১০ মার্চ, ২০১৫

যশোর গুদামে বীজ আত্মসাৎ চলছেই

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) যশোর আঞ্চলিক বীজ গুদামের বীজ উধাও হয়ে যাচ্ছে। কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বারবার আলু, ধান ও গম বীজ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় গুদামের বীজ হরিলুট হচ্ছে। অভিযোগ আছে, গত জানুয়ারি মাসে গম বীজ সরবরাহ মৌসুমে ৪০.৬৪০ টন গম বীজ আত্মসাৎ করেছেন বীজ বিপণনের দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক শাহজাহান কবির। তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে বোরো বীজ সরবরাহ মৌসুমে ১৮ টন বীজ পাচার করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে একটি ট্রাক। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতর তাকে তলবও করে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রত্যেকটি ঘটনায় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ টাকার লোকসান হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, যশোর অঞ্চলে গমবীজের প্রচুর চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বীজ বিক্রি না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বীজ আত্মসাৎ করার জন্য ভুয়া হিসাব দাখিল করার অভিযোগ রয়েছে। যশোর বিএডিসি আঞ্চলিক বীজ গুদাম কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি গম বীজের মজুদ ছিল ১০৮.৮৪০ মেট্রিক টন। কিন্তু পরবর্তীতে বিএডিসি প্রধান কার্যালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি যাচাই করে গমবীজের পরিমাণ পায় ৬৮.২০০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ৪০.৬৪০ মেট্রিক টনের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। ওই গম বীজ বিক্রি না করে কতিপয় কর্মকর্তা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএডিসি অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক মো. শাহ নেওয়াজ এক চিঠিতে উপ-পরিচালক যশোর বিএডিসি উপ-পরিচালক মো. শাহজাহানকে তলব করেছেন। ওই চিঠিতে বলা হয়, যাচাই প্রতিবেদনের তথ্যের গরমিল আছে, যা আপনার নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলের তথ্য গোপন করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। এ বিষয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। জবাবে উপ-পরিচালক শাহজাহান কবির জানিয়েছেন, ১ জানুয়ারির পর যশোর অঞ্চলের বীজ ডিলার এবং চাষীদের মধ্যে বীজের চাহিদা অব্যাহত থাকার কারণে অবশিষ্ট ৪০.৬৪০ মেট্রিক টন গম বীজ বিক্রি হয়েছে। গম বীজ বিক্রি চলমান থাকায় তথ্য পাঠানো হয়নি। বিষয়টি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করেন তিনি ওই চিঠিতে।
২০১৪ সালের ১ জুন গভীর রাতে যশোর বিএডিসি আঞ্চলিক বীজ গুদাম থেকে ১৮ মেট্রিক টন ধানবীজ সিলেটে পাচারকালে ট্রাক পুলিশ আটক করে। ওই ঘটনায়ও জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে উপ-পরিচালক মো. শাহজাহান কবিরের বিরুদ্ধে। এছাড়া আরও কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ রয়েছে।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: