হাজার টাকার বিভিন্ন ধরনের রেনু পোনার কেজি ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাগুর-তেলাপিয়াসহ সব ধরনের পোনার ক্রেতা না থাকায় দাম কমেছে।

মণিরামপুরের কপালিয়া থেকে আসা পোনা মাছ ব্যবসায়ী বিপুল মল্লিক বলেন, আমরা এই হাট থেকে পোনা কিনে মংলা-বাগেরহাট এলাকায় নিয়ে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু হরতাল-অবরোধে পিকআপ ভ্যানের ভাড়া বাড়ায় ও নাশকতার আশঙ্কায় স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করতে পারছি না। ফলে দিন দিন পুঁজি ভেঙ্গে খেয়ে নিঃস্ব হতে চলেছি আমরা।

যশোর জেলা মৎস্য হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ খান বলেন, চাঁচড়া মৎস্য পল্লীতে উৎপাদিত রেনু ও পোনা মাছ ঢাকা, বরিশাল, টাঙ্গাইল, নীলফামারী, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, যশোর ও খুলনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। তবে হরতাল-অবরোধের কারণে বাইরের জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা না আসায় তারা রেণুপোণা বিক্রি করতে পারছেন না। আবার যারা আসছেন তারা পিকআপ সংকটে ভুগছেন। কেননা হরতালের মধ্যে পিকআপ ভাড়া দ্বিগুন নেয়া হচ্ছে। যেকারণে হ্যাচারিতে ৯০ ভাগ উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা।

তিনি বলেন, আগে আমাদেও এখানে ৮২টি হ্যাচারি ছিল। ব্যবসা না থাকায় এর মধ্যে অর্ধেক বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাকিগুলোর অবস্থাও একই হবে।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: