৩০ জানু, ২০১৫

যশোরকে বিভাগ হিসেবে দেখতে চাই যশোরবাসী

যশোর জেলাকে বিভাগ হিসেবে দেখতে চাই যশোরবাসী। যশোর জেলা অতী প্রাচীন শহর। অতীতে যশোর নামে আগে একটি রাজ্য ছিল যার ইতিহাস আরো প্রাচীন। অবিভক্ত বাংলার প্রথম জেলা যশোর। যেখানে প্রায় ৩০০০ বছর পূর্বে মিশরীয়রা ভৈরব নদীর তীরে বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে তোলে। তখন থেকে এ যশোরের বুকে গড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রাচীন সভ্যতা, তৈরী হয়েছে নতুন নতুন ইতিহাস। বিভিন্ন রাজার আমলে যশোর ছিল প্রধান রাজধানী। দক্ষিণবঙ্গে হওয়ায় যশোর জেলাটি বিভিন্ন নদী খাল দ্বারা পরিবেষ্টিত। প্রচীনকালে বিভিন্ন দরবেশ পীর ফকির আউলিয়াদের পদচারণায় মুখরিত ছিল যশোর।
জানা যায়, যশোর জেলা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে ১৭৮১ সালে। যেটা খুলনা বিভাগ এমনকি খুলনা জেলা হওয়ারও অনেক আগে। এবং তারও আগে ১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে যশোর কিন্তু একটি রাজ্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। যশোর পৌরসভা ঘোষিত হয় ১৮৬৪ সালে। আর আমরা যশোরবাসীরা এতোটাই ভাগ্যবান যে একমত্র যশোরই হলো বাংলাদেশের প্রথম জেলা এবং এটি বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল জেলাও। যদি শিক্ষার কথা বলি, তাহলে আগেই বলি যশোরে শিক্ষার হার ৭০%। আমাদের যশোরে এমন একটা স্কুল আছে যেটি পৃথিবীখ্যাত সেই ব্রিটিশ আমল থেকে, যশোর জিলা স্কুল। যশোর জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৩৮ সালে। এছাড়াও আমাদের যশোরে আছে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর নাম করা অসংখ্য স্কুল কলেজ এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়। আছে একটি মেডিকেল কলেজ, একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। যশোর পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৪ সালে। এ যশোরেই জন্ম হয়েছে অসংখ্য জ্ঞানী ও গুনী মানুষের যার উদাহরণ- প্রমথ চৌধুরী, মাইকেল মধুসুদনের মত ব্যক্তিরা।
আর যশোরে কথা কি বলব? বলে তো শেষ হবে না। যশোরের কই, যশোরের খেজুরের রস, মনিহার সিনেমা হল, যশোর রোড এছাড়াও যশোরে এমন অনেক বস্তু আছে যেটা শুধু বাংলাদেশ না, পুরো পৃথিবী জুড়ে সমাদৃত। যশোরের গ্রাম গুলো অসম্ভব সুন্দর এবং সবুজে সবুজে ভরা। মোট কথা বাংলাদেশের অসম্ভব সুন্দর একটি জেলা যশোর, যার তুলনা সে নিজে। ফলে একবার যে যশোরে এসেছে তার জীবনের কিছু সময় পার করেছে, তাদের অনেকেই ছেড়ে যেতে পারেনি যশোর। এমনই মায়ার ডোরে বাধতে পারে যশোর। যশোরের মানুষগুলোর কাছে যশোর একটি স্বর্গ তুলনীয়।
১৭৮১ সালের ৭ জুন যশোরকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করার পর প্রথম ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর ছিলেন মি. ট্রিলম্যান হেংকেল। পরে ১৭৮৬ সালে যশোর একটি পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। বৃটিশ ভারতের প্রথম জেলা হিসেবে যশোরের অধীনে বর্তমান খুলনা, ফরিদপুর, পাবনা, নদীয়া ও ২৪ পরগনা জেলার অধিকাংশ এলাকা অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৮৮৫ সালে যশোর ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড গঠনের সময় যশোররের মহকুমা ছিল ৫টি। যশোর সদর, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও বনগাঁ। আয়তন ছিল ২৯০৪ বর্গমাইল। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় বনগাঁ মহকুমা ভারতের অন্তর্ভূক্ত হয়। তবে বনগাঁ মহকুমার শার্শা ও মহেশপুর থানা যশোরের মধ্যে থেকে যায়। পরবর্তীকালে ১৯৬০ সালে যশোরের নড়াইল মহকুমার আলফাডাঙ্গা থানা ও মাগুরা মহকুমার মহম্মদপুর থানার অংশবিশেষ ফরিদপুরের সাথে যুক্ত হয়। ১৯৮৪ সালে নড়াইল, মাগুরা, ও ঝিনাইদহ মহকুমা পৃথক পৃথক জেলার রূপান্তরের কারণে যশোর জেলার মানচিত্র আরও একবার পরিবর্তিত হয়।
যশোর তার নিজেস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে স্বক্রীয় কালের ধারায় উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশের মুখ। বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা জেলা যশোর। আর এই শত্রুমুক্ত জন্মভূমির মাটিতে সরকার প্রধানের ভাষণ দেয়া প্রথম জেলা। নীল বিদ্রোহ, বৃটিশ বিরোধী ভারত ছাড় আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, বিধাব বিবাহ আন্দোলন, সতীদাহ প্রথা বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলনের সুতিকাগার এ যশোর। দক্ষিণ বঙ্গের সবজির ভান্ডর হিসাবে খ্যাত।
এবি নিউজ ২৪ 

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: