২১ জানু, ২০১৫

বিস্ফোরণে ছাত্রদল নেতার হাত কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন

পুরান ঢাকার লালবাগ থানার ঢাকেশ্বরী রোডের একটি বাড়িতে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- নিউ মার্কেট থানার ছাত্রদলের সভাপতি বাপ্পি (২৫) তার ফুফাতো ভাই সাফরান আহমেদ লিপন (৬) ও তার খালাতো বোন হ্যাপি আক্তার সুমনি (১২)। বুধবার বিকালে এ ঘটনা ঘটেছে।

তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বাপ্পির ডান হাত উড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আহত বাপ্পির শরীরের বিভিন্ন অংশে বিস্ফোরক থাকায় তার জন্য ৬ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। এর মধ্যে দুই ব্যাগ রক্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করছে। বাকী রক্তের জন্য তিনি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে সাহায্য চেয়েছেন।

লালবাগ অঞ্চলের উপ-পুলিশ কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বুধবার বিকাল ৩ টার সময় লালবাগ থানার ঢাকেশ্বরী রোডের ৩১/২ নম্বর বাড়ির পাঁচতলার দ্বিতীয় তলায় তারা বাড়িতে বসে বোমা তৈরি করছিল। হাত উড়ে যাওয়া বাপ্পি নিজেই বোমা বানাচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণকালে তারা আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত লিপনের মা লিপি আক্তার বলেন, হ্যাপি আমার বোনের মেয়ে। সে আমার বোন ঝুমুরের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে কিভাবে তারা আহত হয়েছে তা আমার জানা নেই। আহত লিপন  রাজধানীর নিউমার্কেট থানার এলিফ্যান্ট রোডের ২৮৮/২ নম্বর বাড়ির নিজামুদ্দিন বাচ্চুর ছেলে। আহত হ্যাপি আক্তার সুমনির বাবার নাম আবদুল হাকিম। তিনি একজন প্রাইভেটকার চালক। সে আজিমপুর গালর্স স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আহত বাপ্পি নিউমার্কেট থানার ছাত্রদলের সভাপতি। এছাড়াও সে কাটাবন এলাকায় বোমারু বাপ্পি নামেই পরিচিত।

আজিমপুর গার্লস স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী হ্যাপী হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, “দুপুরে আমি জি বাংলা দেখছিলাম খাটের উপরে বসে। মামা (বাপ্পী) নিচে মাটিতে বসে কী যেন কাজ করছিল।

“হঠাৎ ঝিরঝির করে ফুলকির মতো আগুন বেরিয়ে আসে, পুরো ঘর ধোঁয়ায় ভরে যায়। এরপর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।”

বিস্ফোরণটি ঘটে ঢাকেশ্বরী রোডে আবুল কাশেমের পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাড়াটিয়ার ফ্ল্যাটের ভেতরের দিকের কক্ষে। ওই ভবনের পাশের ভবনে থাকেন বাড়িওয়ালা কাশেম। দোতলা দিয়ে উভয় ভবনে যাওয়া-আসা করা যায়।

আবুল কাশেমের স্ত্রী সুফিয়া বেগম বলেন, “বিকাল ৩টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। পাশের ভবন থেকে একটি বাচ্চা রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে আসে। এরপর বিল্ডিংয়ের সবাই বেরিয়ে আসে।”

প্রাইভেটকারচালক আব্দুল হাকিম এক মাস আগে ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন বলে জানান বাড়ির মালিকের স্ত্রী সুফিয়া। আহত বাপ্পী ভাড়াটিয়া হাকিমের আত্মীয় বলে তিনি জানেন।

পাশের আরেকটি ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শিউলি আক্তার বলেন, “বিকট শব্দের পর পুরা এলাকা ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তা দেখে সব বাড়ির সবাই বেরিয়ে পড়ে।” আহত শিশু রিপন কাঁটাবনের পাখি ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দীন বাচ্চুর ছেলে। সে গাউছিয়া এলাকার শাহাবানিয়া মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাজিমের বাসা এখন এলিফ্যান্ট রোডে হলেও তারা এক সময় হ্যাপীদের প্রতিবেশী ছিলেন। 

রিপনের মা লিপি আক্তার বলেন, “দুপুর ১২টার দিকে হ্যাপী আমাদের বাসায় এসে রিপনকে তাদের বাসায় নিয়ে গিয়েছিল। রিপন যেতে চাওয়ায় তাকে যেতে দিয়েছিলাম। বিকালে শুনলাম ঘরে বোমা ফেটে আমার ছেলে আহত হয়েছে।” বিস্ফোরণের পর স্থানীয়রা আহত তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বাপ্পীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন।

হ্যাপীর বাবা হাকিম হাসপাতালে যাওয়ার পর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মো. শামীমকে আসতে বলেন।

হাসপাতালে আসার পর শামীম (৩২) ও তার সঙ্গে আসা গাজী ফারুক হোসেন (৩০) নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় বলে পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন।

পুলিশ উপকমিশনার মফিজউদ্দীন বলেন, “বাড়ির মালিক আবুল কাশেম, ভাড়াটিয়া হাকিম, বাপ্পীসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

বিরোধী জোটের অবরোধের মধ্যে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বোমাবাজির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় আহতও হয়েছেন অনেকে। এর মধ্যে বুধবার সকালে মহাখালীর একটি মেস থেকে বোমার সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ।

বাপ্পী নিউমার্কেট থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জানিয়ে উপকমিশনার মফিজউদ্দীন বলেন, আটক অন্যদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা জানারও চেষ্টা চলছে।

আহত বাপ্পীর বোন ঝুমুরের বান্ধবী লিপি বলেন, “বাপ্পী একসময় বিএনপি করত বলে শুনেছি।”




SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: