২৫ জানু, ২০১১

মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন কাহিনী




বাংলা সাহিত্যের অমর নাম মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোরের কেশবপুরে কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ির বিখ্যাত দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা রাজনারায়ণ দত্ত। মা জাহ্নবী দেবী। কবি শৈশবে মৌলভী খন্দকার মখমল সাহেবের কাছে বাংলা ও ফার্সি শিক্ষা লাভ করেন। ১৮৩৩ সালে সাগরদাঁড়ি ছেড়ে কলকাতার খিদিরপুর গমন করেন। সেখানে লালবাজার গ্রামার স্কুলে ইংরেজি, ল্যাটিন ও হীব্রু ভাষা শিক্ষা নেন। ১৮৩৭ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। ১৮৪২ সালে ইংরেজিতে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে 'স্ত্রীশিক্ষা' বিষয়ে প্রবন্ধ লিখে কলেজ থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৮৪৩ সালে তিনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে পিতৃগৃহ থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসন নেন। ১৮৪৮ সালে সাগরদাঁড়িতে আসেন। তারপর ভাগ্যান্বেষণে চলে যান মাদ্রাজ। ১৮৪৯ সালের এপ্রিলে ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যপটিভ লেডি' প্রকাশ হয়। ১৮৫১ সালে মায়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে কলকাতা যান, সেখানে পিতার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। ১৮৫২ সালে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাইস্কুল বিভাগে শিক্ষকতার চাকরি নেন। এরপর দৈনিক স্পেকটেটর পত্রিকায় সহ-সম্পাদক পদে নিযুক্ত হন। এ বছরই বের হয় পুস্তিকা 'দ্য এ্যাংলো সেক্সন অ্যান্ড দ্য হিন্দু'। ১৮৫৮ সালে 'শর্মিষ্ঠা নাটক' রচনার মাধ্যমে নাট্যান্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। প্রকাশিত হয় তার 'শর্মিষ্ঠা' ও 'পদ্মাবতী' নাটক। প্রকাশিত হয় বাংলা ভাষায় প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য'। ১৮৬১ সালের জানুয়ারিতে 'মেঘনাদবধ কাব্য' প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়। প্যারিসের ভার্সাই নগরীতে থাকাকালীন ১৮৬৪ সালে অর্থ সাহায্য চেয়ে ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে চিঠি লেখেন। আগস্টে বিদ্যাসাগরের পাঠানো টাকা পেয়ে সাময়িকভাবে অভাব মোচন হলে তিনি সনেট রচনায় মনোনিবেশ করেন। ১৮৬৬ সালের আগস্টে 'চতুর্দ্দশপদী কবিতাবলী' পুস্তক আকারে কলকাতা থেকে বের হয়। ১৮৬৯ সালের মে মাসে স্ত্রী হেনরিয়েটা ও পুত্র-কন্যাসহ কলকাতায় চলে আসেন। ১৮৭৩ সালের মে থেকে কবির স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতি হতে থাকে। স্ত্রী হেনরিয়েটা কঠিন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৬ জুন মারা যান এবং ২৯ জুন রবিবার বেলা ২টায় মারা যান মধুসূদন দত্ত।
বাংলাদেশ প্রতিদিন 

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: