২৮ জানু, ২০১৫

সাগরদাঁড়ির মধুমেলায় চলছে অশ্লিল নৃত্য

 কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে মধুমেলায় যাদু প্রদর্শনীর নামে চলছে অশ্লিল নৃত্য আর জুয়ার আসর।। যে কারনে এলাকাবাসির মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া মেলার আশ পাশের এলাকা জুড়ে অসংখ্য  জুয়ার আসর বসানো হয়েছে মেলা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বলে এলাকবাসি জানায়। আইন প্রয়োগকারি সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতে এ ধরনের আয়োজন চলায় এলাকাবাসি প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না।

মঙ্গলবার রাতে মেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ৮/৯টি প্যান্ডেলে যাদু প্রদর্শনীর নামে ৪০/৫০ টাকায় টিকিট কেটে ভেতরে অর্ধনগ্ন অশ্লীল নারী নৃত্য প্রদর্শনী চলছে। আর উঠতি বয়সী তরুণরা প্যান্ডেলগুলোতে হুমড়ী খেয়ে পড়ছে। অথচ এই প্যান্ডেলগুলোর কোন প্রশাসনিক অনুমতি নেই। গত ২৩জানুয়ারি থেকে ৭দিনব্যাপি সাগরদাঁড়িতে মধুমেলা শুরু হয়েছে, মেলা চলবে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত।মেলায় যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল অশ্লিলতা বন্ধে কাগজে কলমে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়। যেমন, টিকিট কেটে যাত্রাপালার আড়ালে অশ্লীল নারী নৃত্য, পুতুল নাচ, ভ্যারাইটি শো ও যাদু প্রদর্শনীর নামে উলঙ্গ নারী শরীর প্রদর্শন ইত্যাদি বন্ধে জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

তারপরও যাত্রা, যাদু প্রদর্শনী ও ভ্যারাইটি শোর নামে চলছে চরম অশ্লিলতা। সরেজমিন দেখাগেছে, প্রশাসনিক অনুমতি না নিয়ে অবৈধ ৯টি প্যান্ডেল তৈরী করা হয়েছে শুধুমাত্র উলঙ্গ নারী শরীর প্রদর্শনী করে উঠতি বয়সি কিশোর, যুবকের পকেট কাটার জন্য।
মঙ্গলবার রাতে একটি যাদু প্রদর্শনী প্যান্ডেলের ভেতর অশ্লীল নারী নৃত্যের ছবি তুলতেই দ্রুত নাচ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে কেশবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইদ মোমেন মজুমদার পুলিশ নিয়ে দ্রুত প্যান্ডেলটি বন্ধ করে দেন।

তিনি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার সেখানে অশ্লিল নারী নৃত্য শুরু হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে, মধুসূদন একাডেমির একজন কবি ও মধু প্রেমিক জানান, যাদু প্রদর্শনী সাইনবোর্ড সর্বস্ব, প্রকৃতপক্ষে ভেতরে অর্ধনগ্ন, উলঙ্গ নৃত্য চলছে। এবং তা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই। আর প্রকাশ্যে জুয়ার আসর গুলোতে কেশবপুর উপজেলার বাইরে থেকে আসা জুয়াড়ীরাও অংশ নিচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুতুলনাচ প্যান্ডেলের এক পরিচালক জানান, প্রতি রাতে ইজারাদার বাদে পুলিশ প্রশাসনকে তের হাজার টাকা দিয়ে শো চালাতে হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ প্রশাসন মেলাকেন্দ্রিক ব্যস্ত থাকায় এলাকায় চুরি ডাকাতির মতো ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারী সাগরদাড়ি শেখপুরা গ্রামের পত্রিকা বিক্রেতা আতিয়ার রহমানের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘঠিত হয়। ডাকাতরা তার বাড়ির  গ্রিল কেটে দুইলক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে আতিয়ার রহমান জানান।এবারের মেলা শামীম রেজার নামে জনৈক ব্যক্তি নামে ক্রয় করা হলেও মূলত তা পরিচালনা করছেন, ক্ষমতাসীনদলের  ওহাবুজ্জামান ঝন্টু ও উপজেলার ২নং সাগড়দাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহাদাৎ হোসেন বলে সুত্র জানায়।

এব্যাপারে  মধুমেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ রায়হান কবির জানান, ইতোমধ্যে আমরা বিষয়টি শুনেছি, কিন্তু বন্ধ করতে পারছিনা। তিনি আরও জানান, আজ (বুধবার) থেকে ৩ জন ম্যাজিষ্ট্রেট সার্বক্ষনিক দায়িত্বে থেকে প্রতিটি প্যান্ডেলে অশ্লীলতা বন্ধের চেষ্টা করবেন। প্রশাসনিক অনুমতি ব্যতিরেকে অতিরিক্ত ৭টি প্যান্ডেল কি ভাবে তৈরী হলো এ প্রশ্নের কোন সদুত্তোর পাওয়া যায়নি।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: