১৬ মার্চ, ২০১৫

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের প্রথম জনসভাও হয়েছিলো যশোরে

অনেকদিক থেকেই প্রথম যশোর।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের প্রথম জনসভাও হয়েছিলো এই জেলায়। জনসভাটি হয় ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর। প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোরের ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠের উন্মুক্ত মঞ্চে সেদিন জনসভায় ভাষণ দেন প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদসহ মন্ত্রী পরিষদের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ঐতিহাসিক এই মঞ্চটি আজ ‘পরিত্যাক্ত’ হয়ে পড়ে রয়েছে। আর সেই সুযোগে ফেরিওয়ালারা মঞ্চটিকে দখলে নিয়েছে।
ব্রিটিশ আমলে তৈরি হয় যশোর টাউন হল ময়দানের এই উন্মুক্ত মঞ্চটি। জেলা শহরের বড় বড় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এই মঞ্চটিতে আয়োজন করা হতো। তবে প্রবাসী সরকারের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে মঞ্চটি ইতিহাসের অংশ হয়ে রয়েছে।
১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম সেই জনসভা থেকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ ‘ওয়ার ট্রাইবুনাল’ গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জামায়াতে ইসলাম, নিজামে ইসলাম, মুসলীম লীগসহ সব ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
যশোর টাউন হল ময়দানের উন্মুক্ত মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে আর রাজনীতি চলবে না। আজ থেকে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলাম, নিজামে ইসলাম, মুসলীম লীগসহ সব ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। এছাড়া যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যারা গণহত্যা, লুণ্ঠন, গৃহদাহ ও নারী নির্যাতনের সাথে জড়িত হয়েছে তাদের ‘ওয়ার ট্রাইবুন্যাল’ গঠন করে বিচার করা হবে।
প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য অ্যাড. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ঐতিহাসিক উন্মুক্ত মঞ্চে সেদিন উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ফণী ভূষণ মজুমদার, গণপরিষদ সদস্য যশোরের অ্যাড. রওশন আলী ও মাগুরার সোহরাব হোসেন, তবিবর রহমান সরদার, ঝিনাইদহের মঈনুদ্দীন মিয়াজী, এম আর আখতার মুকুল, জহির রায়হান প্রমুখ।
কিন্তু স্বাধীনতার স্বারক বহনকারী এই উন্মুক্ত মঞ্চটি আজ সংস্কারের অভাবে একধরণের অনেকটা পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সর্বশেষ কবে এই বিবর্ণ মঞ্চটিতে অনুষ্ঠান হয়েছে তারও কোন পরিসংখ্যান নেই। দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোন অনুষ্ঠান আয়োজন না করায় মঞ্চটি দখল নিয়েছে ফেরিওয়ালারা। এমঞ্চে দিনে পুরাতন কাপড় বিক্রি করা হয়। আর রাতে গাঁজাখোরদের আড্ডা বসে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কারও মাথা ব্যাথা নেই।
অপরদিকে, দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না হওয়ায় মঞ্চটি যেন বার্ধক্যে রূপ নিয়েছে। মঞ্চের ছাদ, ফ্লোর সবকিছুই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম বলেছেন, মঞ্চটি উন্নয়ন বা সংস্কার করে তা ব্যববহার উপযোগী করা যায় কি না সেটা আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখবো।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: