২১ ফেব, ২০১৪

ঘুরে আসুন যশোরের বিখ্যাত স্থান সমূহ

খুলনা বিভাগের প্রাচীন জনপদ যশোর। কপোতাক্ষ নদের তীরে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান। নকশিকাঁথা আর জামতলার রসগোল্লার জন্য প্রসিদ্ধ যশোর। এ ছাড়া এখানে আছে আরো কয়েকটি দর্শনীয় স্থান। যশোরে বিভিন্ন ধরনের শস্যের ফলন হয়। খেজুরের গুড়, যা পাটালি গুড় নামে পরিচিত। যশোর এই পাটালি গুঁড়ের জন্য বিখ্যাত।  
মাইকেল মধুসূদন দত্তর বাড়ি
যশোর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে কপোতাক্ষ নদে তীরে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি এ বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেন। কয়েকটি পুরনো দ্বিতল ও একতলা ভবন আছে এ বাড়িতে। বর্তমানে এ বাড়িতে একটি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জাদুঘরে আছে কবি পরিবারের ব্যবহৃত আসবাবপত্র। কবির জন্মদিনে এ গ্রামে বসে মধুসূদন মেলা। 
হাজী মুহম্মদ মুহসীনের ইমামবারা
সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে অবস্থিত ৩০০ বছরের পুরনো মুরালি ইমামবারা। এটি প্রতিষ্ঠা করেন হাজী মুহম্মদ মুহসীন। ইট দিয়ে নির্মিত আয়তাকার ভবনটি উত্তর-দক্ষিণে ৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৫০ ফুট। ভেতরের অংশে ১০টি পিলার দিয়ে তিন সারিতে বিভক্ত। পিলারের পলেস্তরার ওপর কালো কালি দিয়ে আরবি লিপিতে আল্লাহ, হাসান, হোসেন লেখা দৃষ্টিনন্দন ক্যালিগ্রাফি রয়েছে।
রাজবাড়ী
অতীতে যশোরে ছিল রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজত্ব। যশোর শহরের কাছেই রাজবাড়ী। যার অনেকটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। এখনো আছে একটি শিবমন্দির, দশ মহাবিদ্যা মন্দির, জোড়াজিং মন্দির। 
ভরত ভায়না
কেশবপুর উপজেলা থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বুড়িভদ্রা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। একটি প্রত্নস্থল ভরত ভায়না। ১৯২২ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। পাঁচ শতকের প্রাচীন একটি বৌদ্ধমন্দির আছে এখানে। ধারণা করা হয় ভরত নামের কোনো এক পৌরাণিক রাজা এ মন্দিরটি নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া গৌরীখোলা গ্রামে রয়েছে ভরত রাজার বাড়ি হিসেবে পরিচিত প্রাচীন কিছু স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ। যশোরে আছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ঘাঁটি ও বিমানবন্দর। যশোরের সবচেয়ে প্রাচীন ভবন যশোর কালেক্টরেটর বিল্ডিং। হামিদপুর গ্রামে আছে একটি প্রাচীন সানি মসজিদ। এটি একটি প্রাচীন স্থাপত্যকলা, যা মুসলিম স্থাপনার নিদর্শন।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সড়ক ও আকাশপথে যশোর যাওয়া যায়। আবার ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে খুলনা হয়ে যশোর যাওয়া যায়। যশোরের সাগরদাঁড়ি যেতে হলে যশোর থেকে সরাসরি বাসে যাওয়া যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে যেতে বাস, ট্যাক্সি ও রিকশা তো আছেই।
কোথায় থাকবেন
শহরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আবাসিক হোটেল। এসি ও নন এসি সব রকম সুবিধা এখানে আছে। সাগরদাঁড়িতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের একটি মোটেল আছে।
সূত্রঃ নয়া নিগন্ত

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: