২৭ জানু, ২০১৫

মনের রোগ ডিপ্রেশন

ডিপ্রেশন এক কঠিনতম মনোব্যাধি। যার ডিপ্রেশন হয় সেই বোঝে তার নির্মম কষ্ট। ডিপ্রেশন মানুষের জীবনীশক্তি নষ্ট করে দেয়। এ রোগ হলে মানুষ বাঁচার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলে। বংশগত কারণ, জৈবিক কারণ, সামাজিক কারণ প্রভৃতি কারণে ডিপ্রেশন রোগের সূচনা ঘটতে পারে। বড় বড় রোগব্যাধির কারণেও ডিপ্রেশন হতে পারে। নারীরা ডিপ্রেশনে বেশি স্পর্শকাতর। তাদের ডিপ্রেশন হওয়ার আশঙ্কা পুরুষদের চেয়ে ৩ গুণ বেশি। ডিপ্রেশনের কারণে ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবনও এলোমেলো হয়ে পড়তে পারে। ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় অলস প্রকৃতির হয়ে যান। তার দ্বারা তখন কোনো দায়িত্ব পালন করা কঠিন ব্যবহার হয়ে দাঁড়ায়। ডিপ্রেশনের কারণে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ায় ক্ষতিসাধিত হয়। রেজাল্ট খারাপ হয়। মেধাবী ছাত্রছাত্রীও ডিপ্রেশনের কারণে লেখাপড়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। স্কুল কলেজ তাদের কাছে তখন বোঝার মতো মনে হতে পারে। ডিপ্রেশনে আক্রান্ত স্ত্রী তার স্বামীর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। ফলে দাম্পত্য জীবনে দেখা দিতে পারে অবনিবনা। ডিপ্রেশনে আক্রান্ত স্ত্রী সেক্সের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলতে পারেন। সেক্স তার কাছে ঘৃণার বস্তু মনে হতে পারে। ফলে স্বামীর সান্নিধ্য থেকে তিনি দূরে দূরে একাকী থাকতে পারেন। এতে করে স্বামীর মনে রাগ-ক্ষোভ প্রভৃতির জন্ম হতে পারে। ফলে স্বামীর প্রতি তার ভালোবাসা হারাতে শুরু করে। পরিণামে মধুর দাম্পত্য জীবনেও বিষের মতো জ্বালার সৃষ্টি হতে পারে। দেখা দিতে পারে সংসার জীবনে ফাটল। ডিপ্রেশন এক ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। ডিপ্রেশনের কারণে বয়স্ক ব্যক্তিদের স্মৃতিশক্তির অভাব দেখা দিতে পারে। রোগ-বালাই, ব্যর্থতা, অসফলতা, বাধা-বিঘ্নতা, সম্পর্কের অবনতি, ডিভোর্স, বিচ্ছেদ, ভুল বোঝাবুঝি প্রভৃতি বিষয় ডিপ্রেশনের জন্য দেখা দিতে পারে। ডিপ্রেশনের রয়েছে অনেক অনেক উপসর্গ বা লক্ষণ। আবার কার কার ক্ষেত্রে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য লক্ষণ নাও থাকতে পারে। তখন তাদের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় কিছুটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডিপ্রেশনের কিছু উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা যায়।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: