১১ ফেব, ২০১৫

যে কারণে দিল্লি জয় কেজরিওয়ালের

ভারতে আম আদমি পার্টি (এএপি) নামে একটি দলের সম্পর্কে মানুষ জানতে পারে ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর। দলটির আদর্শ মধ্য-বামপন্থী। প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো দিল্লির নির্বাচনের মুখোমুখি হয়েই বাজিমাত করে দলটি। দুর্নীতির কাছে মাথানত না করে লোকসভায় একটি বিল পাসকে কেন্দ্র করে ক্ষমতায় আসার ৪৯দিনের মাথায় সরকার থেকে পদত্যাগ করেন কেজরিওয়াল। কিন্তু এবার আবার চমক দেখালেন এবং যেদিন পদত্যাগ করেছিলেন সেই ১৪ তারিখেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন তিনি। বিধানসভার ৭০ আসনের ৬৭টিতেই জয় পেয়েছে দলটি। কিন্তু তার এই ভূমিধ্বস জয়ের পেছনে কারণ কী? কারণগুলো খোঁজার চেষ্টা করেছে দেশটির প্রভাবশালী পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়া। পত্রিকাটি দশটি কারণ চিহ্নিত করেছে :
দ্রুত নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু : গত বছরের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরই দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে মাঠে নামেন কেজরিওয়াল। বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসে কয়েকটি বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়ে দিল্লি নিয়ে অনেকটা গা ছাড়া ভাব দেখায়। দলটির নির্বাচনী প্রচারণাও শুরু হয় দেরিতে।
ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভদ্রতা : ৪৯ দিন ক্ষমতায় থেকে পদত্যাগের জন্য কেজরিওয়াল নির্বাচনের আগে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। দিল্লিবাসী কখনো তার মধ্যে ঔদ্ধত্যের ছাপ পায়নি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী কিরণ বেদী তার সমালোচনা করলেও তিনি কিরণ বেদীকে নিয়ে নেতিবাচক কিছু বলেননি। ভোটারদের কাছে তিনি তার বিনয়ী স্বভাবকে তুলে ধরতে সক্ষম হন।
মুসলিমদের সমর্থন : যদিও নির্বাচনের সব তথ্য এখনো কারো হাতে আসেনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে,  মুসলমানদের বেশিরভাগ এএপিকেই সমর্থন দিয়েছে। গত নির্বাচনে মুসলিম ভোট কংগ্রেস এবং এএপি’র মধ্যে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। এবার সেই ভোট এএপি’র পক্ষেই গেছে।
কংগ্রেসের পরাজয়ে এএপি’র জয় : কংগ্রেস গত নির্বাচনে কিছু আসন পায়। দলটির সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় আসেন কেজরিওয়াল। এবার আগে থেকেই সবগুলো নির্বাচনী জরিপে কংগ্রেসের ভরাডুবির খবর পাওয়া গিয়েছিল। ফলে কংগ্রেসের অধিকাংশ ভোট এএপি’র থলেতেই পড়েছে। ফলে কংগ্রেস ভোট যতো কম পেয়েছে, এএপি ততো বেশি পেয়েছে।
বিজেপি’র অবহেলা : গতবারের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি দিল্লির সাতটি আসনে জয় পায়। ফলে দলটি ধারণা করেছিল, দিল্লি তাদেরই। আর এএপিকে জয় পেতে হলে আবার পুনর্গঠিত হবে। দলটির নেতা-কর্মীরা মনে করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তা এবং সভাপতি অমিত শাহের সাংগঠনিক দক্ষতাই তাদের জয় এনে দেবে।
কিরণ বেদী ফ্যাক্টর : কিরণ বেদীকে ভালভাবে নেয়নি বিজেপি’র নেতা-কর্মীরা। তারা স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে কাজ করতে পারেনি। এমনকি দলটির প্রধান নির্বাচনী এজেন্টও ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে কিরণ বেদীকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করেন।
হিন্দু-মুসলিম বিভক্তি : কেজরিওয়াল ভোটারদের ধর্মের ভিত্তিকে প্রাধান্য দেননি। তিনি সমভাবে সবার কাছে ভোট চেয়েছেন। তাইতো দিল্লি মসজিদের শাহী ইমাম তাকে সমর্থন দিলেও তিনি প্রত্যাখান করেছিলেন।
মোদী ফ্যাক্টর কাজ করেনি : লোকসভা নির্বাচনে মোদীর ভাবমূর্তি কাজ করলেও দিল্লির নির্বাচনে সেটা করেনি। কারণ অনেক ভোটারই বলেছিলেন, লোকসভা নির্বাচনে তারা মোদীকে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এবার তারা কেজরিওয়ালকেই গুরুত্ব দিলেন।
ক্ষমতাবিরোধী তত্ত্ব : অনেক রাজ্যে বিজেপি’র জয়ের পেছনে ক্ষমতাবিরোধী তত্ত্ব কাজ করেছে। সেটা হলো, ক্ষমতাসীন দল হেরেছে। কিন্ত দিল্লিতে সেই সুবিধাটা পায়নি বিজেপি।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: