১০ জানু, ২০১৫

যশোর শহরে চলছে শোকের মাতম

সকাল ৯টর দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝঁরে গেছে এ এলাকার তিনটি তাজা প্রাণ। সংবাদটি এলাকায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কেউ স্বামী, কেউ বাবা, কেউবা সহকর্মীকে হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। তারা শুধুই কাঁদছেন। ওই এলাকার হাজারো মানুষ দুঃখ-বেদনায় ভারক্রান্ত হয়ে রয়েছেন লাশের অপেক্ষায়।
নিহত মাদ্রাসা শিক্ষক রইস উদ্দিনের খালাতো ভাই রুবেল  জানান, শুক্রবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে ৪টার দিকে শহরের আরএন রোড এলাকার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনের প্রাইভেটকারে মোটরপার্টস ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন, আব্দুর রহিম, মুরাদ হোসেন ও মাদ্রাসা শিক্ষক রইস উদ্দিন বিশ্ব ইজতেমা টঙ্গির উদ্দেশে রওনা হন।

পথিমধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ে পৌঁছালে সকাল ৯টার দিকে বিপরীত দিক থেকে আসা বাসের ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরপার্টস ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন, নাজিম উদ্দি ও মাদ্রাসা শিক্ষক রইস উদ্দিন নিহত হন।

এছাড়াও প্রাইভেটকারে থাকা আব্দুর রহিম, মুরাদ হোসেন এবং প্রাইভেটকারের চালক রেজওয়ান আহত হলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুপুর ১২টার দিকে রেজওয়ানের মৃত্যু হয়।

শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে যশোর র‌্যাব অফিসের পাশ দিয়ে হুশতলা এলাকায় যেতে রাস্তার দুইধারে দেখা গেছে অসংখ্য শোকাতুর মানুষ। প্রত্যেকের মুখে আলোচনায় রয়েছেন নিহত তিন ব্যক্তি। হুশতলা চক্ষু হাসপাতাল পার হয়ে একটু সামনে গেলেই বউ বাজারস্থ মোড়ে নিহত মোটরপার্টস ব্যবসায়ী হাজী নাজিম উদ্দিনের বাড়ি।

তার বড়ির সামনে ভিড় করেছে স্থানীয় এলাকার মানুষ। নাজিম উদ্দিনের মৃত্যু সংবাদ জানতে পেরে স্বজনেরা শুধুই কাঁদছেন। ওই বাড়ি রেখে সামান্য সামনে গেলেই নিহত মোটরপার্টস ব্যবসায়ী হাজী নাসির উদ্দিন ও মাদ্রাসা শিক্ষক হাজী রইস উদ্দিনের বাড়ি।

নিহত মোটরপার্টস ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনের (৩৫) বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বামীর মৃত্যু সংবাদ শুনে স্ত্রী স্বপ্না বেগম কাঁদতে কাঁদতে বিলাপ করছেন। তার ছেলে-মেয়েরাও মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। এ বাড়ির একটু দূরেই নিহত মাদ্রাসা শিক্ষক রইচ উদ্দিনের বাড়ি।

এ বাড়ির সামনে স্বজদের ভিড়। তারা সবাই লাশের অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছেন। স্থানীয় ফজলুলুমবাগে জান্নাত এতিমখানা মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাদের সহকর্মী রউস উদ্দিনকে হারিয়ে শোকে কাতর। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি শিক্ষরা একে-অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করছেন।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: