২৩ জানু, ২০১৫

ঢাবিতে ১৭ দিনে প্রায় ২০০ ককটেল বিস্ফোরণ!

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সুষ্ঠু সংলাপ ও জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে বিএনপি-জামায়াত ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধে সমগ্র দেশে বিরাজ করছে অচলাবস্থা। প্রতিদিনই কেউ না কেউ দগ্ধ হচ্ছে ককটেল বা পেট্রোল বোমায়। ঠিক সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরাও রয়েছে চরম আতঙ্কে। প্রতিদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথাও না কোথাও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গড়ে প্রায় ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এ হিসেবে টানা অবরোধের ১৭ দিনে ঢাবি এলাকায় প্রায় ২০০টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৩০টি ককটেল।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রলীগের নেতাসহ প্রায় তিনজন আহত হয়েছে। এসময় ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।

প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল ছাত্রলীগের নেতারা হাকিম চত্বরে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে একটি মোটর সাইকেলে করে কয়েকজন যুবক ছাত্রলীগ নেতাদের লক্ষ্য করে ককটেল ছুড়ে মারে। এতে তিনজন আহত হয়। এদের একজন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি বিষয়ক উপসম্পাদক জহিরুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদ ও দোকান কর্মচারী ফারুক। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় টিএসসিতে ককটেল বিস্ফোরণে এক রিকশা চালক গুরুতর আহত হয়। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত মঙ্গলবার জোর নিরাপত্তার মধ্যে ঢাবির ৪৯তম সমাবর্তন চলাকালে কলা ভবন থেকে ৫টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। একই দিন সন্ধ্যায় পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সামনে বিস্ফোরণ ঘটে আরও তিনটি ককটেলের।

এর আগের দিন সোমবার কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাশে হাকিম চত্বরে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে রিকশাচালকসহ তিনজন আহত হয়। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণে ঘটনায় অন্তত ৫ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা জানা গেছে।

এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে। সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করে কখন কোন দিক থেকে ককটেল এসে গায়ে পড়ে।

হলে সিট না পেয়ে বাহিরে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের শিক্ষার্থী ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, 'জীবনটাকে হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হই। সুস্থভাবে ঘরে ফিরতে পারব কিনা জানি না। আগে ক্যাম্পাসটাকে নিরাপদ মনে করতাম। এখন এই স্থানটা হয়ে উঠেছে আরো ভয়াবহ।'

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি যে শুধু বাহির থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে তা নয়। হলগুলোও এখন নিরাপদ নয়। গত ৫ জানুয়ারির পর থেকে বঙ্গবন্ধু হলের পিছনে তিন দিনে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ওই হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ককটেল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বঙ্গবন্ধু হলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যাপারে হলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াজ আল রিযাদ বলেন,  '৫ জানুয়ারির পূর্বে হলে কোনো ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। ৫ জানুয়ারিতে যে ককটেলটি বিস্ফোরিত হয় তা মূলত বাহির থেকে মারা হয়েছিল। এটি ছাত্রদল বা শিবিরের কর্মীরা ঘটিয়েছে। আর ছাত্রদল শিবিরের যেকোন নাশকতা প্রতিরোধে আমরা সদা তৎপর রয়েছি।'

ককটেল আতঙ্কে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা, রোকেয়া হলের সামনে, শামসুন্নাহার হলের সামনে, পলাশী, নীলক্ষেত, জহুরুল হক হলের সামনে, ভিসি চত্বর, ফুলার রোড, উদয়ন স্কুলের সামনে, শহীদ মিনার এলাকা, দোয়েল চত্বর, জিমনেসিয়াম এলাকা, কাঁটাবনের কোল ঘেঁষে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পশ্চাৎ ভাগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে অবস্থান করছে ছাত্রলীগ। এসকল কর্মকাণ্ড ছাত্রলীগই করছে। ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন একটি স্ট্যান্ডারলেস প্রশাসন। ভিসি যা করছেন শুধু সরকারকে সন্তুষ্ট করার জন্য।

ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ বলেন, ছাত্রদল টোকাইদের টাকা দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে। আর আমরা সব সময় তৎপর রয়েছি ছাত্রদলের যে কোন নাশকতা ঠেকাতে।

তিনি আরো বলেন, হঠাৎ করে মোটরসাইকেলে এসে ককটেল মেরে চলে যায়, যার কারণে তাদের ধরতে পারছিনা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রফেসর এ এম আমজাদ আলী বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলেই তিনি জানান। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রক্টরিয়াল বডি তৎপর রয়েছে। এছাড়া যারা এসব কাজ করছে তাদের আটক করার জন্য পুলিশকে সর্বোচ্চ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: