৫ জানু, ২০১৫

দেশজুড়ে সহিংসতায় নিহত ৩

দেশজুড়ে সহিংসতায়  তিনজন নিহত ও অসংখ্য আহত হয়েছেন। সোমবার নাটরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে দুইজন ও রাজশাহীতে একজন মারা যায়।
এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি  জেলায় পুলিশ ও সরকারদলীয়  নেতাকর্মীদের সঙ্গে ২০ দলীয়  জোটের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন শতাধিক। দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগেরও খবর পাওয়া  গেছে দেশের বিভিন্ন  স্থান থেকে। আটক করা হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের অন্তত ২ শতাধিক নেতাকর্মীকে। ব্যুরো অফিস, জেলা ও উপজেলা সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
নাটোর:
জেলায় আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের  সংঘর্ষে রাকিব হোসেন ও রায়হান আলী নামে দুইজন নিহত হয়েছেন।আহত হয়েছেন আরো ১৫ জন। এই হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার নাটোর জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে ২০ দলীয় জোট। জেলা বিএনপি দাবি করেছে, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে গুলি করে দুই ছাত্রদল নেতা রাকিব হোসেন ও রায়হান আলীকে হত্যা করেছে।
নাটোর সদরের এমপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাজশাহী:
রাজশাহীর পুঠিয়ায় আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সঙ্গে বিএনপি  নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ চলাকালে গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ আহত হন অন্তত ২০ জন। নিহত ব্যক্তিকে নিজেদের কর্মী দাবি করে মঙ্গলবার রাজশাহী জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি। নিহত আব্দুল মজিদ (৪৫) চারঘাট উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের খয়মুদ্দিনের ছেলে। বানেশ্বর বাজারে তার দোকান রয়েছে।
চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামে ২০ দলীয় জোটের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকাল ৪টার কিছু সময় আগে নগরীর কাজীর দেউড়ি মোড়ে ২০ দলীয় জোট কর্মীদের সাথে পুলিশের বাকবিতণ্ডর জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে লাভলেন থেকে কাজীর দেউড়ি হয়ে আলমাস মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে ২ পুলিশ, দলীয় নেতাকর্মী ও পথচারীসহ শতাধিক আহত এবং একটি পিকআপ ভস্মীভূত হয়। সংঘর্ষের সময় আতঙ্কিত লোকজন এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকে।
কাজীর দেউড়ি মোড়ে দুর্বৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পুলিশ প্রথমে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। তবে সংঘর্ষ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে। আলমাস মোড় থেকে লাভ লেন পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এসময় দলীয় কর্মীরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। আউটার স্টেডিয়ামের পাশের ফুটপাতে রাখার একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
বিকাল ৪টার কিছু পরে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানকে গুলিবর্ষণ করতে করতে নাসিমন ভবনের সমাবেশস্থলে আসতে দেখা যায়। এসময় মহানগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ মঞ্চে দাঁড়িয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও মুহুর্তের মধ্যেই সমাবেশস্থল ফাঁকা হয়ে যায়। ২০ দলীয় জোট নেতারা ট্রাকের ওপর নির্মিত মঞ্চে বসে পড়ে আত্মরক্ষা করেন।
এদিকে ২০ দলীয় জোটের সমাবেশকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকে নগরীর পরিস্থিতি ছিল থমথমে। সড়কে যান চলাচল ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় কম। সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবেলায় নগরীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি করা হয়। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন সমাবেশের অনুমতি দিলেও পুলিশ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে সমাবেশে আসা লোকজনকে বাধা দিয়েছে। শহরের বাইরে থেকে বাস, ট্রাকে করে আসা বিএনপি জামায়াত কর্মীরা শহরে প্রবেশ করতে গিয়ে পুলিশের হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
খাগড়াছড়ি:
রামগড় সংবাদদাতা জানান, খাগড়াছড়িতে বিএনপি, আওয়ামীলীগ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখি সংঘর্ষে ২ সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের ৩৫ জন আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছে উভয়পক্ষের ৬ জন। শহরের মাষ্টারপাড়া,  ভাংগাব্রিজ, পেঙ্গুইন মোড় এলাকায় থেমে থেমে  ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। পুলিশ ৪৭ রাউন্ড গুলি ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। শহরে দুই ম্যাজিষ্ট্রেটসহ ১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আওয়ামীলীগ ও পুলিশী হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ ডেকেছে জেলা বিএনপি।
   
খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র আবু ইউসুফ চৌধুরী দাবী করেছে, পুলিশের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের হামলায় তাদের তিনজন গুলিবিদ্ধসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অনন্ত ১০ জন আহত হয়েছে।
 খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্না জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ ৪৭ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে।
   
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, শহরে ১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: