১৯ ডিসেম্বর, ২০১২

যশোর হর্টিকালচার সেন্টারে গাছ আলুর উদ্ভাবন

  লাউ, শিম ও বরবটির মতো গাছআলুর উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে যশোর হর্টিকালচার সেন্টার। গোল আলু, মেটে আলু ও শাক আলু সাধারণত মাটির নীচে আবাদ ও উৎপাদন হয়ে থাকে। নতুন প্রযুক্তিতে এখন গাছে আলু উৎপাদন হচ্ছে। আগামী বছর যশোর হর্টিকালচার আরো ব্যাপকভাবে নতুন এই প্রযুক্তিতে আলু উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে। যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, গাছে হয় বলেই নাম দেয়া হয়েছে গাছআলু। এর ইংরেজি নাম এয়ার পটেটো। অবশ্য নতুন এই প্রযুক্তিটি গত বছর দেশের ৩৪টি জেলার ২০ হাজার বসতবাড়িতে গাছআলুর বীজ বপন করা হয়েছিল। যশোরের বিভিন্ন গ্রামে হর্টিকালচার সেন্টারের মাতৃবাগানে উৎপাদিত বীজ চাষিদের মাঝে সরবরাহ করা হয়। হর্টিকালচার সেন্টার সূত্র জানায়, এই আলু একটি বহুবর্ষজীবী লতা জাতীয় ফসল। বড় ও চওড়া পানের মত আকৃতির পাতা হয়। পশ্চিম আফ্রিকার ১৬ টি দেশে এই আলুর ব্যাপক চাষ হয়। গাছআলুর লতা ১৫০ ফুট উঁচুতে উঠতে পারে। লতা প্রতি দিন গড়ে আট ইঞ্চি লম্বা হয়। শীতকালে গাছটি মরে গিয়ে অদৃশ্য হয়। গ্রীষ্মের শুরুতে মাটির নিচের কন্দ এবং বুলবিল থেকে নতুন চারা বের  হয়। বর্ষার ভেতর গাছে ফল ধরে। প্রতিটি ফলের ওজন হয় ৫০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত। একটি গাছে ফল হয় প্রায় এক মণ। উর্বর বেলে দোঁয়াশ মাটিতে গাছ আলুর চাষ ভালো হয়। যশোর হর্টিকালচার সেন্টার গাছ আলু উৎপাদন করে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। সুত্রমতে,এই আলু চাষ করতে বাড়তি কোন জমির প্রয়োজন হয় না। বসতবাড়ির আনাচে-কানাচে গাছ-গাছালির মাঝেই উৎপাদন করা যায়। খরচ নেই বললেই চলে। সার ও রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। তাই গাছআলু সম্পূর্ণ বিষমুক্ত। খেতেও সুস্বাদু।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: