২৬ জানু, ২০১৫

যশোর রোড ও কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ

'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড' এই কবিতাটি লিখেছিলেন পৃথিবীর অন্যতম কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ। যশোর রোড নিয়ে গান গেয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান শিল্পী মৌসুমী ভৌমিক। ঐতিহাসিক যশোর রোডের আরো অনেক ইতিহাস রয়েছে। সেই ইতিহাস ছায়ার আর মায়ার। যশোর থেকে নদীয়ার গঙ্গাঘাট পর্যন্ত ৮০ কি. মি. সড়কের ১৬৮ বছর আগে রোপিত প্রবীণ রেইন্ট্রি বৃক্ষগুলো ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। রেইন্ট্রির ছায়া আর ফুল এখনো অনেককে আবেগাপ্লুত করে। সত্যিকারের গল্প হচ্ছে, যশোরের জমিদার কালী পোদ্দারের মা গঙ্গাস্নানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু কালী পোদ্দার কৃপণ জমিদার। এ কারণে বজরার মাঝি কালীর মাকে বজরায় উঠতে দেয়নি। মাঝি বলেছে, 'তোমাকে নিলে কড়ি পাওয়া যাবে না।' মা মন খারাপ করে বাড়ি ফিরে এ কথা কালী পোদ্দারকে জানান।

যশোর রোড ও কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ

কালী আবেগতাড়িত হন। তিনি মা গঙ্গাস্নানে যাবেন এ জন্য সড়ক নির্মাণের ব্রত গ্রহণ করেন। ১৮৪০ সালে যশোর শহরের বকচর থেকে ভারতের নদীয়ার গঙ্গাঘাট পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেন। হাজার হাজার শ্রমিক রাত-দিন কাজ করে ১৮৪২ সালে সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ করেন। সে সময় সড়ক নির্মাণে দুই লাখ ৫৮ হাজার কড়ি ব্যয় হয়েছিল। এরপর মা ছায়ায় ছায়ায় গঙ্গাস্নানে যাবেন এ জন্য রাস্তার দুই ধারে কালীবাবু বিদেশ থেকে এনে অতিবর্ধনশীল রেইন্ট্রি বৃক্ষের চারা রোপণ করেন। সেই বৃক্ষগুলো যশোর-বেনাপোল রোডকে এখনো ছায়া দিচ্ছে। যশোর থেকে কলকাতা কালীবাবুর এই রাস্তার নাম 'যশোর রোড'। যশোর রোডের এই গাছের ছায়ায় ১৯৭১ সালে লাখ লাখ শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছিল। শরণার্থী শিবিরের অসহায় এসব মানুষের দুর্দশা দেখার জন্য আমেরিকা থেকে ছুটে এসেছিলেন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ। তিনি তিন দিন বসে দীর্ঘ কবিতা লেখেন, 'সেপ্টেম্বর আন যশোর রোড'। কবিতাটিতে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে উপস্থাপন করেছেন। শরণার্থীদের দুঃখ-কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন। এই কবিতা পড়ে কবি শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছেন। ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর এই সড়ক দিয়ে প্রথম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম শত্রুমুক্ত যশোর শহরে আসেন কলকাতা থেকে। তাঁরা যশোর টাউন হল মাঠে জনসভা করেন। এটিই বাংলাদেশ সরকারের প্রথম বিজয় সমাবেশ। এরপর এই পথে মুক্তিযোদ্ধা, মিত্র বাহিনী বাংলাদেশের বিজয় পতাকা উড়িয়ে ছুটে এসেছে। পরবর্তী সময়ে সেই পতাকা পত্পত্ করে সারা বাংলাদেশে উড়েছে। এ কারণে যশোর রোডটি ঐতিহাসিক। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই রোডের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।


SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: