১২ ফেব, ২০১৫

যশোর জেলা আ.লীগের সম্মেলন আজ

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন বৃহস্পতিবার। দীর্ঘ এক যুগ পর এই সম্মেলনকে ঘিরে গোটা জেলায় সাজ সাজ রব পড়েছে। গোটা শহর এখন ব্যানার, তোরণ, ফেস্টুনের নগরীতে পরিণত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত দুই শতাধিক তোরণ তৈরি করা হয়েছে।

পদপ্রত্যাশী নেতারা দলীয় সভানেত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি সম্বলিত ডিজিটাল ব্যানার দিয়ে তৈরি করেছেন বিশাল বিশাল তোরণ। সেই সঙ্গে ভবন জুড়ে বিশাল বিশাল আকৃতির ব্যানারে সম্মেলন সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সম্মেলন ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রাণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সর্বশেষ ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে আলী রেজা রাজু সভাপতি ও শাহীন চাকলাদার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর দলের সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৬টি পদ খালি রেখে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট যশোর জেলা কমিটি ঘোষণা করেন। ৫৫ সদস্যের কমিটির চার নেতা মারা গেছেন, দুইজন পদত্যাগ করেন এবং একজনকে বহিষ্কার করা হয়।
এ দিকে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সন্মেলনকে কেন্দ্র করে সারা জেলায় যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পাশাপশি রয়েছে নানা উৎকণ্ঠা। সন্মেলনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা । একইসঙ্গে র‌্যাবের জোরদার টহল ও সাদা পোশাকে মনিটরিং ব্যবস্থা ছাড়াও গোটা সম্মেলন স্থল ও আশপাশ এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। সম্মেলন স্থলে বসানো  হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ কক্ষ। প্রস্তুত থাকছে বিপুল সংখ্যক রিজার্ভ ফোর্স।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ এ জেলা সম্মেলন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। তারই অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে। অবশ্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জেলা শহরটিতে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের কমিটিতে পদ লাভের আশায় অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং লবিংও এখন বেশ চাঙ্গা।

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্মেলনকে ঘিরে প্রভাব বিস্তারের জন্য শহর ও শহরতলীতে বাড়ছে দুর্ধর্ষ অপরাধীদের সংখ্যা। ফলে সম্মেলনের দিন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন সকলে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম বাংলা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। মতভেদ আছে। ফলে সম্মেলনের দিন মারামারির আশঙ্কা রয়েছে। তারপরও আমরা সম্মেলন শান্তিপূর্ণভাবে করার সকল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যাতে এ সম্মেলন সারাদেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ইতিমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আবেদন জানানো হয়েছে। তাছাড়া পুলিশ প্রশাসন থেকেও খোঁজ-খবর নিচ্ছে।’

যশার র‌্যাব-৬ ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর আশরাফউদ্দিন জানান, আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে তারাও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। টহলের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরা সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি করবে।

এ দিকে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে দলের নেতা-কর্মীরা চাইছেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকের যে কোনো একটি পদে আসুন। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ দলের নেতা-কর্মীদের এমন মনোভাবের কথা জানান। তবে বিষয়টি সাধারণ কর্মীদের মুখে উচ্চারিত হলেও এ বিষয়ে কিছুই বলেননি কাজী নাবিল।

অন্যদিকে সম্মেলনে নিজের পদ আঁকড়ে রাখতে সব রকম চেষ্টা অব্যাহত রেখে চলেছেন বর্তমান সেক্রেটারি শাহীন চাকলাদার, এমন অভিযোগ করে মোহিত কুমার নাথ বলেন, `আমরা চাই, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্মেলন সম্পন্ন হোক। দেশের বিরাজমান অস্থিরতার মধ্যে চাই না নিজেদের মধ্যে আরেক দফা ফ্যাসাদ হোক।` অপরদিকে জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে সম্মেলন সফল করতে সবাই সচেষ্ট।’

তিনি বলেন,  ‘বর্তমান নেতৃত্ব যশোরের ৪০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কর্মঠ ও দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতীক। কাউন্সিলররা অবশ্যই বিষয়টি মূল্যায়ন করবে।’

সভাপতি পদে বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রাক্তন সংসদ সদস্য আলী রেজা রাজু, প্রাক্তন সংসদ সদস্য পীযুষকান্তি ভট্টাচার্য্য ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের নাম বেশ উচ্চারিত হচ্ছে।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার ও বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুজ্জামান পিকুলের নাম শোনা যাচ্ছে।

সম্মেলনের আগেই দুপক্ষের প্রধান নেতাদের নিয়ে বিশেষ বৈঠকের মাধ্যমে সঙ্কট নিরসনের চেষ্টা করা হবে বলে দলের হাই কমান্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে জেলার অধিকাংশ নেতা-কর্মীরা  চান তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ভোটের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব বেরিয়ে আসুক। এতে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে আরো গতিশীল হবে।

শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এলজিআরইডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি, বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, ইসমাত আরা সাদেক, সুভাষ চন্দ্র বোস, একেএম এনামুল হক শামিম ও এসএম কামাল হোসেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজু সভাপতিত্ব করবেন । অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমপি শেখ আফিল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক এমপি কাজী নাবিল আহম্মেদ, সহ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এমপি মনিরুল ইসলাম, বাঘারপাড়া উপজেলা সভাপতি এমপি রণজিৎ কুমার রায়।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: